রাজধানীর আজিমপুর সরকারি আবাসন এলাকার ২৭ নম্বর সরকারি কলোনিতে সরকারি জায়গা দখল করে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে লালবাগ থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউর আলম সুইটের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
অভিযোগ কী?
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি আবাসন এলাকার একটি জায়গায় স্থায়ীভাবে প্যান্ডেল টানিয়ে ক্লাবসদৃশ স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে নিয়মিত রাজনৈতিক বৈঠক, দলীয় আলোচনা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবাসিক এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, ওই স্থাপনায় বিভিন্ন সময় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। ফলে কলোনির অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
বাসিন্দাদের উদ্বেগ
কলোনিবাসীদের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের নিরাপদ বসবাসের জন্য নির্ধারিত এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ায় আবাসিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও প্রবীণদের চলাচলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আজিমপুর গভর্নমেন্ট (দক্ষিণ) কল্যাণ সমিতির সাবেক এক আহ্বায়ক বলেন, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা বৈঠক হলে প্রায়ই রাস্তা বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয় এবং বহিরাগতদের উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্লাবের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড এবং মাদকসেবনের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়ভাবে শোনা যায়। ফলে সন্ধ্যার পর পরিবার নিয়ে মাঠে হাঁটাচলা করতেও অনেকে স্বস্তি বোধ করেন না।

অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ
স্থানীয়দের আরও দাবি, ক্লাবসদৃশ স্থাপনাটিতে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে সরাসরি অবৈধ সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।
আরেক বাসিন্দা জানান, প্রায় ৪১৮টি পরিবার এই সরকারি কলোনিতে বসবাস করে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকেই ভয় পান। পরিবার ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অধিকাংশ বাসিন্দা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে চান না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
একজন শিক্ষার্থীর ভাষ্য, অতীতের বিভিন্ন সরকার আমলেও সরকারি আবাসিক এলাকার ভেতরে রাজনৈতিক ক্লাব দেখেননি। তার মতে, সরকারি আবাসনের নিরপেক্ষ পরিবেশের সঙ্গে এমন কার্যক্রম সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেল (ঢাকা)-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. উজির আলী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক ক্লাব করার সুযোগ নেই। তবে আবাসিক এলাকার এলোটিদের বিনোদনের জন্য ক্লাব থাকতে পারে। যদি রাজনৈতিক ক্লাব পরিচালনার অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে গণপূর্ত বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
অভিযুক্তের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে লালবাগ থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউর আলম সুইট বলেন, তিনি ওই সরকারি কলোনির একজন এলোটি। রাজনৈতিক ক্লাব পরিচালনার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তার দাবি, নির্বাচনের সময় সেখানে ব্যানার টানানো হয়েছিল। তিনি ওই স্থানে বসেন না এবং রাজনৈতিক ক্লাব পরিচালনার অভিযোগ সঠিক নয়।
সরকারি আবাসনে রাজনৈতিক ক্লাব ও অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত, সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা এবং আবাসিক এলাকার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সরকারি আবাসনে জায়গা দখল ও বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে বিএনপি নেতাকে ঘিরে বিতর্ক। তদন্ত ও দখলমুক্ত করার দাবি স্থানীয়দের।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















