০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিল বিরতি: ইংল্যান্ডের জয়ে কৌশল, ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তার পাঠ ‘আমাদের উঠে দাঁড়াতেই হবে’ স্লোগানে খামেনির শেষযাত্রা, সপ্তাহব্যাপী নজিরবিহীন শোকানুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে ইরান ভারতের ইস্পাত বিস্তার ও অস্ট্রেলিয়ার করনীতি: কোকিং কয়লার বাজারে বড় সিদ্ধান্তের সময় বিশ্বকাপে তারকারা যখন প্রত্যাশার চেয়েও উজ্জ্বল: কেন ২০২৬ আসরটি ব্যতিক্রম ভিয়েতনামের গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলতে চায় কাইটি নগুয়েন, অনুপ্রেরণা দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমা স্থানীয় গল্প, বৈশ্বিক সাফল্য: কেন কোরিয়ান পরিচয়ই এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিনোদন সম্পদ এইচএসসির প্রথম দিনেই অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার ৭ এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের পশ্চিম এশিয়ায় সব ফ্লাইট পুনরায় চালু, ফিরছে কুয়েত ও সালালাহ রুট বিজয়ের ‘জনা নায়াগন’ মুক্তির অপেক্ষার অবসান? সেন্সর ছাড়পত্র মিললেই জুলাইয়ে প্রেক্ষাগৃহে হোটেল ভাড়ার ১২ লাখ টাকা বকেয়া, এনসিপির কয়েক নেতার বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ

হাইলাইট: ‘শুধু ক্ষমা চাওয়া নয়, জামায়াতে ইসলামীর বিচারও হতে হবে’

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার বিরোধিতার জন্য একাধিকবার প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ইঙ্গিত দিলেও দলগতভাবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অনুশোচনা প্রকাশ’ বা ‘ক্ষমা প্রার্থনা’ করেনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থান এবং হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দলটির ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনপরিসরে বিতর্ক রয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াতের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল।’ এর জবাবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমরা অপরাধ করিনি, ক্ষমা চাইব কেন?’

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিভিন্ন দলের নেতারা মনে করছেন, জামায়াতের অতীতের দায়, ক্ষমা প্রার্থনা, বিচার এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ—সবকিছুই পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। কেউ বলছেন, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা জরুরি; কেউ বলছেন, শুধু ক্ষমা নয়, বিচারও হতে হবে; আবার কেউ মনে করছেন, দলটির নামই তাদের ঐতিহাসিক দায় বহন করছে।

জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপি নিয়ে সমালোচনার আগে আপনাদের নিজেদের দিকে একবার ফিরে তাকানো দরকার। এজন্য তাকানো দরকার যে ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য একবারও তো ক্ষমা প্রার্থনা করলেন না। জাতির সামনে আপনাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত ছিল। এটা করলে কিন্তু আজকের এই সমস্যা হয় না।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের নেতা প্রফেসর গোলাম আজম তখন বলেছিলেন, ১৯৭১ সালে আমরা ভুল করিনি। আমার মনে হয় এখনো সময় আছে। আপনারা এখনো ভেবে দেখতে পারেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনাদের ধারণাটা খুব পরিষ্কার করে আমাদের জানানো উচিত, বাংলাদেশকে জানানো উচিত বলে আমি মনে করি। আমি এর বেশি যেতে চাই না।

কারণ বারবার আপনারা এই কথাগুলোই বলতে থাকেন।’

রুহিন হোসেন প্রিন্স আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দলিলে ‘উইথ দেয়ার অল অক্সিলারি ফোর্স’ উল্লেখ ছিল, যার মধ্যে আলবদর ও আলশামস অন্তর্ভুক্ত। তার মতে, সেই বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামীর বাংলাদেশের রাজনীতি করার অধিকার নেই।

তিনি বলেন, জনগণ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত রাজনৈতিকভাবে এই শক্তিকে মোকাবিলার পথ খুঁজে বের করা।

