০৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
২৫ জুলাই পর্যন্ত পাকিস্তাজুড়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, বন্যা ও জলাবদ্ধতার শঙ্কা করাচির ভ্যালিকা হাসপাতালে এইচআইভি ছড়িয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু, তদন্তে বরখাস্ত ৩৭ কর্মী বান্নুতে অভিযানে ২৪ সন্ত্রাসী নিহতের দাবি, অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা সারাক্ষণ রিপোর্ট। পাকিস্তানে জ্বালানির দাম আবার বাড়তে পারে, ডিজেলের লিটারে ৪০ রুপি পর্যন্ত বৃদ্ধির আশঙ্কা শাবানা মাহমুদই অর্থমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে, অ্যান্ডি বার্নহামের মন্ত্রিসভা নিয়ে জোর আলোচনা ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ওডিসি’ ঘিরে তুমুল আলোচনা, মহাকাব্যিক গল্পে নতুন মাত্রার প্রত্যাশা গ্রিফলসের প্লাজমা সংগ্রহ নিয়ে উদ্বেগ, ঝুঁকিপূর্ণ দাতাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়নি কোনো প্লাজমা মাসে তিনবারের বেশি কাউন্টার থেকে টাকা তুললে অতিরিক্ত ফি? এবিবির প্রস্তাবে বাড়ছে জনঅসন্তোষ শেয়ারবাজারে টানা চার কার্যদিবসের উত্থান থেমে দরপতন, কমেছে লেনদেন জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে নামলে বাংলাদেশের সামনে কী অপেক্ষা করছে?

“জয় বাংলা” স্লোগানের শক্তি

“জয় বাংলা” স্লোগান কবে থেকে বাঙালি দেওয়া শুরু করেছিল এ নিয়ে কিছু বিতর্ক আছে। তবে ১৯৬৯ সাল থেকে যে পূর্ববাংলার রাজপথ এ স্লোগানে কাঁপতে শুরু করে তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। ১৯৭০-এর নির্বাচনের অন্যতম স্লোগান ছিল ‘জয় বাংলা’। আর ১৯৭১-এ জয় বাংলা স্লোগান থেকে রূপান্তরিত হয় রণধ্বনিতে শুধু নয়, হাসিমুখে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার এক মহাশক্তিধর শব্দগুচ্ছে। এই দুটি শব্দ মৃত্যুকেও ভয়হীন করে দিত। শওকত ওসমানের জলাঙ্গী উপন্যাসের নায়িকার মতো অনেক শ্লীলতাহানির শিকার মা-বোনকে সেদিন যখন পাকিস্তানিরা গুলি করে মেরে ফেলেছে, তখনও তাদের মুখে ছিল এই মহাধ্বনি—জয় বাংলা।

তারপরে বাংলাদেশে জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে নানান ঘটনা ঘটেছে ইতিহাসের উত্থান-পতনে। তারপরেও সত্য হলো, যারা প্রকৃত বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী, যাদের বাংলা ও বাঙালি নিয়ে গর্ব আছে, যারা বাংলার অতীতকে নিজস্ব অতীত মনে করে, বাংলার জল-হাওয়াকে নিজের জল-হাওয়া মনে করে—যাদের জন্য রবীন্দ্রনাথ-নজরুল উত্তর আফ্রিকার, সিরিয়ার গানের সুরকে বাঙালিয়ানা দিয়ে গেছেন—তাদের কণ্ঠ থেকে জয় বাংলা কখনই যায়নি।

কিন্তু ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশের বাঙালি দেখতে পাচ্ছে জয় বাংলা স্লোগানকে বিশ্বব্যাপী বাঙালিরা কীভাবে নিজের হিসেবে গ্রহণ করছে। ২০২৬ এর এই সময়ে ভারতের বাঙালি অধ্যুষিত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে অনেক রাজনীতিবিদ, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে বাংলাদেশের এই স্লোগান “জয় বাংলা”। তাদের অন্যতম স্লোগান এখন “জয় বাংলা”। এমনকি সেখানে যারা কমিউনিস্ট তারাও এই বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্লোগান দিচ্ছে।

জয় বাংলা' শ্লোগান আর ধর্ম নিরপেক্ষতা নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে যেভাবে বিভক্তি এসেছে - BBC News বাংলা

পশ্চিমবঙ্গ ভারতের আর দশটি রাজ্যের মতো একটি রাজ্য। সেখানে নির্বাচনে কে জিতবে কে হারবে তা নিয়ে বাংলাদেশের বাঙালিদের কোনো চিন্তা করার প্রশ্ন আসে না। কিন্তু বাংলাদেশের স্লোগান যখন সীমানা পেরিয়ে যায় তখন সেটা বাঙালিরই বিজয়।

এর আগে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে থাকা বাঙালির মতো পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা বাংলাদেশের বাঙালির অর্জন, বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়ার দিন “২১ ফেব্রুয়ারি” পালন করেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের সঙ্গে ভারতের বাঙালিরাও অনেক স্থানে বাঙালি জাতিরাষ্ট্র স্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ও নিহত হওয়ার দিন পালন করেছে।

