০৮:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে গুলি: পাঁচলাইশে যুবক নিহত, তদন্তে নেমেছে পুলিশ আপনার অতীতই কি বার্ধক্যে চোখ ভিজিয়ে দেয়? স্মৃতি, আবেগ আর জীবনের শেষ অধ্যায়ের নীরব ভাষা ১৭ দিন পর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে উধাও ৩ যুবক, তাদের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা রেমিট্যান্সে ছন্দপতন, জুনে আট মাসের সর্বনিম্ন প্রবাসী আয় বিজয়ের ভক্তের হাতে ‘অপহরণের’ অভিজ্ঞতা জানালেন ছেলে জেসন সঞ্জয় জাপানের বার্ধক্যই বিদেশি স্টার্টআপের নতুন সুযোগ, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তিতে বাড়ছে আগ্রহ তামিলনাড়ুতে সরকার ভাঙার চেষ্টার অভিযোগ, টিভিকে বিধায়ককে ৩৫ কোটি রুপির প্রস্তাবের দাবি খামেনির জানাজায় ভারতের বিজেপি ও কংগ্রেস নেতাদের আমন্ত্রণ, দিল্লির প্রতিনিধিদলও যাচ্ছে ইরানে ভারতে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, সেনা সদস্যদের মৃত্যুর তথ্য গোপনের অভিযোগে তীব্র বিতর্ক পাকিস্তানে জুনে কমেছে সন্ত্রাসী হামলা, তবু উচ্চপ্রোফাইল হামলার উদ্বেগ কাটেনি

রাশিয়ায় যুদ্ধের বাস্তবতা বাড়লেও ঝুঁকি আড়াল করছে সরকার, বাড়ছে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ

রাশিয়া সরকার এখনও ইউক্রেন যুদ্ধকে সীমিত সামরিক অভিযান হিসেবে উপস্থাপন করে চলেছে। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাব এখন দেশটির ভেতরেই ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ড্রোন হামলা, জ্বালানি সংকট এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় মস্কোসহ রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তবুও সরকার দীর্ঘ সময় এসব হামলা নিয়ে প্রকাশ্যে খুব কমই কথা বলেছে। এমনকি রাজধানীর উপকণ্ঠে হামলার পরও অনেক এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি এবং সতর্কতামূলক সাইরেনও চালু করা হয়নি।

যুদ্ধের বাস্তবতা ও সরকারি ভাষার ফারাক

রাশিয়ার নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতাকে ভিন্ন ভাষায় তুলে ধরছে। জ্বালানির ঘাটতিকে বলা হচ্ছে শোধনাগারের অনির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণের ফল, আর অর্থনীতির বড় পরিবর্তনকে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে কাঠামোগত রূপান্তর হিসেবে। বাস্তবে যুদ্ধের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতি ক্রমেই সামরিক খাতকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি মস্কো ও আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ড্রোন হামলার পরও রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে দীর্ঘ সময় কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া আসেনি। পরে সরকার পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অভিযোগ তোলে। তবে একই সময়ে দেশের বহু অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে খুব কম আলোচনা হয়।

আশ্রয়কেন্দ্র ও সতর্কবার্তা নিয়ে দ্বিধা

ড্রোন হামলার মুখে পড়া বিভিন্ন অঞ্চলের প্রশাসন জানিয়েছে, রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় না থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থান প্রকাশ বা নিয়মিত সাইরেন চালুর প্রয়োজন নেই। কোথাও কোথাও বাসিন্দাদের কেবল অনলাইনে প্রকাশিত নির্দেশিকা দেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কিছু আঞ্চলিক প্রশাসন মনে করছে, নিয়মিত সাইরেন বাজালে মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। এমনকি মানসিক চাপ ও উদ্বেগের বিষয়টিও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিবেচনা করা হয়েছে।

Ukraine war latest: Russian satellite site hit by strike, Zelenskyy says,  as baby killed by drone in Moscow region | World News | Sky News

ড্রোন হামলা বাড়লেও তথ্য সীমিত

সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া দাবি করেছে যে তারা এক রাতেই দুই শতাধিক ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে রাশিয়াও ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।

মস্কোর মেয়র জানিয়েছেন, রাজধানী রাতারাতি বহু ড্রোনের আক্রমণের মুখে পড়েছে। তবে হামলার উৎস বা বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে সব সময় পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

শব্দের আড়ালে বাস্তবতা

পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধসংক্রান্ত ঘটনাগুলো বর্ণনা করতে রাশিয়ায় এমন ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে পরিস্থিতির গুরুত্ব কম মনে হয়। বিস্ফোরণের বদলে অন্য শব্দ, নিহতের বদলে ভিন্ন অভিব্যক্তি কিংবা ড্রোনের পরিবর্তে সাধারণ আকাশীয় লক্ষ্যবস্তু—এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে।

বিমানবন্দর বন্ধ থাকলেও তা সরাসরি ড্রোন হামলার কারণে বলা হচ্ছে না। বরং সময়সূচি সমন্বয় বা পরিচালনাগত পরিবর্তনের মতো শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারলেও প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাচ্ছেন না।