রাজনীতি বিশ্লেষক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, জামায়াত নামটিই দলটির সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক দায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতার কারণে জামায়াত সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে বলে মনে করেন কবি নজরুল কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার।

সামিয়া বলেন, ‘আমি আজ পর্যন্ত কোনো জামায়াতের পক্ষ থেকে অকপটে বলতে দেখিনি বা শুনিনি যে, ১৯৭১ সালে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ভুল ছিল বা তারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থককে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস, শহীদের সংখ্যা বা যুদ্ধকালীন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায়। এতে মানুষের মনে ধারণা তৈরি হয় যে দলটি এখনো অতীতের অবস্থান থেকে স্পষ্টভাবে সরে আসেনি।

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিল বিরতি: ইংল্যান্ডের জয়ে কৌশল, ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তার পাঠ

হাইলাইট: ‘শুধু ক্ষমা চাওয়া নয়, জামায়াতে ইসলামীর বিচারও হতে হবে’

০২:২৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার বিরোধিতার জন্য একাধিকবার প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ইঙ্গিত দিলেও দলগতভাবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অনুশোচনা প্রকাশ’ বা ‘ক্ষমা প্রার্থনা’ করেনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থান এবং হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দলটির ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনপরিসরে বিতর্ক রয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াতের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল।’ এর জবাবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমরা অপরাধ করিনি, ক্ষমা চাইব কেন?’

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিভিন্ন দলের নেতারা মনে করছেন, জামায়াতের অতীতের দায়, ক্ষমা প্রার্থনা, বিচার এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ—সবকিছুই পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। কেউ বলছেন, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা জরুরি; কেউ বলছেন, শুধু ক্ষমা নয়, বিচারও হতে হবে; আবার কেউ মনে করছেন, দলটির নামই তাদের ঐতিহাসিক দায় বহন করছে।

জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপি নিয়ে সমালোচনার আগে আপনাদের নিজেদের দিকে একবার ফিরে তাকানো দরকার। এজন্য তাকানো দরকার যে ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য একবারও তো ক্ষমা প্রার্থনা করলেন না। জাতির সামনে আপনাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত ছিল। এটা করলে কিন্তু আজকের এই সমস্যা হয় না।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের নেতা প্রফেসর গোলাম আজম তখন বলেছিলেন, ১৯৭১ সালে আমরা ভুল করিনি। আমার মনে হয় এখনো সময় আছে। আপনারা এখনো ভেবে দেখতে পারেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনাদের ধারণাটা খুব পরিষ্কার করে আমাদের জানানো উচিত, বাংলাদেশকে জানানো উচিত বলে আমি মনে করি। আমি এর বেশি যেতে চাই না।

কারণ বারবার আপনারা এই কথাগুলোই বলতে থাকেন।’

রুহিন হোসেন প্রিন্স আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দলিলে ‘উইথ দেয়ার অল অক্সিলারি ফোর্স’ উল্লেখ ছিল, যার মধ্যে আলবদর ও আলশামস অন্তর্ভুক্ত। তার মতে, সেই বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামীর বাংলাদেশের রাজনীতি করার অধিকার নেই।

তিনি বলেন, জনগণ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত রাজনৈতিকভাবে এই শক্তিকে মোকাবিলার পথ খুঁজে বের করা।

রাজনীতি বিশ্লেষক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, জামায়াত নামটিই দলটির সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক দায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতার কারণে জামায়াত সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে বলে মনে করেন কবি নজরুল কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার।

সামিয়া বলেন, ‘আমি আজ পর্যন্ত কোনো জামায়াতের পক্ষ থেকে অকপটে বলতে দেখিনি বা শুনিনি যে, ১৯৭১ সালে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ভুল ছিল বা তারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থককে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস, শহীদের সংখ্যা বা যুদ্ধকালীন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায়। এতে মানুষের মনে ধারণা তৈরি হয় যে দলটি এখনো অতীতের অবস্থান থেকে স্পষ্টভাবে সরে আসেনি।

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