হবিগঞ্জে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসানসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে জেলা সদরের কোর্ট মসজিদের সামনের ময়দান থেকে মাহাদীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে আটক
গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ‘সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকও অংশ নেন। কর্মসূচি চলাকালে সদর মডেল থানার পুলিশ সেখানে গিয়ে মাহাদী হাসানকে থানায় যাওয়ার অনুরোধ করে।
পুলিশের সঙ্গে যেতে অনীহা প্রকাশ করলে তাকে টেনেহিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয় বলে জানা গেছে। পরে তাকে সদর মডেল থানায় নেওয়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে আরও কয়েকজন কর্মী-সমর্থক ছিলেন।
নিরাপত্তার কথা বলল পুলিশ
মাহাদীকে আটকের বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে থানায় নেওয়ার সময় সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুর রহমান সাংবাদিকদের আকস্মিক প্রশ্নের জবাবে বলেন, নিরাপত্তার জন্য মাহাদীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আটকের কারণ হিসেবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও, মাহাদী হাসানের আগের একটি বক্তব্যের বিষয় সামনে এসেছে। গত ১ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে আটক করা হলে মাহাদী সেখানে যান।
থানা পোড়ানোর বক্তব্যের অভিযোগ
ওই সময় শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে মাহাদীর বিরুদ্ধে। তার বক্তব্যের একটি অংশ পরে ভাইরাল হয়। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালাই দিয়েছিলাম’।
এই বক্তব্যের পর পুলিশ মাহাদী হাসানকে গ্রেপ্তার করে। তবে গ্রেপ্তারের পর আন্দোলনের মুখে ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি জামিনে মুক্তি পান।
বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে মাহাদীসহ তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে এবার কী অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















