পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের চোখের অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া এক প্রতিবেদনে কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, চিকিৎসার পর ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি এখন ‘প্রায় স্বাভাবিক’ অবস্থায় ফিরে এসেছে।
ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে আবেদন
ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ইমরানের চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে করা আবেদনের শুনানি আগামী ১৮ আগস্ট হওয়ার কথা রয়েছে। এর এক দিন আগে, সোমবার সুপ্রিম কোর্টে প্রতিবেদন জমা দেয় আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষ।
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি ইমরান খান। গত জানুয়ারির শেষ দিকে তার ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন বা সিআরভিও শনাক্ত হওয়ার পর তাকে কয়েক দফা ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নেওয়া হয়।
কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে
সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া প্রতিবেদনে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। ইমরানের খাবার ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা কর্মকর্তারা দিনে তিনবার তাকে দেখেন। এ সময় রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রাসহ বিভিন্ন শারীরিক সূচক পরীক্ষা করা হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কারাগারে ভর্তির পর থেকেই ইমরানের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও তাকে ও বুশরাকে পরীক্ষা করেছেন এবং তাদের পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্রের রেকর্ড কারা প্রশাসনের কাছে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চোখের রোগ শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পিআইএমএসের চক্ষু বিভাগের প্রধান ড. মুহাম্মদ আরিফ খান এবং রাওয়ালপিন্ডির আলশিফা ট্রাস্ট আই হাসপাতালের ভিট্রিও-রেটিনাল সার্জন ড. নাদিম কোরেশি ইমরানের চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন।
তাদের চিকিৎসার পর ইমরানের চোখের অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং দৃষ্টিশক্তি প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছে বলে দাবি করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
পিটিআই ও সরকারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পিটিআই ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলছে। বিরোধী দলটি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে শিফা ইন্টারন্যাশনালে স্থানান্তর, ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।
অন্যদিকে, কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে ইমরানের আইনজীবী সালমান আকরাম রাজার গণমাধ্যমে বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের সমালোচনা করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কারাবন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎসংক্রান্ত আদালতের নির্দেশনা ও পাকিস্তান কারা বিধিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়।
ইমরান-বুশরার ৮৪টি সাক্ষাৎ
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইমরান খান ও বুশরা বিবির মধ্যে প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত সাক্ষাৎ হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের ৮৪টি সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের কাছে ইমরানের করা ফৌজদারি আপিলটি যথার্থ ভিত্তি না থাকায় খারিজ করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। এর সঙ্গে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিভিন্ন আদেশ, পিটিআই নেতাদের বক্তব্যভিত্তিক সংবাদ প্রতিবেদন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং ইমরানের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিও জমা দেওয়া হয়েছে।
আগামী ১৮ আগস্ট বিচারপতি শহীদ ওয়াহিদের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চে ইমরান খানের আবেদনের শুনানি হবে। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি নাঈম আখতার আফগান ও বিচারপতি ইশতিয়াক ইব্রাহিম।
ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের নতুন প্রতিবেদন এবং শিফা ইন্টারন্যাশনালে চিকিৎসার আবেদন—দুই বিষয়ই এখন সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে গুরুত্ব পাবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















