যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি, জ্বালানি তেলের দাম কমার সম্ভাবনা এবং আকাশপথ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের শেয়ারের দামে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা বাড়ায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়ায় এই পুনরুদ্ধার দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে।
জ্বালানি ব্যয় কমার আশায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা
গত সপ্তাহে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে লেনদেন শেষ হয়। কয়েক সপ্তাহ আগেও বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের আশঙ্কায় শেয়ারটির ওপর চাপ ছিল। কিন্তু শান্তি আলোচনার অগ্রগতির খবর প্রকাশের পর অপরিশোধিত তেলের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসে।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলে বিমান চলাচল আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে পরিচালন ব্যয় কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনাও বাড়তে পারে।
বিশ্বকাপে বেড়েছে দীর্ঘপাল্লার ভ্রমণ
চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোগামী যাত্রীসংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘপাল্লার ট্রান্স-প্যাসিফিক ফ্লাইটের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটি তুলনামূলক কম সুদে পাঁচ বছরের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থায়নও সংগ্রহ করেছে। এই অর্থ নতুন উড়োজাহাজ কেনা, সংশ্লিষ্ট ব্যয় মেটানো এবং আগের ঋণ পুনঃঅর্থায়নে ব্যবহার করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাই বড় ঝুঁকি
ইতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও বেড়ে গেলে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। বিমান সংস্থাগুলোর সবচেয়ে বড় পরিচালন ব্যয় হওয়ায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি মুনাফায় প্রভাব ফেলবে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনাও আগেই জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরে জেট জ্বালানির দামের অস্থিরতা তাদের ব্যয় ও আয়ের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতেও দোলাচল
গত সপ্তাহে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারেও ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে। শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দ্রুত বাড়লেও পরে প্রযুক্তিপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় আবার বিক্রির চাপ তৈরি হয়।
ফলে প্রযুক্তি খাতের ইতিবাচক গতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং অনেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার সপ্তাহ শেষে আগের তুলনায় নিচে নেমে আসে।
আঞ্চলিক মুদ্রাবাজারেও চাপ
একই সময়ে উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রাগুলোর মধ্যেও অস্থিরতা দেখা গেছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার রিঙ্গিতের ওপর চাপ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ সুদের হার দীর্ঘ সময় বজায় থাকার সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে উদীয়মান বাজার থেকে অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বছরের বাকি সময়েও এই চাপ পুরোপুরি কমবে না এবং আঞ্চলিক মুদ্রাবাজারে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।
সামনের দিনগুলোতে নজর
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদাই আগামী সপ্তাহগুলোতে বিমান পরিবহন খাতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বাজারে আবারও অস্থিরতা ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















