পাকিস্তানের ভেতরে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে আফগান বিমান বাহিনী। আফগানিস্তানের দাবি, সীমান্তঘেঁষা পাকিস্তানি ভূখণ্ডে থাকা আইএসআইএসের (আইএস) ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘাতের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়ে গেছে।
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কয়েকটি স্থানে এই হামলা চালানো হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব এলাকা থেকে আফগানিস্তানের বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয় করা হচ্ছিল।
সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, অত্যন্ত নির্ভুলভাবে পরিচালিত এই অভিযানে কয়েকজন আইএস যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং তাদের অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, অভিযানে কোনো বেসামরিক নাগরিক হতাহত হননি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা চারটি সাধারণ ধরনের ড্রোন ভূপাতিত করেছে। পাশাপাশি ইসলামাবাদ সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো উসকানির যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।
দুই দিনের ব্যবধানে পাল্টা অভিযান
এই হামলার মাত্র দুই দিন আগে পাকিস্তান আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালায়। জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ২৮ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ৪৯ জন আহত হন।
তবে আফগানিস্তান সরকারের দাবি আরও বেশি। তাদের মতে, পাকিস্তানের ওই হামলায় ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৬০ জনের বেশি আহত হন। কাবুল এই হামলাকে “কাপুরুষোচিত” এবং “নৃশংস” বলে আখ্যা দিয়েছে।

পাকিস্তানের অবস্থান
পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা সীমান্ত এলাকায় স্থল অভিযান এবং বিমান হামলা চালিয়ে আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্যবস্তু করেছে।
দেশটির তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার বলেছেন, সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জবাবে পরিচালিত অভিযানে ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।
পুরোনো বিরোধ আবারও সামনে
গত অক্টোবর কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। এরপর কয়েক মাস পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনায় আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভেতরে অবস্থানকারী জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালায় এবং কাবুল তাদের আশ্রয় দেয়। তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে।
অন্যদিকে আফগানিস্তান অভিযোগ করে, পাকিস্তান প্রায়ই বিনা উসকানিতে সীমান্তে হামলা চালায়, যার শিকার হন সাধারণ মানুষ। পাকিস্তানের দাবি, তারা কেবল সশস্ত্র জঙ্গিদের লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের সীমান্তে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে উভয় দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা বেড়েছে। উভয় পক্ষই নিজেদের অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী বলে দাবি করছে, তবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দুই দেশের বক্তব্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















