০৪:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন বার্তা, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়াকে স্বাগত জানাল সিপিটিপিপি

হরমুজ প্রণালিতে আবারও নিরাপদ নৌচলাচল শুরু হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্বস্তির বার্তা এসেছে। এ পরিস্থিতিতে ১২ সদস্যের বাণিজ্য জোট সিপিটিপিপি প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করার অঙ্গীকার করেছে জোটটি।

মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ বিবৃতিতে সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমুদ্রপথ সব সময় উন্মুক্ত, নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল ও আকাশপথ ব্যবহারের স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

জ্বালানি বাণিজ্যে উন্মুক্ত বাজারের পক্ষে অবস্থান

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও অপরিশোধিত তেল, ডিজেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যাল, প্লাস্টিক ও সারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের অবাধ বাণিজ্য সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।

Navigating the Risks of Unhedged Positions in Energy Trading

এ কারণে অযৌক্তিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে জোটটি। পাশাপাশি অন্য দেশগুলোকেও একই নীতি অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সদস্যদের মতে, উন্মুক্ত বাজার ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ

জোটটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরবরাহ শৃঙ্খল-সংক্রান্ত বিধান আরও কার্যকর করা হবে। এ জন্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতের যেকোনো বিঘ্নের বিরুদ্ধে আরও প্রস্তুত থাকবে।

নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া এগোচ্ছে

একই দিনে অনুষ্ঠিত আরেকটি ভার্চ্যুয়াল মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে জোটটি তাদের সদস্যপদ সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। সেখানে জানানো হয়, কোস্টারিকার সদস্যপদ চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করা হবে।

পণ্য বাণিজ্য ঘাটতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রেকর্ড

এছাড়া উরুগুয়ের সদস্যপদ নিয়ে আলোচনাও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সদস্যপদ নিয়ে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এসব আলোচনা শুরু হলেও তা সদস্যপদ নিশ্চিত করছে না বলেও স্পষ্ট করেছে জোটটি।

বাণিজ্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পরিকল্পনা

সদস্য দেশগুলো পণ্যের উৎপত্তি নির্ধারণের নিয়ম, শুল্ক প্রশাসন এবং বাণিজ্য সহজীকরণে সহযোগিতা বাড়াতে একটি বিশেষ কার্যকরী দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এর লক্ষ্য হবে বাণিজ্যিক সুবিধার অপব্যবহার, নিয়ম এড়িয়ে পণ্য পরিবহন এবং অবৈধ পুনঃরপ্তানির মতো অনিয়ম প্রতিরোধ করা।

একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট এবং ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়েও সম্মতি জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে চুক্তিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার অগ্রগতি পরবর্তী কমিশন বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

বর্তমানে এই বাণিজ্য জোটে অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনেই, কানাডা, চিলি, জাপান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পেরু, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনাম সদস্য হিসেবে রয়েছে। ২০১৮ সালে কার্যকর হওয়া এই চুক্তি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুক্ত বাণিজ্য কাঠামো হিসেবে বিবেচিত।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন বার্তা, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়াকে স্বাগত জানাল সিপিটিপিপি

১১:৫৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে আবারও নিরাপদ নৌচলাচল শুরু হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্বস্তির বার্তা এসেছে। এ পরিস্থিতিতে ১২ সদস্যের বাণিজ্য জোট সিপিটিপিপি প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করার অঙ্গীকার করেছে জোটটি।

মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ বিবৃতিতে সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমুদ্রপথ সব সময় উন্মুক্ত, নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল ও আকাশপথ ব্যবহারের স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

জ্বালানি বাণিজ্যে উন্মুক্ত বাজারের পক্ষে অবস্থান

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও অপরিশোধিত তেল, ডিজেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যাল, প্লাস্টিক ও সারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের অবাধ বাণিজ্য সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।

Navigating the Risks of Unhedged Positions in Energy Trading

এ কারণে অযৌক্তিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে জোটটি। পাশাপাশি অন্য দেশগুলোকেও একই নীতি অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সদস্যদের মতে, উন্মুক্ত বাজার ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ

জোটটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরবরাহ শৃঙ্খল-সংক্রান্ত বিধান আরও কার্যকর করা হবে। এ জন্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতের যেকোনো বিঘ্নের বিরুদ্ধে আরও প্রস্তুত থাকবে।

নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া এগোচ্ছে

একই দিনে অনুষ্ঠিত আরেকটি ভার্চ্যুয়াল মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে জোটটি তাদের সদস্যপদ সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। সেখানে জানানো হয়, কোস্টারিকার সদস্যপদ চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করা হবে।

পণ্য বাণিজ্য ঘাটতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রেকর্ড

এছাড়া উরুগুয়ের সদস্যপদ নিয়ে আলোচনাও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সদস্যপদ নিয়ে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এসব আলোচনা শুরু হলেও তা সদস্যপদ নিশ্চিত করছে না বলেও স্পষ্ট করেছে জোটটি।

বাণিজ্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পরিকল্পনা

সদস্য দেশগুলো পণ্যের উৎপত্তি নির্ধারণের নিয়ম, শুল্ক প্রশাসন এবং বাণিজ্য সহজীকরণে সহযোগিতা বাড়াতে একটি বিশেষ কার্যকরী দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এর লক্ষ্য হবে বাণিজ্যিক সুবিধার অপব্যবহার, নিয়ম এড়িয়ে পণ্য পরিবহন এবং অবৈধ পুনঃরপ্তানির মতো অনিয়ম প্রতিরোধ করা।

একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট এবং ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়েও সম্মতি জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে চুক্তিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার অগ্রগতি পরবর্তী কমিশন বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

বর্তমানে এই বাণিজ্য জোটে অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনেই, কানাডা, চিলি, জাপান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পেরু, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনাম সদস্য হিসেবে রয়েছে। ২০১৮ সালে কার্যকর হওয়া এই চুক্তি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুক্ত বাণিজ্য কাঠামো হিসেবে বিবেচিত।