০৮:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
গণতন্ত্র, দেশপ্রেম ও মধ্যবিত্তের ভবিষ্যৎ: নতুন বার্তা দিতে চাইছে ডেমোক্র্যাটরা এসএসসির পর একাদশে ভর্তি না হওয়ার হার বেড়ে উদ্বেগ, কারণ খুঁজছে সরকার আপন পারিবহন-রয়্যাল পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ফরিদপুরে আহত অন্তত ২০ যন্তর মন্তরে ‘লাইব্রেরি’ ঘিরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ, দিল্লি পুলিশকে ঘিরে নতুন বিতর্ক পাকিস্তানের বান্নুতে জঙ্গিদের নাশকতা ব্যর্থ: বালিকা বিদ্যালয় ও সেতু উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ভেস্তে দিল নিরাপত্তা বাহিনী লাহোরে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে শিশুর মৃত্যু, আহত অন্তত পাঁচ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বিমান চলাচল নিয়ে ইরানের কড়া সতর্কবার্তা ঐতিহ্যের পরিচয় নয়, আদর্শই আমেরিকার আসল শক্তি চীনের উত্থানকে উন্নয়নের নতুন মডেল হিসেবে তুলে ধরলেন শি, বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তনের আহ্বান চীনে এক ব্লগারের ভিডিওতেই কেঁপে উঠছে গবেষণা জগৎ, তদন্তে নামছে বিশ্ববিদ্যালয়

৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ খুলে দিল আপিল বিভাগের রায়

দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে রায় দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। এর ফলে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আইনি জটিলতার অবসান

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি জানান, ২০১৩ সালে সরকার ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিগ্রহণের পর একটি আইন প্রণয়ন করে। ওই আইনে বলা হয়েছিল, অধিগ্রহণ করা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সরকারি চাকরিতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করবেন।

একই আইনে আরও উল্লেখ ছিল, সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার অবস্থান থাকবে আগে, আর অধিগ্রহণ করা বিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষকদের অবস্থান হবে পরে। পাশাপাশি তাদের আগের চাকরির মেয়াদের ৫০ শতাংশ পেনশন ও গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে গণনা করা হবে।

হাইকোর্টের রায় ও সরকারের আপিল

এই বিধানের বিরোধিতা করে একাধিক শিক্ষক হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। তাদের দাবি ছিল, তারা পূর্বে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি এবং অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণে তাদের আগের চাকরিকাল যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।

পরে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট আইনের একটি অংশ বাতিল করে রায় দেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায় বাতিল করে সরকারের আপিল মঞ্জুর করেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় অগ্রগতি

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকার এখন দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবে।

তিনি আরও জানান, ২০১৩ সালে আলোচনায় থাকা শূন্য পদের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬ হাজার। তবে এরপর দীর্ঘ সময়ে অনেক প্রধান শিক্ষক অবসরে গেলেও নতুন নিয়োগ হয়নি। ফলে বর্তমানে শূন্য পদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩২ হাজারে পৌঁছেছে।

মামলার পটভূমি

২০১৭ সালে অধিগ্রহণ করা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরিকালের ৫০ শতাংশ গণনা করে গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুত, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতন স্কেল এবং বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার দাবিতে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

রিটের শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট আংশিকভাবে রুল মঞ্জুর করেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে সরকারের আবেদন মঞ্জুর করেন।

আপিল বিভাগের সর্বশেষ এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা দূর হওয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পথ সুগম হলো।

৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আপিল বিভাগের রায়ে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটল। এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবে সরকার।

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতন্ত্র, দেশপ্রেম ও মধ্যবিত্তের ভবিষ্যৎ: নতুন বার্তা দিতে চাইছে ডেমোক্র্যাটরা

৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ খুলে দিল আপিল বিভাগের রায়

০৬:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে রায় দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। এর ফলে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আইনি জটিলতার অবসান

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি জানান, ২০১৩ সালে সরকার ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিগ্রহণের পর একটি আইন প্রণয়ন করে। ওই আইনে বলা হয়েছিল, অধিগ্রহণ করা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সরকারি চাকরিতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করবেন।

একই আইনে আরও উল্লেখ ছিল, সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার অবস্থান থাকবে আগে, আর অধিগ্রহণ করা বিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষকদের অবস্থান হবে পরে। পাশাপাশি তাদের আগের চাকরির মেয়াদের ৫০ শতাংশ পেনশন ও গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে গণনা করা হবে।

হাইকোর্টের রায় ও সরকারের আপিল

এই বিধানের বিরোধিতা করে একাধিক শিক্ষক হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। তাদের দাবি ছিল, তারা পূর্বে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি এবং অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণে তাদের আগের চাকরিকাল যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।

পরে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট আইনের একটি অংশ বাতিল করে রায় দেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায় বাতিল করে সরকারের আপিল মঞ্জুর করেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় অগ্রগতি

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকার এখন দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবে।

তিনি আরও জানান, ২০১৩ সালে আলোচনায় থাকা শূন্য পদের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬ হাজার। তবে এরপর দীর্ঘ সময়ে অনেক প্রধান শিক্ষক অবসরে গেলেও নতুন নিয়োগ হয়নি। ফলে বর্তমানে শূন্য পদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩২ হাজারে পৌঁছেছে।

মামলার পটভূমি

২০১৭ সালে অধিগ্রহণ করা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরিকালের ৫০ শতাংশ গণনা করে গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুত, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতন স্কেল এবং বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার দাবিতে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

রিটের শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট আংশিকভাবে রুল মঞ্জুর করেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে সরকারের আবেদন মঞ্জুর করেন।

আপিল বিভাগের সর্বশেষ এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা দূর হওয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পথ সুগম হলো।

৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আপিল বিভাগের রায়ে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটল। এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবে সরকার।