মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নিখোঁজ এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে দুই ভাই নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
নিখোঁজের পর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল প্রায় পাঁচটার দিকে আট বছর বয়সী একটি মেয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে মাইকিংসহ নানা উপায়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সন্দেহ থেকে ঘটনার মোড়
এক পর্যায়ে শিশুটির এক আত্মীয় দাবি করেন, তিনি পন্নু মিয়ার ছোট ছেলে নাঈমকে শিশুটিকে নিয়ে যেতে দেখেছেন। পরে স্থানীয়রা নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে নাকি স্বীকার করে এবং জানায়, শিশুটি পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে রয়েছে।
মরদেহ উদ্ধারে ক্ষোভ বিস্ফোরণ
রাত প্রায় দশটার দিকে এলাকাবাসী ভুট্টাক্ষেতে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ পাওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অভিযুক্ত নাঈম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গণপিটুনিতে প্রাণহানি
এরপর উত্তেজিত জনতা পন্নু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাকে, তার ভাই ফজলু রহমান এবং ছেলে নজমুলকে ধরে নিয়ে আসে। পরে তাদের ওপর গণপিটুনি চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পন্নু মিয়া ও ফজলু রহমান মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় নজমুলকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের অবস্থান ও তদন্ত
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যায়।
এই ঘটনায় একদিকে যেমন একটি নিষ্পাপ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, অন্যদিকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা—দুইই নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















