০৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
চীনের কম খরচের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্র, জনপ্রিয়তায় দ্রুত বাড়ছে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতীকী মূল্যে জলিল টেক্সটাইলের ৫৪.৯৯ একর জমি পাচ্ছে সেনাবাহিনী, মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পূর্বাচল যুক্ত হচ্ছে ঢাকার সঙ্গে, ডিএমপির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু সরকারি আবাসনে জায়গা দখল ও বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আপডেটের সুযোগ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত: মেয়াদোত্তীর্ণ ওয়ার্ক পারমিট নিয়মিত করার সময় বাড়াল সৌদি আরব চীনের প্রকৃত শক্তি কি অর্থনীতি, নাকি তার পরিচয়? আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা, নতুন করে উত্তেজনা নতুন ‘অক্ষশক্তি’ নয়, তবু কেন আরও বিপজ্জনক এই নীরব স্বৈরশাসক জোট ট্রাম্পের নতুন নিশানায় সাংবাদিকরা, বাড়ছে জেলের শঙ্কা বাংলাদেশের উপহার পৌঁছাল পশ্চিমবঙ্গে, শুভেন্দু অধিকারীর জন্য ১০০ কেজিসহ পাঠানো হলো ৫০০ কেজি আম

ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদন খাতে বড় ধাক্কা, চাহিদা কমে কারখানাগুলো সংকোচনে

উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, দুর্বল ভোক্তা চাহিদা এবং রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদন খাত আবারও সংকোচনের মুখে পড়েছে। সর্বশেষ পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) অনুযায়ী, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের শেষে দেশটির শিল্প খাত গত এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ইন্দোনেশিয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই নেমে এসেছে ৪৬ দশমিক ৯-এ, যা মে মাসে ছিল ৫০। সাধারণভাবে ৫০-এর নিচের সূচক উৎপাদন খাতের সংকোচন নির্দেশ করে।

চাহিদা কমায় উৎপাদনে চাপ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন অর্ডার কমে যাওয়াই এই পতনের প্রধান কারণ। তিন মাস পর প্রথমবারের মতো মোট চাহিদা হ্রাস পেয়েছে এবং গত এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে তা কমেছে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বাজারে চাহিদা দুর্বল হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও ইন্দোনেশিয়ার পণ্যের প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ায় রপ্তানি আদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। আগস্ট ২০২১-এর পর এটিই রপ্তানি অর্ডারের সবচেয়ে বড় পতন।

উৎপাদন কমেছে, কর্মী ছাঁটাই বেড়েছে

জুনে টানা চতুর্থ মাসের মতো উৎপাদন কমেছে। এই সময়ে কারখানাগুলো কর্মী সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি কাঁচামাল কেনাও সীমিত করেছে।

কর্মী ছাঁটাইয়ের হার সেপ্টেম্বর ২০২১-এর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে টানা চার মাস ধরে উৎপাদন উপকরণ কেনা কমেছে, যা প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় হ্রাস।

কাঁচামালের দাম বাড়ায় ব্যয় বেড়েছে

উৎপাদন ব্যয়ও শিল্প খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইনপুট মূল্যস্ফীতি সেপ্টেম্বর ২০১৩-এর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জরিপের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় বৃদ্ধির হার।

অনেক প্রতিষ্ঠান এই বাড়তি ব্যয় নিজেরা বহন করতে না পেরে পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। এতে বাজারে চাহিদা আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Indonesia's manufacturing activity hits 11-month high ahead of Ramadan –  Asia News Network

শ্রমিক সংগঠনের সতর্কবার্তা

ইন্দোনেশিয়ার ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের (কেএসপিআই) সভাপতি সাঈদ ইকবাল মে মাসে বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জাভা অঞ্চলের অনেক কারখানা কর্মী কমাচ্ছে অথবা স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধ করছে।

তার মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বানতেন, পশ্চিম জাভা, মধ্য জাভা ও পূর্ব জাভার অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯ হাজার শ্রমিক চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

সামনের মাসগুলোতেও চাপের আশঙ্কা

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের অর্থনীতিবিদ উসামাহ ভাট্টি বলেছেন, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের শেষে ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদন খাতের অবস্থা আবারও দুর্বল হয়েছে। নতুন অর্ডার কমে যাওয়ায় উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

এদিকে স্থানীয় ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান স্যামুয়েল সেকুরিটাস ইন্দোনেশিয়ার ম্যাক্রো কৌশল দল মনে করছে, আগামী এক থেকে দুই মাস উৎপাদন খাতের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। কারণ অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল, উৎপাদন ব্যয় বেশি, রপ্তানি আদেশ কমছে এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি রুপিয়াহর অবমূল্যায়নও ব্যবসায়িক আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।

