২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিল প্যারাগুয়ে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট মিলিয়ে ১২০ মিনিটের লড়াই ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফক্সবরোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল দুটি গুরুত্বপূর্ণ শট ঠেকিয়ে নায়ক বনে যান। এরপর সাডেন ডেথে হোসে কানালে জয়সূচক পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন।
জার্মানির বিশ্বকাপ হতাশা আরও দীর্ঘ
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম টাইব্রেকারে পরাজিত হলো জার্মানি। ছয়টি পেনাল্টির মধ্যে তিনটিই কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় তারা। সাডেন ডেথে জনাথন তাহের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে জার্মানির বিদায় নিশ্চিত হয়। এর আগে গোলরক্ষক মানুয়েল নয়্যার ফাবিয়ান বালবুয়েনার শট ঠেকিয়ে দলকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে রেখেছিলেন।

অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির একটি সম্ভাব্য জয়সূচক গোলও বাতিল হয়। ১০২তম মিনিটে কর্নার থেকে জনাথন তাহের হেডে বল জালে জড়ালেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোলের আগে ভালডেমার আন্তন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে ফাউল করেছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়।
সমতায় ফেরে জার্মানি
ম্যাচের ৪২তম মিনিটে প্রথম গোল করে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। মিগেল আলমিরনের আক্রমণ গড়ে দেওয়া মুভ থেকে মাতিয়াস গালারসার ক্রসে দারুণ হেডে জাল খুঁজে নেন হুলিও এনসিসো।
দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিটে সমতায় ফেরে জার্মানি। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের বাড়ানো বল কাই হাভার্টজ দারুণভাবে জালে পাঠিয়ে ম্যাচে ভারসাম্য ফেরান।
শৃঙ্খলিত ফুটবলে ইতিহাস
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৪১ নম্বরে থাকা প্যারাগুয়ে পুরো ম্যাচজুড়ে শৃঙ্খলিত রক্ষণভাগের প্রদর্শনী উপহার দেয়। বলের দখলে পিছিয়ে থাকলেও জার্মানির আক্রমণ কার্যকরভাবে সামাল দিয়ে ম্যাচকে টাইব্রেকারে নিয়ে যায় এবং সেখানেই ইতিহাস গড়ে।
এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স ও সুইডেনের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ফিলাডেলফিয়ায়।
অন্যদিকে, বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে থাকা জার্মানির জন্য এটি আরেকটি হতাশাজনক বিশ্বকাপ। ২০১৪ সালে শিরোপা জয়ের পর টানা দুটি আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এবার নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচেই তাদের যাত্রা শেষ হলো।
ম্যাচ শেষে জার্মানির কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান স্বীকার করেন, এই ফল কোনোভাবেই তাদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্যদিকে গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল জানান, টাইব্রেকারের জন্য দলের বিশেষ প্রস্তুতিই তাদের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















