০২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
হাইলাইট: ‘শুধু ক্ষমা চাওয়া নয়, জামায়াতে ইসলামীর বিচারও হতে হবে’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপে নতুন সংকট, তাইওয়ানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা আরও বাড়ছে ইন্টেলের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই, যুক্তরাষ্ট্রে চিপ উৎপাদনের নতুন আশার আলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরে পদোন্নতি বিতর্ক, নারী ও সংখ্যালঘু কর্মকর্তাদের অগ্রযাত্রা থমকে যাওয়ার অভিযোগ ট্রাম্পের অবস্থানে চাপে রিপাবলিকানরা, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে অনিশ্চয়তা আপন দলকে বাঁচাতে না নিজেকে? যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে তথ্য দিতে এগিয়ে আসছেন মেক্সিকোর ক্ষমতাসীন দলের নেতারা উপসাগরে নিরাপত্তার নতুন বাস্তবতা, ইরান সংঘাতের পর বদলে যাচ্ছে পুরো অঞ্চলের কৌশল বাংলা উপসাগর নয়, হরমুজ এখন নতুন উদ্বেগ: ইরান সংঘাতের পর নিরাপত্তা কৌশল বদলাচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো চীনে কুকুর নির্যাতনের ঘটনায় বিক্ষোভ, প্রাণী সুরক্ষা আইনের দাবিতে সরব তরুণরা বাংলাদেশের মতো সংকটে ভেনেজুয়েলা, ভূমিকম্পে থমকে গেল ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন

চীনে কুকুর নির্যাতনের ঘটনায় বিক্ষোভ, প্রাণী সুরক্ষা আইনের দাবিতে সরব তরুণরা

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চংকিং শহরে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কুকুরছানাকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে বিরল জনবিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। পরে শত শত মানুষ অভিযুক্তের বাসার সামনে জড়ো হয়ে প্রাণী সুরক্ষার দাবি তোলেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, বিক্ষোভকারীদের আটক এবং অনলাইন থেকে ভিডিও সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্রাণীপ্রেমীদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি নির্যাতনের অভিযোগ নয়, বরং চীনে প্রাণী সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী আইন প্রণয়নের দাবিকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

নির্যাতনের ভিডিও ঘিরে ক্ষোভ

ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে একটি কুকুরছানাকে বারান্দায় মারধর করছেন এক ব্যক্তি। কুকুরটির চিৎকার শোনার পর পাশের বাসার একজন বাসিন্দা ঘটনাটি ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের বাসায় গিয়ে তিনটি নির্যাতিত কুকুরছানাকে উদ্ধার করেন।

পরে পুলিশ জানায়, ৩৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি বিভিন্ন অজুহাতে কুকুর দত্তক নিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া তিনটি কুকুরকে আশ্রয়কেন্দ্র ও পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

A Puppy-Abuse Case in China, Caught on Video, Prompts Rare Public Protest -  The New York Times

উদ্ধার হওয়া কুকুরগুলোর অবস্থা

উদ্ধার হওয়া একটি কুকুরছানার শরীরে একাধিক হাড় ভাঙা, লেজ বিচ্ছিন্ন এবং দাঁত ভেঙে যাওয়ার মতো গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অন্য দুটি কুকুর ছিল চরম অপুষ্টিতে ভুগছিল এবং তাদের শরীরের তাপমাত্রাও বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছিল।

প্রাণী চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও অবহেলার কারণেই তাদের এমন শারীরিক অবস্থা হয়েছে।

বিরল জনবিক্ষোভ

ঘটনার পর শত শত মানুষ কয়েক দিন ধরে অভিযুক্তের বাসার সামনে অবস্থান নেন। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে চংকিংয়ে এসে বিক্ষোভে যোগ দেন। সেখানে তরুণ-তরুণী, প্রবীণ, শিশুদের অভিভাবকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীরা প্রাণী সুরক্ষার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। কেউ খাবার, পানি, বসার চেয়ার, কম্বল ও কুকুরের খাবার পাঠিয়ে আন্দোলনকারীদের সহায়তা করেন। অনেকেই নিজেদের পোষা প্রাণী নিয়ে উপস্থিত হয়ে প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন।

পুলিশের হস্তক্ষেপ ও আটক

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে আরও পুলিশ মোতায়েন করে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশ পুরো অবস্থান কর্মসূচি ভেঙে দেয় এবং এলাকাটি ঘিরে ফেলে।

Letters | Animal abuse cases must force Hong Kong to finally update its law  | South China Morning Post

প্রাণী সুরক্ষা আইন নিয়ে নতুন বিতর্ক

চীনে প্রাণী নির্যাতন ঠেকাতে আলাদা জাতীয় আইন না থাকায় এ ধরনের ঘটনার বিচার সীমিত পরিসরে হয়। ফলে প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে পোষা প্রাণী পালনের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণীদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলেছে। আগে যেখানে প্রাণীকে মূলত খাদ্য বা শ্রমের উৎস হিসেবে দেখা হতো, এখন অনেকেই তাদের পরিবারের সদস্য বা সঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করেন।

