রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক সাতটি ঘটনায় এক নারী, এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, এসব মৃত্যুর মধ্যে আত্মহত্যা, বজ্রপাত, পানিতে ডুবে মৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনা এবং রহস্যজনকভাবে ধানক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা রয়েছে। প্রতিটি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিভিন্ন ঘটনায় প্রাণহানি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ভোরে উপজেলার দিলালপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ফেরদৌস আলী (২২) ঘটনাস্থলেই মারা যান। বৃষ্টির সময় বজ্রাঘাতে তাঁর গলা ও বুক ঝলসে যায়।

একই দিন সকাল ৯টার দিকে বদরগঞ্জ পৌরসভার হাসপাতালপাড়া গ্রামে নিলয় কুণ্ডু (১৭) নামে এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে সকাল ১০টার দিকে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খাগড়াবন্ধ বটতলা এলাকার কাছে ভেটভেটির পাথারের একটি ধানক্ষেত থেকে জাহিদুল ইসলাম (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
রোববারও একাধিক মৃত্যু
এর আগের দিন রোববার উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের গোপালপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে হৃদয় বাবু (৩১) এবং নাটারাম এলাকায় শাহনাজ পারভীন (৪০)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা আত্মহত্যা করেছেন।

একই দিনে লোহানীপাড়া ইউনিয়নের চড়কডাঙ্গা গ্রামে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে আদিবাসী তরুণী অরপিটা টুডু (১৯)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া রাধানগর ইউনিয়নের লালদীঘি টেকসেরহাট মহাসড়কের ধাপপাড়া জামে মসজিদের পাশে সড়ক থেকে সালেক উদ্দিন নাঈম (১৪)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
তদন্ত চলছে
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার জানিয়েছেন, ৪৮ ঘণ্টায় সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















