বিশ্বজুড়ে নতুন মহামারির ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তাই সংক্রামক রোগ দ্রুত শনাক্ত, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে সিঙ্গাপুরের সংক্রামক রোগবিষয়ক সংস্থা। আধুনিক প্রযুক্তিকে মানুষের দক্ষতার পরিপূরক হিসেবে ব্যবহার করে রোগ নজরদারি আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
রোগ নজরদারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার
সংস্থাটির কর্মকর্তাদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সংক্রামক রোগসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করতে পারে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবের আগাম সংকেত শনাক্ত করা, ঝুঁকি মূল্যায়ন করা এবং সম্ভাব্য প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের সুপারিশ দেওয়া সহজ হবে।
বর্তমানের জিনগত বিশ্লেষণ, বর্জ্যপানির মাধ্যমে রোগ পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য নজরদারি ব্যবস্থার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হলে রোগ সম্পর্কে আরও দ্রুত ও নির্ভুল ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
তথ্য বিশ্লেষণ ও নীতিনির্ধারণে নতুন গতি
শুধু রোগ শনাক্ত করাই নয়, প্রাকৃতিক ভাষা বিশ্লেষণ এবং উন্নত স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য বিশ্লেষণ, সংক্রামক রোগের বিস্তারের পূর্বাভাস এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাও বাড়ানো হবে।
একই সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের নতুন প্ল্যাটফর্ম, আধুনিক পরীক্ষাগার প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন পরীক্ষাগারের তথ্য একত্র করার ব্যবস্থাও আরও উন্নত করা হচ্ছে।
মানুষের বিকল্প নয়, সহায়ক প্রযুক্তি
সংস্থার কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই মানুষের বিকল্প নয়। বরং এটি নিয়মিত তথ্য বিশ্লেষণের কাজ দ্রুত শেষ করে বিশেষজ্ঞদের জন্য নীতিনির্ধারণ, গবেষণা ও গভীর বিশ্লেষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেশি সময় বের করে দিতে পারে।
এ কারণে কর্মীদেরও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা কাজে লাগাতে পারেন।
এক বছরে নানা উদ্যোগ

প্রতিষ্ঠানটি চালু হওয়ার পর গত এক বছরে মহামারি প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া কাঠামো চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে নতুন কয়েকটি টিকা যুক্ত করা হয়েছে। মানুষ, প্রাণী এবং পরিবেশের স্বাস্থ্যের পারস্পরিক সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত স্বাস্থ্য পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
বর্তমানে সংস্থাটিতে চার শতাধিক কর্মী রোগ নজরদারি, মহামারিবিদ্যা, রোগ অনুসন্ধান, সংস্পর্শ শনাক্তকরণ এবং স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছেন।
নতুন সংক্রমণ নিয়ে সতর্কতা
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক সংক্রামক রোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কিছু দেশে বিরল ভাইরাস সংক্রমণ, ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাব, হামের রোগী বৃদ্ধি এবং যক্ষ্মার সংক্রমণ নিয়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়েছে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে যত দ্রুত সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট দেশের জন্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনগণকে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়। অযথা আতঙ্ক না ছড়িয়ে সচেতনতা বজায় রাখাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগাম সতর্কতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের মহামারি মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বৈশ্বিক রোগ নজরদারি ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকা। বিশ্বের কোথাও নতুন সংক্রামক রোগ দেখা দিলে দ্রুত সতর্কবার্তা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় এবং উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে সংক্রামক রোগের বিস্তার সম্পর্কে আরও দ্রুত ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। কারণ সংক্রামক রোগ কখনো থেমে থাকে না। তাই স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেও সব সময় এক ধাপ এগিয়ে থাকার প্রস্তুতি নিয়ে চলতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















