কানাডায় বাণিজ্যিকভাবে রক্তের প্লাজমা সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিফলস জানিয়েছে, স্বাস্থ্যগত কারণে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত কোনো দাতার কাছ থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ ঘটনায় কোনো দাতা বা রোগীর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েনি।
কী নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পরিদর্শনের সময় গ্রিফলসের কার্যক্রমে কয়েকটি অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিরল ও প্রাণঘাতী মস্তিষ্কজনিত রোগ ক্রয়ৎসফেল্ড-ইয়াকব রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তিকে ভুলবশত প্লাজমা দানের উপযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
তবে গ্রিফলস জানিয়েছে, যাচাই শেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ওই ব্যক্তিদের কাছ থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো প্লাজমা সংগ্রহ করা হয়নি। ফলে ওষুধ উৎপাদন বা রোগীর চিকিৎসায় ঝুঁকিপূর্ণ কোনো প্লাজমা ব্যবহারের প্রশ্নই ওঠে না।
পরিদর্শনে উঠে এলো আরও অসঙ্গতি
পরিদর্শন প্রতিবেদনে প্লাজমা সংগ্রহ কেন্দ্রগুলোর পরিচালনা নিয়েও বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। কিছু কেন্দ্রে সব সময় চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি। পাশাপাশি কর্মীর তুলনায় অতিরিক্ত দাতার উপস্থিতি এবং পর্যাপ্ত তদারকির ঘাটতির বিষয়ও নজরে আসে।
এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ সংগ্রহকেন্দ্রের লাইসেন্সে অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মী তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি একই সময়ে কেন্দ্রে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি দাতা রাখা যাবে না।
দাতা নির্বাচনের নিয়মে পরিবর্তন
গত কয়েক বছরে বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্লাজমা ও রক্তদানের কিছু পুরোনো বিধিনিষেধে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে গবাদিপশুর রোগসংক্রান্ত আশঙ্কার কারণে যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও ফ্রান্সে দীর্ঘ সময় বসবাসকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রক্ত ও প্লাজমা দানে সীমাবদ্ধতা ছিল।
পরবর্তীতে ঝুঁকি অত্যন্ত কম বলে বিবেচিত হওয়ায় কিছু নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। তবে যাদের পরিবারে সংশ্লিষ্ট রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এখনো বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর
গ্রিফলস জানিয়েছে, তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় একাধিক নিরাপত্তা ধাপ রয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে মানদণ্ড পূরণ না করা কোনো প্লাজমা ওষুধ তৈরির প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয় না।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, পরিদর্শনে চিহ্নিত ত্রুটিগুলো ইতোমধ্যে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সব কার্যক্রম আরও কঠোরভাবে বিধিমালা মেনে পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হবে এবং প্রয়োজন হলে আবারও পরিদর্শন চালানো হবে, যাতে নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণের সব শর্ত যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়।
গ্রিফলসের প্লাজমা সংগ্রহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ দাতাদের কাছ থেকে কোনো প্লাজমা নেওয়া হয়নি। পরিদর্শনের পর তদারকি জোরদারে নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
Sarakhon Report 



