বাংলাদেশের বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠী ভালো থাকুক আর সংকটে থাকুক, সেটা বড় নয়—পৃথিবীর যে প্রান্তেই তাদের অর্জনকে উচ্চে তুলে ধরা হয়, নিশ্চয়ই সেটা বাংলাদেশের বাঙালি জাতীয়তাবাদীদের গর্ব। বাংলাদেশের বাঙালি জাতীয়তাবাদীদের গর্ব তাদের “জয় বাংলা” স্লোগানের এই সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়ার মতো বিজয় অর্জন।

জনপ্রিয় সংবাদ

২৫ জুলাই পর্যন্ত পাকিস্তাজুড়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, বন্যা ও জলাবদ্ধতার শঙ্কা

“জয় বাংলা” স্লোগানের শক্তি

০৫:০২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

“জয় বাংলা” স্লোগান কবে থেকে বাঙালি দেওয়া শুরু করেছিল এ নিয়ে কিছু বিতর্ক আছে। তবে ১৯৬৯ সাল থেকে যে পূর্ববাংলার রাজপথ এ স্লোগানে কাঁপতে শুরু করে তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। ১৯৭০-এর নির্বাচনের অন্যতম স্লোগান ছিল ‘জয় বাংলা’। আর ১৯৭১-এ জয় বাংলা স্লোগান থেকে রূপান্তরিত হয় রণধ্বনিতে শুধু নয়, হাসিমুখে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার এক মহাশক্তিধর শব্দগুচ্ছে। এই দুটি শব্দ মৃত্যুকেও ভয়হীন করে দিত। শওকত ওসমানের জলাঙ্গী উপন্যাসের নায়িকার মতো অনেক শ্লীলতাহানির শিকার মা-বোনকে সেদিন যখন পাকিস্তানিরা গুলি করে মেরে ফেলেছে, তখনও তাদের মুখে ছিল এই মহাধ্বনি—জয় বাংলা।

তারপরে বাংলাদেশে জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে নানান ঘটনা ঘটেছে ইতিহাসের উত্থান-পতনে। তারপরেও সত্য হলো, যারা প্রকৃত বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী, যাদের বাংলা ও বাঙালি নিয়ে গর্ব আছে, যারা বাংলার অতীতকে নিজস্ব অতীত মনে করে, বাংলার জল-হাওয়াকে নিজের জল-হাওয়া মনে করে—যাদের জন্য রবীন্দ্রনাথ-নজরুল উত্তর আফ্রিকার, সিরিয়ার গানের সুরকে বাঙালিয়ানা দিয়ে গেছেন—তাদের কণ্ঠ থেকে জয় বাংলা কখনই যায়নি।

কিন্তু ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশের বাঙালি দেখতে পাচ্ছে জয় বাংলা স্লোগানকে বিশ্বব্যাপী বাঙালিরা কীভাবে নিজের হিসেবে গ্রহণ করছে। ২০২৬ এর এই সময়ে ভারতের বাঙালি অধ্যুষিত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে অনেক রাজনীতিবিদ, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে বাংলাদেশের এই স্লোগান “জয় বাংলা”। তাদের অন্যতম স্লোগান এখন “জয় বাংলা”। এমনকি সেখানে যারা কমিউনিস্ট তারাও এই বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্লোগান দিচ্ছে।

জয় বাংলা' শ্লোগান আর ধর্ম নিরপেক্ষতা নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে যেভাবে বিভক্তি এসেছে - BBC News বাংলা

পশ্চিমবঙ্গ ভারতের আর দশটি রাজ্যের মতো একটি রাজ্য। সেখানে নির্বাচনে কে জিতবে কে হারবে তা নিয়ে বাংলাদেশের বাঙালিদের কোনো চিন্তা করার প্রশ্ন আসে না। কিন্তু বাংলাদেশের স্লোগান যখন সীমানা পেরিয়ে যায় তখন সেটা বাঙালিরই বিজয়।

এর আগে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে থাকা বাঙালির মতো পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা বাংলাদেশের বাঙালির অর্জন, বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়ার দিন “২১ ফেব্রুয়ারি” পালন করেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের সঙ্গে ভারতের বাঙালিরাও অনেক স্থানে বাঙালি জাতিরাষ্ট্র স্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ও নিহত হওয়ার দিন পালন করেছে।

বাংলাদেশের বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠী ভালো থাকুক আর সংকটে থাকুক, সেটা বড় নয়—পৃথিবীর যে প্রান্তেই তাদের অর্জনকে উচ্চে তুলে ধরা হয়, নিশ্চয়ই সেটা বাংলাদেশের বাঙালি জাতীয়তাবাদীদের গর্ব। বাংলাদেশের বাঙালি জাতীয়তাবাদীদের গর্ব তাদের “জয় বাংলা” স্লোগানের এই সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়ার মতো বিজয় অর্জন।