১১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
স্বাধীনতার ঘোষণায় সুকর্ণ: ‘একবার মুক্ত, চিরকাল মুক্ত’ আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক থানা পোড়ানোর বক্তব্য ভাইরাল: হবিগঞ্জে সমন্বয়ক মাহাদীসহ আটক ৩ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট, শোকজ ছাড়াই রাজশাহীতে কলেজশিক্ষক বরখাস্ত নিবন্ধনের আওতায় আসছে হকাররা, ডিএসসিসিকে দিতে হবে মাসে ৩ হাজার টাকা নিমরা খানের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিশ্চিত করলেন জেইন হামিদ, ফিজা আলীর ক্ষোভ ওড়িশার গ্রামীণ হাসপাতালে মার্কিন পর্যটকের বিনামূল্যে চিকিৎসা, বিস্মিত হয়ে প্রশংসা ভারতের স্বাস্থ্যসেবার ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি প্রায় স্বাভাবিক, চিকিৎসা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি কাল বিজেপিতে বড় রদবদল: স্মৃতি ইরানি সাধারণ সম্পাদক, রাম মাধব সহসভাপতি ফিলিপাইনের ঐতিহ্যের স্বাদ: মামন ও এনসাইমাদায় তিন বেকশপের গল্প

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও প্রাথমিক স্তরের দক্ষতা নেই! উচ্চশিক্ষা নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও অনেক শিক্ষার্থীর মৌলিক পড়াশোনা ও গণিতের দক্ষতা প্রত্যাশিত মানে নেই—এমন উদ্বেগ এখন শুধু একটি দেশের নয়, বরং উন্নত বিশ্বের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন মূল্যায়ন ও শিক্ষাবিদদের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছালেও তাদের দক্ষতা অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শেষ দিকের শিক্ষার্থীদের সমপর্যায়ে রয়ে গেছে।

শিক্ষকদের বাড়ছে উদ্বেগ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া অনেক শিক্ষার্থী উচ্চতর গণিত, বিশ্লেষণধর্মী লেখা কিংবা জটিল পাঠ্যবস্তু বুঝতে উল্লেখযোগ্য সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। ফলে উচ্চশিক্ষার পাঠদানের পাশাপাশি অনেক শিক্ষককে আবারও মৌলিক বিষয় শেখাতে হচ্ছে।

কিছু প্রতিষ্ঠানে পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে প্রথম বর্ষের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীর গণিতের ভিত্তি মাধ্যমিকের নিচের স্তরের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে দীর্ঘ লেখা পড়ে তা বিশ্লেষণ করার সক্ষমতাও কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষকেরা।

আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে যা উঠে এসেছে

Students are doing worse than you think

উন্নত দেশগুলোর প্রাপ্তবয়স্কদের দক্ষতা নিয়ে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের একটি অংশের ভাষাগত ও সংখ্যাগত দক্ষতা অত্যন্ত দুর্বল। ধনী দেশগুলোর গড় হিসাবে প্রায় ৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর সাক্ষরতা ও গণিতের দক্ষতা এমন পর্যায়ে রয়েছে, যা সাধারণত ১০ বছর বয়সী একটি শিশুর কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হয়।

দেশভেদে এই চিত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। কোথাও খুব অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী দুর্বল পারফরম্যান্স করেছে, আবার কোথাও এই হার অনেক বেশি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফলাফল নিয়ে শিক্ষাবিদদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

কেন পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। করোনা মহামারির সময় দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শেখার ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়। এর প্রভাব এখনো উচ্চশিক্ষায় এসে পড়ছে।

এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত সময় ব্যয়, বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়া এবং দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখার সক্ষমতা হ্রাসও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও একটি বড় বিষয় হলো, অনেক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রক্রিয়ায় মান যাচাইয়ের প্রচলিত পদ্ধতি শিথিল হওয়ায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করছে বলে শিক্ষাবিদদের ধারণা।

Students are doing worse than you think | The Straits Times

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার শিক্ষকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অনেক শিক্ষার্থী লেখালেখি, কোডিং কিংবা অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে এসব প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