তথ্যের অভাবে বাড়ছে অসন্তোষ

রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও যানজট বা চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলেও তার প্রকৃত কারণ সরকারি ঘোষণায় উল্লেখ করা হয় না। অনেকেই পরে অন্যদের কাছ থেকে জানতে পারেন যে ড্রোন হামলার কারণে রাস্তা বন্ধ ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ মানুষ নিজের চোখে যা দেখছেন এবং সরকার যা বলছে—এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। তবে তা তাৎক্ষণিকভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি না করলেও ভবিষ্যতে জনমতের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে হামলা অব্যাহত থাকলে সরকার যুদ্ধকে আরও কঠোরভাবে উপস্থাপন করে জনসমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে গুলি: পাঁচলাইশে যুবক নিহত, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

রাশিয়ায় যুদ্ধের বাস্তবতা বাড়লেও ঝুঁকি আড়াল করছে সরকার, বাড়ছে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ

০৭:২৫:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

রাশিয়া সরকার এখনও ইউক্রেন যুদ্ধকে সীমিত সামরিক অভিযান হিসেবে উপস্থাপন করে চলেছে। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাব এখন দেশটির ভেতরেই ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ড্রোন হামলা, জ্বালানি সংকট এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় মস্কোসহ রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তবুও সরকার দীর্ঘ সময় এসব হামলা নিয়ে প্রকাশ্যে খুব কমই কথা বলেছে। এমনকি রাজধানীর উপকণ্ঠে হামলার পরও অনেক এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি এবং সতর্কতামূলক সাইরেনও চালু করা হয়নি।

যুদ্ধের বাস্তবতা ও সরকারি ভাষার ফারাক

রাশিয়ার নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতাকে ভিন্ন ভাষায় তুলে ধরছে। জ্বালানির ঘাটতিকে বলা হচ্ছে শোধনাগারের অনির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণের ফল, আর অর্থনীতির বড় পরিবর্তনকে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে কাঠামোগত রূপান্তর হিসেবে। বাস্তবে যুদ্ধের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতি ক্রমেই সামরিক খাতকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি মস্কো ও আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ড্রোন হামলার পরও রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে দীর্ঘ সময় কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া আসেনি। পরে সরকার পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অভিযোগ তোলে। তবে একই সময়ে দেশের বহু অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে খুব কম আলোচনা হয়।

আশ্রয়কেন্দ্র ও সতর্কবার্তা নিয়ে দ্বিধা

ড্রোন হামলার মুখে পড়া বিভিন্ন অঞ্চলের প্রশাসন জানিয়েছে, রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় না থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থান প্রকাশ বা নিয়মিত সাইরেন চালুর প্রয়োজন নেই। কোথাও কোথাও বাসিন্দাদের কেবল অনলাইনে প্রকাশিত নির্দেশিকা দেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কিছু আঞ্চলিক প্রশাসন মনে করছে, নিয়মিত সাইরেন বাজালে মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। এমনকি মানসিক চাপ ও উদ্বেগের বিষয়টিও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিবেচনা করা হয়েছে।

Ukraine war latest: Russian satellite site hit by strike, Zelenskyy says,  as baby killed by drone in Moscow region | World News | Sky News

ড্রোন হামলা বাড়লেও তথ্য সীমিত

সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া দাবি করেছে যে তারা এক রাতেই দুই শতাধিক ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে রাশিয়াও ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।

মস্কোর মেয়র জানিয়েছেন, রাজধানী রাতারাতি বহু ড্রোনের আক্রমণের মুখে পড়েছে। তবে হামলার উৎস বা বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে সব সময় পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

শব্দের আড়ালে বাস্তবতা

পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধসংক্রান্ত ঘটনাগুলো বর্ণনা করতে রাশিয়ায় এমন ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে পরিস্থিতির গুরুত্ব কম মনে হয়। বিস্ফোরণের বদলে অন্য শব্দ, নিহতের বদলে ভিন্ন অভিব্যক্তি কিংবা ড্রোনের পরিবর্তে সাধারণ আকাশীয় লক্ষ্যবস্তু—এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে।

বিমানবন্দর বন্ধ থাকলেও তা সরাসরি ড্রোন হামলার কারণে বলা হচ্ছে না। বরং সময়সূচি সমন্বয় বা পরিচালনাগত পরিবর্তনের মতো শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারলেও প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাচ্ছেন না।

তথ্যের অভাবে বাড়ছে অসন্তোষ

রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও যানজট বা চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলেও তার প্রকৃত কারণ সরকারি ঘোষণায় উল্লেখ করা হয় না। অনেকেই পরে অন্যদের কাছ থেকে জানতে পারেন যে ড্রোন হামলার কারণে রাস্তা বন্ধ ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ মানুষ নিজের চোখে যা দেখছেন এবং সরকার যা বলছে—এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। তবে তা তাৎক্ষণিকভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি না করলেও ভবিষ্যতে জনমতের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে হামলা অব্যাহত থাকলে সরকার যুদ্ধকে আরও কঠোরভাবে উপস্থাপন করে জনসমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করতে পারে।