যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চলতি বছরে বহু জেনারেল ও অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা নারী কিংবা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য। এই পরিস্থিতি দেশটির সামরিক নেতৃত্বের ভেতরে উদ্বেগ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় নতুন বিতর্ক
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে অন্তত ৪০ জন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের একটি বড় অংশ নারী ও সংখ্যালঘু কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের পেশাগত দক্ষতা বা কর্মদক্ষতার পরিবর্তে অতীতে বৈচিত্র্য, সমঅধিকার বা অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির পক্ষে প্রকাশ্য বক্তব্য দেওয়াকেই মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নেতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে এবং বাহিনীর অভ্যন্তরে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

যোগ্যতা নয়, অতীতের বক্তব্যই হয়ে উঠছে বাধা
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন নৌবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি দীর্ঘ কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। বিশেষ করে হাওয়াইয়ে জ্বালানি দূষণের পর সংকট মোকাবিলায় তার নেতৃত্ব ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিল। তবুও পদোন্নতির শেষ পর্যায়ে এসে তিনি বাদ পড়েন।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, কয়েক বছর আগে বৈচিত্র্যময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সামরিক বাহিনীর গুরুত্ব নিয়ে দেওয়া বক্তব্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন আরও কয়েকজন কর্মকর্তা, যারা নারী সদস্যদের উৎসাহিত করা বা বৈচিত্র্যবিষয়ক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।
গোপন যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগ রয়েছে, পদোন্নতির আগে কর্মকর্তাদের অতীতের বক্তব্য, ছবি, ভিডিও এবং বিভিন্ন প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড গোপনে খতিয়ে দেখা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখাকে সম্ভাব্য আপত্তিকর তথ্য খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
সমালোচকদের মতে, অতীতে সরকারের নীতিমালা অনুসরণ করে করা কর্মকাণ্ডকে এখন নেতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, যা কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে।

কংগ্রেসেও বাড়ছে উদ্বেগ
পদোন্নতি আটকে দেওয়ার কারণ নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি কেন তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি আইনপ্রণেতাদের কাছেও সব তথ্য সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে কোনো কর্মকর্তার পদোন্নতি বাতিল করা হলে তার লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার বিধান যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার পরিবর্তে অন্য বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে নারী ও সংখ্যালঘু কর্মকর্তাদের মধ্যে নিরুৎসাহ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
অন্যদিকে, সমর্থকদের দাবি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে একমাত্র যোগ্যতা ও যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তবে সমালোচকদের বক্তব্য, বাস্তবে যেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তাতে অভিজ্ঞ ও দক্ষ অনেক কর্মকর্তা সুযোগ হারাচ্ছেন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