তবে প্রাণী খামার ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে কঠোর আইন প্রণয়ন এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

সমাজে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন শুধু প্রাণী সুরক্ষার দাবিই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের সামাজিক সচেতনতারও প্রতিফলন। অনেক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, এটি ছিল তাদের জীবনের প্রথম জনসম্মুখে অংশ নেওয়া সামাজিক আন্দোলন।

তাদের বিশ্বাস, প্রাণীদের পক্ষে কথা বলা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোই একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইলাইট: ‘শুধু ক্ষমা চাওয়া নয়, জামায়াতে ইসলামীর বিচারও হতে হবে’

চীনে কুকুর নির্যাতনের ঘটনায় বিক্ষোভ, প্রাণী সুরক্ষা আইনের দাবিতে সরব তরুণরা

০১:০৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চংকিং শহরে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কুকুরছানাকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে বিরল জনবিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। পরে শত শত মানুষ অভিযুক্তের বাসার সামনে জড়ো হয়ে প্রাণী সুরক্ষার দাবি তোলেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, বিক্ষোভকারীদের আটক এবং অনলাইন থেকে ভিডিও সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্রাণীপ্রেমীদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি নির্যাতনের অভিযোগ নয়, বরং চীনে প্রাণী সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী আইন প্রণয়নের দাবিকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

নির্যাতনের ভিডিও ঘিরে ক্ষোভ

ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে একটি কুকুরছানাকে বারান্দায় মারধর করছেন এক ব্যক্তি। কুকুরটির চিৎকার শোনার পর পাশের বাসার একজন বাসিন্দা ঘটনাটি ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের বাসায় গিয়ে তিনটি নির্যাতিত কুকুরছানাকে উদ্ধার করেন।

পরে পুলিশ জানায়, ৩৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি বিভিন্ন অজুহাতে কুকুর দত্তক নিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া তিনটি কুকুরকে আশ্রয়কেন্দ্র ও পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

A Puppy-Abuse Case in China, Caught on Video, Prompts Rare Public Protest -  The New York Times

উদ্ধার হওয়া কুকুরগুলোর অবস্থা

উদ্ধার হওয়া একটি কুকুরছানার শরীরে একাধিক হাড় ভাঙা, লেজ বিচ্ছিন্ন এবং দাঁত ভেঙে যাওয়ার মতো গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অন্য দুটি কুকুর ছিল চরম অপুষ্টিতে ভুগছিল এবং তাদের শরীরের তাপমাত্রাও বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছিল।

প্রাণী চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও অবহেলার কারণেই তাদের এমন শারীরিক অবস্থা হয়েছে।

বিরল জনবিক্ষোভ

ঘটনার পর শত শত মানুষ কয়েক দিন ধরে অভিযুক্তের বাসার সামনে অবস্থান নেন। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে চংকিংয়ে এসে বিক্ষোভে যোগ দেন। সেখানে তরুণ-তরুণী, প্রবীণ, শিশুদের অভিভাবকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীরা প্রাণী সুরক্ষার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। কেউ খাবার, পানি, বসার চেয়ার, কম্বল ও কুকুরের খাবার পাঠিয়ে আন্দোলনকারীদের সহায়তা করেন। অনেকেই নিজেদের পোষা প্রাণী নিয়ে উপস্থিত হয়ে প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন।

পুলিশের হস্তক্ষেপ ও আটক

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে আরও পুলিশ মোতায়েন করে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশ পুরো অবস্থান কর্মসূচি ভেঙে দেয় এবং এলাকাটি ঘিরে ফেলে।

Letters | Animal abuse cases must force Hong Kong to finally update its law  | South China Morning Post

প্রাণী সুরক্ষা আইন নিয়ে নতুন বিতর্ক

চীনে প্রাণী নির্যাতন ঠেকাতে আলাদা জাতীয় আইন না থাকায় এ ধরনের ঘটনার বিচার সীমিত পরিসরে হয়। ফলে প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে পোষা প্রাণী পালনের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণীদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলেছে। আগে যেখানে প্রাণীকে মূলত খাদ্য বা শ্রমের উৎস হিসেবে দেখা হতো, এখন অনেকেই তাদের পরিবারের সদস্য বা সঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করেন।

তবে প্রাণী খামার ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে কঠোর আইন প্রণয়ন এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

সমাজে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন শুধু প্রাণী সুরক্ষার দাবিই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের সামাজিক সচেতনতারও প্রতিফলন। অনেক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, এটি ছিল তাদের জীবনের প্রথম জনসম্মুখে অংশ নেওয়া সামাজিক আন্দোলন।

তাদের বিশ্বাস, প্রাণীদের পক্ষে কথা বলা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোই একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।