তাদের ধারণা, তৃতীয় প্রান্তিকে মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরকারি সহায়তা কার্যকর হলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতা, পণ্যমূল্যের ওঠানামা এবং মুদ্রার দুর্বলতা এখনও বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বর্তমান পরিস্থিতি আপাতত কাঠামোগত সংকটের চেয়ে অর্থনৈতিক চক্রের ধীরগতির ইঙ্গিতই বেশি দিচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদন খাতে দুর্বল চাহিদা, বাড়তি ব্যয় ও রপ্তানি কমে যাওয়ায় জুনে পিএমআই নেমেছে ৪৬.৯-এ। সামনে আরও চাপের আশঙ্কা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কম খরচের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্র, জনপ্রিয়তায় দ্রুত বাড়ছে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী

ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদন খাতে বড় ধাক্কা, চাহিদা কমে কারখানাগুলো সংকোচনে

০৫:৩৪:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, দুর্বল ভোক্তা চাহিদা এবং রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদন খাত আবারও সংকোচনের মুখে পড়েছে। সর্বশেষ পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) অনুযায়ী, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের শেষে দেশটির শিল্প খাত গত এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ইন্দোনেশিয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই নেমে এসেছে ৪৬ দশমিক ৯-এ, যা মে মাসে ছিল ৫০। সাধারণভাবে ৫০-এর নিচের সূচক উৎপাদন খাতের সংকোচন নির্দেশ করে।

চাহিদা কমায় উৎপাদনে চাপ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন অর্ডার কমে যাওয়াই এই পতনের প্রধান কারণ। তিন মাস পর প্রথমবারের মতো মোট চাহিদা হ্রাস পেয়েছে এবং গত এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে তা কমেছে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বাজারে চাহিদা দুর্বল হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও ইন্দোনেশিয়ার পণ্যের প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ায় রপ্তানি আদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। আগস্ট ২০২১-এর পর এটিই রপ্তানি অর্ডারের সবচেয়ে বড় পতন।

উৎপাদন কমেছে, কর্মী ছাঁটাই বেড়েছে

জুনে টানা চতুর্থ মাসের মতো উৎপাদন কমেছে। এই সময়ে কারখানাগুলো কর্মী সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি কাঁচামাল কেনাও সীমিত করেছে।

কর্মী ছাঁটাইয়ের হার সেপ্টেম্বর ২০২১-এর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে টানা চার মাস ধরে উৎপাদন উপকরণ কেনা কমেছে, যা প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় হ্রাস।

কাঁচামালের দাম বাড়ায় ব্যয় বেড়েছে

উৎপাদন ব্যয়ও শিল্প খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইনপুট মূল্যস্ফীতি সেপ্টেম্বর ২০১৩-এর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জরিপের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় বৃদ্ধির হার।

অনেক প্রতিষ্ঠান এই বাড়তি ব্যয় নিজেরা বহন করতে না পেরে পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। এতে বাজারে চাহিদা আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Indonesia's manufacturing activity hits 11-month high ahead of Ramadan –  Asia News Network

শ্রমিক সংগঠনের সতর্কবার্তা

ইন্দোনেশিয়ার ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের (কেএসপিআই) সভাপতি সাঈদ ইকবাল মে মাসে বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জাভা অঞ্চলের অনেক কারখানা কর্মী কমাচ্ছে অথবা স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধ করছে।

তার মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বানতেন, পশ্চিম জাভা, মধ্য জাভা ও পূর্ব জাভার অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯ হাজার শ্রমিক চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

সামনের মাসগুলোতেও চাপের আশঙ্কা

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের অর্থনীতিবিদ উসামাহ ভাট্টি বলেছেন, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের শেষে ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদন খাতের অবস্থা আবারও দুর্বল হয়েছে। নতুন অর্ডার কমে যাওয়ায় উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

এদিকে স্থানীয় ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান স্যামুয়েল সেকুরিটাস ইন্দোনেশিয়ার ম্যাক্রো কৌশল দল মনে করছে, আগামী এক থেকে দুই মাস উৎপাদন খাতের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। কারণ অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল, উৎপাদন ব্যয় বেশি, রপ্তানি আদেশ কমছে এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি রুপিয়াহর অবমূল্যায়নও ব্যবসায়িক আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।

তাদের ধারণা, তৃতীয় প্রান্তিকে মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরকারি সহায়তা কার্যকর হলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতা, পণ্যমূল্যের ওঠানামা এবং মুদ্রার দুর্বলতা এখনও বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বর্তমান পরিস্থিতি আপাতত কাঠামোগত সংকটের চেয়ে অর্থনৈতিক চক্রের ধীরগতির ইঙ্গিতই বেশি দিচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদন খাতে দুর্বল চাহিদা, বাড়তি ব্যয় ও রপ্তানি কমে যাওয়ায় জুনে পিএমআই নেমেছে ৪৬.৯-এ। সামনে আরও চাপের আশঙ্কা রয়েছে।