দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীকে মারধর এবং বই ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনস্থলে মানুষকে বই পড়তে উৎসাহিত করতে একটি ছোট লাইব্রেরি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিলে দিল্লি পুলিশ দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
লাইব্রেরি স্থাপনকে কেন্দ্র করে অভিযোগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ দিপকে আহত দুই শিক্ষার্থীর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, একজন শিক্ষার্থীর ঘাড় ও হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
দিপকের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনস্থলে একটি ছোট লাইব্রেরি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যাতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষ অবসর সময়ে বই পড়তে পারেন। কিন্তু পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং পরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর পুলিশ সদস্যরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আমরাই মেরেছি—এর প্রমাণ কী?”
বই ফেলে দেওয়ার অভিযোগ
দিপকে দাবি করেন, অভিযানের সময় এসিপি অজয় শর্মা এবং তাঁর দলের সদস্যরা ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ ও ভগত সিংকে নিয়ে লেখা বইসহ বেশ কয়েকটি বই ফেলে দেন।
তাঁর ভাষায়, এটি শুধু বই নষ্ট করার ঘটনা নয়; দেশের দুই ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের প্রতিও অসম্মান প্রদর্শনের শামিল। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাময়িক বরখাস্তের দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ
এদিকে আন্দোলনের মধ্যেই জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন পঞ্চম দিনে পৌঁছেছে। দিপকের দাবি, ওয়াংচুকের রক্তে শর্করার মাত্রা ৬০-এ নেমে এসেছে এবং তাঁর রক্তচাপও স্বাভাবিকের তুলনায় কম।
তিনি বলেন, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি অব্যাহত রয়েছে। তাঁর কোনো ক্ষতি হলে তার দায় সরকারের ওপরই বর্তাবে।
একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি
আন্দোলনের ১৩তম দিনে অভিজিৎ দিপকে ‘চায়ে পে চর্চা উইথ ককরোচেস’ নামে একটি মতবিনিময় কর্মসূচির আয়োজন করেন। তাঁর দাবি, আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করতে অংশগ্রহণকারীদের মতামত সংগ্রহ করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
এদিকে একই আন্দোলনস্থলের পৃথক একটি মঞ্চে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) ছয়জন শিক্ষার্থীও অনির্দিষ্টকালের অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
দিপকে জানান, চলমান আন্দোলনে নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন জবাবদিহিসংক্রান্ত বিষয়ও তুলে ধরা হবে।
যন্তর মন্তরের এই আন্দোলন ঘিরে ওঠা নতুন অভিযোগ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা যায়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















