দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান আবারও কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে। এমন সময় এই অবস্থান সামনে এলো, যখন উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে তাদের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়ে আসছে।
সিউলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সফর চলাকালে উভয় পক্ষ প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও গভীর করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
উত্তর কোরিয়ার কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ
বৈঠকের আগে উত্তর কোরিয়ার নেতা দেশটির সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দেন। তিনি নৌবাহিনীকে পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত করার পরিকল্পনা এবং আরও বড় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার দাবি, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধুনিকীকরণ এবং যৌথ কর্মকাণ্ড অঞ্চলকে পরমাণু সংঘাতের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ কারণেই তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন গতি
দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান জানিয়েছে, কোরীয় উপদ্বীপের সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা একসঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতাও অব্যাহত থাকবে।
সম্প্রতি দুই দেশ নয় বছর পর প্রথমবারের মতো যৌথ সামুদ্রিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার মহড়া পরিচালনা করে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ঐতিহাসিক বিরোধের মাঝেও এগোচ্ছে সম্পর্ক
দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার হলেও দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহাসিক বিরোধ তাদের সামরিক সহযোগিতার পথে বাধা হয়ে ছিল। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে কোরীয় উপদ্বীপে জাপানের ঔপনিবেশিক শাসনের স্মৃতি এখনও দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে দুই দেশ সেই দূরত্ব কমিয়ে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
পরমাণু সংকট এখনো অমীমাংসিত
উত্তর কোরিয়া বহুবার নিজেদের একটি স্থায়ী পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছে। দেশটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই। এর আগে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে পিয়ংইয়ং আরও দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছে।
অন্যদিকে কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি এখনো না হওয়ায় উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রযুক্তিগতভাবে এখনও যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ফলে উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখনো বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে আছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















