৪০ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের দেখা পেল মেক্সিকো। মঙ্গলবার রাতে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে দলটি। প্রথমার্ধেই দুটি গোল করে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় মেক্সিকানরা।
ম্যাচের ২২তম মিনিটে জুলিয়ান কিনিওনেস গোল করে মেক্সিকোকে এগিয়ে দেন। এরপর ৩১তম মিনিটে রাউল হিমেনেস ব্যবধান দ্বিগুণ করলে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় স্বাগতিকদের। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানই ধরে রেখে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয় মেক্সিকো।
নকআউটে দীর্ঘ খরা কাটল
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি মেক্সিকোর প্রথম জয় ১৯৮৬ সালের পর। সে বছর নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় বুলগেরিয়াকে হারিয়েছিল দলটি। এরপর ১৯৯৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা সাতবার শেষ ষোলোয় উঠে বিদায় নিতে হয়েছে। আর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ১৯৭৮ সালের পর প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যায় মেক্সিকো।
কিনিওনেস ও হিমেনেসের নতুন মাইলফলক
চলতি বিশ্বকাপে এটি কিনিওনেসের তৃতীয় গোল। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে মেক্সিকোর হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। তার সামনে রয়েছেন শুধু লুইস ‘মাতাদোর’ হার্নান্দেজ এবং হাভিয়ের ‘চিচারিতো’ হার্নান্দেজ, যাদের প্রত্যেকের গোলসংখ্যা চার।
অন্যদিকে রাউল হিমেনেসও টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার মোট গোল এখন ৪৭টি। এর ফলে তিনি জারেড বোরগেত্তিকে ছাড়িয়ে গেছেন। মেক্সিকোর সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা চিচারিতোর রেকর্ড স্পর্শ করতে হিমেনেসের এখন আরও পাঁচটি গোল প্রয়োজন।
পরের প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হবে বুধবার
শেষ ষোলোর ম্যাচে আগামী রোববার নিজেদের মাঠে খেলবে মেক্সিকো। প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড ও কঙ্গোর মধ্যকার রাউন্ড অব ৩২ ম্যাচের বিজয়ী দল।
আজতেকা স্টেডিয়ামে অপ্রতিরোধ্য মেক্সিকো
ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপে নিজেদের অপরাজিত রেকর্ড আরও শক্তিশালী করেছে মেক্সিকো। এই ভেন্যুতে বিশ্বকাপে তাদের অপরাজিত ম্যাচের সংখ্যা এখন ১০। সরকারি প্রতিযোগিতায় এই স্টেডিয়ামে মেক্সিকো মাত্র দুটি ম্যাচে হেরেছে। সর্বশেষ হারটি ছিল ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে হন্ডুরাসের বিপক্ষে।
এছাড়া সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মেক্সিকোর অপরাজিত থাকার ধারাও বেড়ে হয়েছে টানা ১২ ম্যাচ। গত নভেম্বরে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে হারের পর আর পরাজয় দেখেনি দলটি।
নতুন ইতিহাস গড়ল কনকাকাফ
এই জয়ের মাধ্যমে আরেকটি অনন্য কীর্তি গড়েছে মেক্সিকো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দক্ষিণ আমেরিকার (কনমেবল) কোনো দলকে বিদায় করা প্রথম কনকাকাফ প্রতিনিধি এখন তারা। এর আগে এমন পাঁচটি মোকাবিলায় প্রতিবারই জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো।
অন্যদিকে ইকুয়েডরের লক্ষ্য ছিল ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ওঠা। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের পর এবারও সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না।
উল্লেখ্য, বজ্রঝড়ের কারণে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পরে শুরু হয়। চলতি বিশ্বকাপে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিলম্বিত হওয়া এটি দ্বিতীয় ম্যাচ। এর আগে ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচও ঝড়ের কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল।
#মেক্সিকো #বিশ্বকাপ #ইকুয়েডর #ফুটবল #WorldCup #Mexico #Football #RoundOf16
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















