সারা দেশে বৃহস্পতিবার থেকে একযোগে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা উপদেষ্টা এ এন এম এহসানুল হক মিলন এবং প্রধান উপদেষ্টার শিক্ষা বিষয়ক বিশেষ সহকারী মাহদি আমিন উপস্থিত ছিলেন।
পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি
দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে। মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনব্যাপী এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
সরকার জানিয়েছে, যেসব দিনে পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চলবে।
ছাত্রী সংখ্যা এবারও বেশি
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন ছেলে এবং ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন মেয়ে। অর্থাৎ, ছেলে শিক্ষার্থীর তুলনায় মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি।
একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা
শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, এ বছর দেশের সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যেখান থেকে সারাদেশের পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

নিরাপত্তায় বাড়তি ব্যবস্থা
পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা দেওয়া হবে, যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়। অতীতে প্রশ্নফাঁস বা অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ ছিল—এমন ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো বাতিল করা হয়েছে।
তবে হাওর এলাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কয়েকটি কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে।
বিশেষ ব্যবস্থাও থাকছে
সেভেন্থ-ডে অ্যাডভেন্টিস্ট সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শনিবার অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলো তারা সূর্যাস্তের পর দিতে পারবেন।
বোর্ডভিত্তিক পরীক্ষার্থীর চিত্র
এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ৩১৬ জন বেশি। এই বোর্ডগুলোর আওতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৭৭টি এবং পরীক্ষাকেন্দ্র বেড়েছে ২১টি।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ৯২ হাজার ৯০৫ জন, যা গত বছরের তুলনায় ৬ হাজার ৮০৩ জন বেশি। এই বোর্ডের অধীনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে ২৩টি এবং পরীক্ষাকেন্দ্র বেড়েছে দুটি।
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন, যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৬৪৭ জন কম। এ বোর্ডের পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যাও কমে ৬১০টিতে নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী নিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ও বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে সরকার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















