ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নতুন জাতীয় পদাধিকারীদের নাম ঘোষণা করেছে। দলটির জাতীয় সভাপতি হিসেবে নীতিন নবীন দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাত মাস পর সোমবার এই সাংগঠনিক রদবদলের ঘোষণা এলো। নতুন তালিকায় সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে আটজন জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের একজন করা হয়েছে। সাবেক জাতীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবকে দেওয়া হয়েছে জাতীয় সহসভাপতির দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন পদাধিকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, নতুন দলে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, উদ্যম এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগের সমন্বয় রয়েছে। দলকে শক্তিশালী করা এবং জনসেবায় মনোযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নতুন সাধারণ সম্পাদকদের তালিকায় বড় পরিবর্তন
বিজেপির আট জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে শুধু বিনোদ তাওড়ে ও সুনীল বনসালকে বহাল রাখা হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে তাদের ধরে রাখা হয়েছে। সামনে উত্তর প্রদেশসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় এই সিদ্ধান্তকে সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সুনীল বনসাল পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে তাওড়ে কেরালার নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন এবং বিহারের রাজ্যপ্রধান হিসেবে নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর সম্রাট চৌধুরীর দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
নতুন সাধারণ সম্পাদকদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য হরিশ দ্বিবেদী, যিনি সম্প্রতি আসামের রাজ্যপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন; রাজস্থানের সাবেক রাজ্য সভাপতি ও অনগ্রসর শ্রেণির নেতা সতীশ পুনিয়া; মধ্যপ্রদেশের তফসিলি জনজাতির নেতা গজেন্দ্র প্যাটেল এবং সঞ্জয় ভাটিয়া। সাবেক ত্রিপুরা মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকেও জাতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে দলের কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্তও তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। দলের গণমাধ্যমবিষয়ক দায়িত্বে অনিল বালুনিকে বহাল রাখা হয়েছে।
বাদ পড়েছেন কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা
নতুন তালিকায় নেই অরুণ সিং ও রাধা মোহন দাস আগরওয়াল। অরুণ সিং ২০১৫ সাল থেকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। আগরওয়াল ২০২৩ সালে সাধারণ সম্পাদক হন। দুজনই বর্তমানে রাজ্যসভার সদস্য।
সম্প্রতি রাজ্যসভায় নির্বাচিত তরুণ চুঘকে নির্বাচনের মুখে থাকা পাঞ্জাবের দলীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দিল্লির ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দলিত নেতা দুষ্যন্ত গৌতমও সাধারণ সম্পাদকের পদ হারিয়েছেন। তিনি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এই দায়িত্বে ছিলেন এবং উত্তরাখণ্ডের রাজ্যপ্রধান হিসেবেও কাজ করেছেন।
২০২২ সালে উত্তরাখণ্ডের অঙ্কিতা ভান্ডারি হত্যা মামলায় রাজনৈতিকভাবে তার নাম ভুলভাবে জড়ানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে গৌতম সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। দিল্লি হাইকোর্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া পোস্ট সরানোর বিষয়ে অন্তর্বর্তী নির্দেশও দিয়েছিল।
জাতীয় সম্পাদক পদেও নতুন মুখ
জাতীয় সম্পাদক হিসেবে তিনবারের লোকসভা সদস্য ভোলা সিং এবং মধ্যপ্রদেশের রাজ্যসভার সদস্য ও অনগ্রসর শ্রেণির নেত্রী কবিতা পাটিদারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে আরও ১৪ জনকে জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে।
নতুন সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে বিজেপি অভিজ্ঞ নেতা, বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব এবং আসন্ন নির্বাচনের জন্য মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক সক্ষমতাকে একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















