০৯:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

নতুন প্রজন্মকে উগ্রবাদ থেকে রক্ষায় কাঠামোবদ্ধ ধর্মশিক্ষার গুরুত্ব বাড়ছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্রভাবক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এখন তরুণদের তথ্য পাওয়ার প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। ধর্ম, রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত সম্পর্কেও অনেকেই আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বা নির্ভরযোগ্য উৎসের পরিবর্তে এসব মাধ্যম থেকেই ধারণা গড়ে তুলছে। ফলে অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে ভুল বোঝাবুঝি, বিদ্বেষ এবং চরমপন্থার ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের মধ্যে অনলাইনে উগ্র মতাদর্শের বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন ঘটনার পর আবারও আলোচনায় এসেছে কাঠামোবদ্ধ ধর্মীয় শিক্ষা বা ধর্ম-সচেতনতা কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা।

ধর্ম সম্পর্কে সঠিক ধারণা কেন জরুরি

বর্তমান ডিজিটাল যুগে একজন কিশোর বা তরুণ খুব সহজেই ইতিহাস, ধর্মীয় যুদ্ধ, জিহাদ, সাম্প্রদায়িক সংঘাত কিংবা অন্যান্য সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে নানা ধরনের তথ্যের মুখোমুখি হয়। কিন্তু এসব বিষয়ে ইতিহাসবিদ, ধর্মীয় গবেষক বা শিক্ষাবিদদের ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাখ্যা পাওয়ার আগেই অনেক সময় তারা একপেশে বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে প্রভাবিত হয়।

Chinese Families Seek Christian Education in Southeast Asia - Christianity  Today

যখন কোনো বিষয়ের সঠিক প্রেক্ষাপট জানা থাকে না, তখন জটিল ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় বিষয়গুলো অত্যন্ত সরলীকৃত ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ভুল ধারণা তৈরি হয়, অন্যের প্রতি বিরূপ মনোভাব জন্ম নিতে পারে এবং চরম পরিস্থিতিতে উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ে।

ধর্ম নয়, প্রয়োজন ধর্ম সম্পর্কে সচেতনতা

বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যা এই নয় যে তরুণরা ধর্ম সম্পর্কে অতিরিক্ত জানছে। বরং অনেক ক্ষেত্রেই তারা পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন করছে না এবং যে তথ্য পাচ্ছে তার বড় অংশই নির্ভরযোগ্য নয়।

এ কারণে বিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন একটি কাঠামোবদ্ধ ধর্ম-সচেতনতা কর্মসূচি বিবেচনা করা যেতে পারে, যা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রচার করবে না। বরং বিশ্বের প্রধান ধর্মগুলোর ইতিহাস, মূল্যবোধ, সংস্কৃতিতে অবদান এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের ধারণা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরবে।

এর পাশাপাশি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি, গুজব কিংবা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য যাচাই করার জন্য সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।

Reevaluating the role of religious education in Australian government  schools - Monash University

সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় শিক্ষার ভূমিকা

শিক্ষা একাই চরমপন্থা পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে না। তবে ধর্ম, ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর ও ভারসাম্যপূর্ণ জ্ঞানসম্পন্ন নাগরিকদের একটি সমাজ বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এবং পরিচয়ভিত্তিক বিভাজনের বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন এক সময়ে যখন বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যালগরিদম মানুষের চিন্তা, বিশ্বাস ও মতামতকে প্রভাবিত করছে, তখন ধর্মীয় সচেতনতা, ইতিহাসবোধ এবং তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা সামাজিক সম্প্রীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে সম্মান জানিয়ে, পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়িয়ে এবং তরুণদের নির্ভরযোগ্য জ্ঞান অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে উগ্রবাদী প্রচারণার প্রভাবও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

নতুন প্রজন্মকে উগ্রবাদ থেকে রক্ষায় কাঠামোবদ্ধ ধর্মশিক্ষার গুরুত্ব বাড়ছে

১২:১৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্রভাবক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এখন তরুণদের তথ্য পাওয়ার প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। ধর্ম, রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত সম্পর্কেও অনেকেই আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বা নির্ভরযোগ্য উৎসের পরিবর্তে এসব মাধ্যম থেকেই ধারণা গড়ে তুলছে। ফলে অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে ভুল বোঝাবুঝি, বিদ্বেষ এবং চরমপন্থার ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের মধ্যে অনলাইনে উগ্র মতাদর্শের বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন ঘটনার পর আবারও আলোচনায় এসেছে কাঠামোবদ্ধ ধর্মীয় শিক্ষা বা ধর্ম-সচেতনতা কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা।

ধর্ম সম্পর্কে সঠিক ধারণা কেন জরুরি

বর্তমান ডিজিটাল যুগে একজন কিশোর বা তরুণ খুব সহজেই ইতিহাস, ধর্মীয় যুদ্ধ, জিহাদ, সাম্প্রদায়িক সংঘাত কিংবা অন্যান্য সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে নানা ধরনের তথ্যের মুখোমুখি হয়। কিন্তু এসব বিষয়ে ইতিহাসবিদ, ধর্মীয় গবেষক বা শিক্ষাবিদদের ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাখ্যা পাওয়ার আগেই অনেক সময় তারা একপেশে বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে প্রভাবিত হয়।

Chinese Families Seek Christian Education in Southeast Asia - Christianity  Today

যখন কোনো বিষয়ের সঠিক প্রেক্ষাপট জানা থাকে না, তখন জটিল ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় বিষয়গুলো অত্যন্ত সরলীকৃত ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ভুল ধারণা তৈরি হয়, অন্যের প্রতি বিরূপ মনোভাব জন্ম নিতে পারে এবং চরম পরিস্থিতিতে উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ে।

ধর্ম নয়, প্রয়োজন ধর্ম সম্পর্কে সচেতনতা

বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যা এই নয় যে তরুণরা ধর্ম সম্পর্কে অতিরিক্ত জানছে। বরং অনেক ক্ষেত্রেই তারা পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন করছে না এবং যে তথ্য পাচ্ছে তার বড় অংশই নির্ভরযোগ্য নয়।

এ কারণে বিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন একটি কাঠামোবদ্ধ ধর্ম-সচেতনতা কর্মসূচি বিবেচনা করা যেতে পারে, যা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রচার করবে না। বরং বিশ্বের প্রধান ধর্মগুলোর ইতিহাস, মূল্যবোধ, সংস্কৃতিতে অবদান এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের ধারণা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরবে।

এর পাশাপাশি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি, গুজব কিংবা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য যাচাই করার জন্য সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।

Reevaluating the role of religious education in Australian government  schools - Monash University

সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় শিক্ষার ভূমিকা

শিক্ষা একাই চরমপন্থা পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে না। তবে ধর্ম, ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর ও ভারসাম্যপূর্ণ জ্ঞানসম্পন্ন নাগরিকদের একটি সমাজ বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এবং পরিচয়ভিত্তিক বিভাজনের বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন এক সময়ে যখন বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যালগরিদম মানুষের চিন্তা, বিশ্বাস ও মতামতকে প্রভাবিত করছে, তখন ধর্মীয় সচেতনতা, ইতিহাসবোধ এবং তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা সামাজিক সম্প্রীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে সম্মান জানিয়ে, পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়িয়ে এবং তরুণদের নির্ভরযোগ্য জ্ঞান অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে উগ্রবাদী প্রচারণার প্রভাবও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।