বাজেট-সচেতন ক্রেতাদের আবারও নিজেদের পণ্যের দিকে আকৃষ্ট করতে নতুন কৌশল নিয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জেনারেল মিলস। উৎপাদন ব্যয় কমানো, নতুন পণ্য বাজারে আনা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী অর্থবছরে আরও ভালো ফলের আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সাম্প্রতিক আর্থিক ফল প্রকাশের পর কোম্পানিটির শেয়ারের দাম একদিনেই ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যদিও গত এক বছরে শেয়ারের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল, তবু নতুন পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে।
নতুন কৌশলে ভরসা
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতির চাপে অনেক ভোক্তা কম খরচে কেনাকাটার দিকে ঝুঁকেছেন। সেই বাস্তবতায় নিজেদের অনেক অতিরিক্ত ব্যয় বহন করে বিভিন্ন পণ্যের দাম কমানো হয়েছে। এখন সেই মূল্য সমন্বয়ের কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় নতুন পণ্য ও কার্যকর বিপণন কৌশলে জোর দেওয়া হবে।
বিশেষ করে বেশি প্রোটিন ও আঁশসমৃদ্ধ খাবারের চাহিদা মাথায় রেখে নতুন পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শক্তিশালী স্বাদ এবং স্বাস্থ্যকর উপাদানসমৃদ্ধ খাদ্যও অগ্রাধিকার পাবে।
পোষা প্রাণীর খাবারে বাড়তি বিনিয়োগ
জেনারেল মিলস মনে করছে, অনেক ভোক্তা নিজেদের অন্যান্য খরচ কমালেও পোষা প্রাণীর জন্য ব্যয় করতে আগ্রহী থাকছেন। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি তাদের পোষা প্রাণীর খাদ্য ব্যবসায় আরও বিনিয়োগ করছে।
সর্বশেষ প্রান্তিকে উত্তর আমেরিকায় পোষা প্রাণীর খাদ্য বিক্রি বেড়েছে। তবে একই সময়ে সাধারণ খুচরা খাদ্যপণ্যের বিক্রি কিছুটা কমেছে।
ব্যয় কমানোর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য
প্রতিষ্ঠানটি ২০৩০ অর্থবছরের মধ্যে মোট ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় সাশ্রয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মাধ্যমে পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আর্থিক ফলাফলে মিশ্র চিত্র
মে মাসে শেষ হওয়া প্রান্তিকে জেনারেল মিলসের নিট লোকসান দাঁড়ায় ২০১ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ২৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার মুনাফা করেছিল।
তবে এই লোকসানের বড় অংশই এককালীন হিসাবজনিত সমন্বয়ের কারণে হয়েছে। এসব ব্যতিক্রমী ব্যয় বাদ দিলে শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় দাঁড়িয়েছে ৯৫ সেন্ট, যা বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো।
একই সময়ে কোম্পানির মোট আয় ১ শতাংশ বেড়ে ৪৬১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়েও কিছুটা বেশি।
সামনের বছরেও চ্যালেঞ্জ
প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন অর্থবছরেও ভোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ অব্যাহত থাকবে। ফলে মানুষ ছাড়ে পণ্য কেনার প্রবণতা ধরে রাখবেন এবং সাশ্রয়ের জন্য ছোট-বড় প্যাকেটের মধ্যে তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
এ অবস্থায় সামগ্রিক বাজারের প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদি গড় হারের নিচে থাকতে পারে বলেও ধারণা করছে কোম্পানিটি।
তবু ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, নতুন পণ্য এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে আগামী অর্থবছরে আরও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরতে পারবে বলে আশাবাদী জেনারেল মিলস।
নতুন পণ্য, কম দামে ক্রেতা ফেরানোর পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যে জোর দিয়ে আগামী অর্থবছরে আশাবাদী জেনারেল মিলস।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















