০৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
দুবাই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে, শান্তি আলোচনায় ফিরছে অর্থনীতির আশা ব্যাংক অব বরোদার ৬০ কোটি ডলারের সমঝোতা, এনএমসি কেলেঙ্কারির মামলার বড় অধ্যায়ের অবসান টেনেসিতে বদলে যাচ্ছে শিক্ষার চিত্র, গ্রীষ্মকালীন ক্লাস ও নিবিড় সহায়তায় ফিরছে শিক্ষার্থীদের শেখার গতি আপেক্ষিকভাবে কমেছে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি, তবু সুদহার বাড়ানোর প্রশ্নে নীরব ফেড প্রধান ইউরোপে তাপপ্রবাহে বদলে যাচ্ছে পুরোনো ধারণা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বিতর্ক উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি, অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকোর ব্যবসা ট্রাম্পের নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর প্রথম উড়ান, ৪০ কোটি ডলারে বদলে গেল কাতারের উপহারের বিমান ছেলের পাশে দাঁড়াবেন, নাকি নিজের ভবিষ্যৎ বাঁচাবেন? বার্ধক্যে অর্থসহায়তার সীমা কোথায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ খুলে দিল আপিল বিভাগের রায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন উদ্যোগ: আমদানিকারকদের সুদের ঝুঁকি কমাতে ফরওয়ার্ড রেট অ্যাগ্রিমেন্ট অনুমোদন

হোটেল ভাড়ার ১২ লাখ টাকা বকেয়া, এনসিপির কয়েক নেতার বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ

রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলে দীর্ঘ সময় ধরে কক্ষ ভাড়া নিয়ে অবস্থান, ভাড়া বকেয়া রেখে চলে যাওয়া এবং সেখানে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে হোটেল কর্তৃপক্ষ দলটির আহ্বায়কের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগও দিয়েছে।

প্রকাশিত একটি সংবাদে বলা হয়েছে, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার আবাসিক হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে প্রায় আট মাস ধরে এনসিপির কয়েকজন নেতা দুটি কক্ষ ব্যবহার করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কক্ষগুলোতে দলটির আরও কয়েক ডজন নেতার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। পাশাপাশি নারীদের অবাধ আনাগোনা এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে যাদের নাম

হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগে নাম এসেছে ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপের। তাদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্যসচিব। অন্যরাও একই শাখার বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। পরে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিবের দায়িত্ব পান। এছাড়া তার বাবা যাত্রাবাড়ী এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর বিশেষ সহকারী ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বকেয়া প্রায় ১২ লাখ টাকা

হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, উল্লিখিত পাঁচ নেতার কাছে হোটেলটির মোট ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা ভাড়া বকেয়া রয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, তারা নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করেই হোটেল ছেড়ে যান।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, কক্ষ ব্যবহারের সময় সেখানে নিয়মিত রাত্রিযাপন, বহিরাগতদের যাতায়াত এবং নারীদের অবাধ উপস্থিতি ছিল। এসব কর্মকাণ্ডকে হোটেল কর্তৃপক্ষ অনৈতিক ও প্রতিষ্ঠানের পরিবেশবিরোধী বলে উল্লেখ করেছে।

দলের আহ্বায়কের কাছে অভিযোগ

হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক খন্দকার রুহুল আমিনের স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে সংশ্লিষ্ট পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে বকেয়া ভাড়া আদায় এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগগুলো হোটেল কর্তৃপক্ষের লিখিত বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নেতাদের বক্তব্য বা দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।

হোটেল ভাড়ার প্রায় ১২ লাখ টাকা বকেয়া রেখে চলে যাওয়া এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এনসিপির পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে দলীয় আহ্বায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুবাই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে, শান্তি আলোচনায় ফিরছে অর্থনীতির আশা

হোটেল ভাড়ার ১২ লাখ টাকা বকেয়া, এনসিপির কয়েক নেতার বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ

০৫:২৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলে দীর্ঘ সময় ধরে কক্ষ ভাড়া নিয়ে অবস্থান, ভাড়া বকেয়া রেখে চলে যাওয়া এবং সেখানে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে হোটেল কর্তৃপক্ষ দলটির আহ্বায়কের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগও দিয়েছে।

প্রকাশিত একটি সংবাদে বলা হয়েছে, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার আবাসিক হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে প্রায় আট মাস ধরে এনসিপির কয়েকজন নেতা দুটি কক্ষ ব্যবহার করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কক্ষগুলোতে দলটির আরও কয়েক ডজন নেতার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। পাশাপাশি নারীদের অবাধ আনাগোনা এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে যাদের নাম

হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগে নাম এসেছে ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপের। তাদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্যসচিব। অন্যরাও একই শাখার বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। পরে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিবের দায়িত্ব পান। এছাড়া তার বাবা যাত্রাবাড়ী এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর বিশেষ সহকারী ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বকেয়া প্রায় ১২ লাখ টাকা

হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, উল্লিখিত পাঁচ নেতার কাছে হোটেলটির মোট ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা ভাড়া বকেয়া রয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, তারা নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করেই হোটেল ছেড়ে যান।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, কক্ষ ব্যবহারের সময় সেখানে নিয়মিত রাত্রিযাপন, বহিরাগতদের যাতায়াত এবং নারীদের অবাধ উপস্থিতি ছিল। এসব কর্মকাণ্ডকে হোটেল কর্তৃপক্ষ অনৈতিক ও প্রতিষ্ঠানের পরিবেশবিরোধী বলে উল্লেখ করেছে।

দলের আহ্বায়কের কাছে অভিযোগ

হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক খন্দকার রুহুল আমিনের স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে সংশ্লিষ্ট পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে বকেয়া ভাড়া আদায় এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগগুলো হোটেল কর্তৃপক্ষের লিখিত বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নেতাদের বক্তব্য বা দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।

হোটেল ভাড়ার প্রায় ১২ লাখ টাকা বকেয়া রেখে চলে যাওয়া এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এনসিপির পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে দলীয় আহ্বায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।