এতে প্রকৃত শেখার পরিবর্তে প্রস্তুত করা উত্তর জমা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। ফলে শিক্ষার্থীর প্রকৃত দক্ষতা মূল্যায়ন কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাই আবারও তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা নেওয়ার দিকে ফিরছে।

মান ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করাই উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচিত ভর্তি থেকে শুরু করে মূল্যায়ন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে স্কুল পর্যায়ে মৌলিক শিক্ষা আরও শক্তিশালী করা এবং শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস, বিশ্লেষণী চিন্তা ও গণিতভিত্তিক দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রেও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাধীনতার ঘোষণায় সুকর্ণ: ‘একবার মুক্ত, চিরকাল মুক্ত’

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও প্রাথমিক স্তরের দক্ষতা নেই! উচ্চশিক্ষা নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা

১২:০৫:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও অনেক শিক্ষার্থীর মৌলিক পড়াশোনা ও গণিতের দক্ষতা প্রত্যাশিত মানে নেই—এমন উদ্বেগ এখন শুধু একটি দেশের নয়, বরং উন্নত বিশ্বের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন মূল্যায়ন ও শিক্ষাবিদদের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছালেও তাদের দক্ষতা অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শেষ দিকের শিক্ষার্থীদের সমপর্যায়ে রয়ে গেছে।

শিক্ষকদের বাড়ছে উদ্বেগ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া অনেক শিক্ষার্থী উচ্চতর গণিত, বিশ্লেষণধর্মী লেখা কিংবা জটিল পাঠ্যবস্তু বুঝতে উল্লেখযোগ্য সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। ফলে উচ্চশিক্ষার পাঠদানের পাশাপাশি অনেক শিক্ষককে আবারও মৌলিক বিষয় শেখাতে হচ্ছে।

কিছু প্রতিষ্ঠানে পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে প্রথম বর্ষের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীর গণিতের ভিত্তি মাধ্যমিকের নিচের স্তরের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে দীর্ঘ লেখা পড়ে তা বিশ্লেষণ করার সক্ষমতাও কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষকেরা।

আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে যা উঠে এসেছে

Students are doing worse than you think

উন্নত দেশগুলোর প্রাপ্তবয়স্কদের দক্ষতা নিয়ে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের একটি অংশের ভাষাগত ও সংখ্যাগত দক্ষতা অত্যন্ত দুর্বল। ধনী দেশগুলোর গড় হিসাবে প্রায় ৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর সাক্ষরতা ও গণিতের দক্ষতা এমন পর্যায়ে রয়েছে, যা সাধারণত ১০ বছর বয়সী একটি শিশুর কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হয়।

দেশভেদে এই চিত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। কোথাও খুব অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী দুর্বল পারফরম্যান্স করেছে, আবার কোথাও এই হার অনেক বেশি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফলাফল নিয়ে শিক্ষাবিদদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

কেন পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। করোনা মহামারির সময় দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শেখার ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়। এর প্রভাব এখনো উচ্চশিক্ষায় এসে পড়ছে।

এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত সময় ব্যয়, বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়া এবং দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখার সক্ষমতা হ্রাসও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও একটি বড় বিষয় হলো, অনেক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রক্রিয়ায় মান যাচাইয়ের প্রচলিত পদ্ধতি শিথিল হওয়ায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করছে বলে শিক্ষাবিদদের ধারণা।

Students are doing worse than you think | The Straits Times

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার শিক্ষকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অনেক শিক্ষার্থী লেখালেখি, কোডিং কিংবা অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে এসব প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

এতে প্রকৃত শেখার পরিবর্তে প্রস্তুত করা উত্তর জমা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। ফলে শিক্ষার্থীর প্রকৃত দক্ষতা মূল্যায়ন কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাই আবারও তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা নেওয়ার দিকে ফিরছে।

মান ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করাই উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচিত ভর্তি থেকে শুরু করে মূল্যায়ন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে স্কুল পর্যায়ে মৌলিক শিক্ষা আরও শক্তিশালী করা এবং শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস, বিশ্লেষণী চিন্তা ও গণিতভিত্তিক দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রেও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।