বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরক্কো। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচ ১-১ সমতায় থাকায় ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে নকআউট পর্বে দারুণ সাফল্য পেল মরক্কো, অন্যদিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এবারই প্রথম এত দ্রুত বিদায় নিতে হলো নেদারল্যান্ডসকে।
মেক্সিকোর গুয়াদালুপেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টাইব্রেকারের শুরুতে দুই দলই সমানতালে গোল করে। চার রাউন্ড শেষে স্কোর ছিল ২-২। ঠিক তখনই মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু নেদারল্যান্ডসের ক্রিসেনসিও সামারভিলের শট ঠেকিয়ে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর ইসমাইল সাইবারি শান্তভাবে শেষ শটটি জালে পাঠিয়ে মরক্কোর জয় নিশ্চিত করেন।
নাটকীয় সমতায় অতিরিক্ত সময়
ম্যাচের ৭২তম মিনিটে সামারভিলের বাড়ানো বল থেকে গোল করে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন কোডি গাকপো। ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও গোল করার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। সম্প্রতি অনাগত সন্তান হারানোর বেদনায় থাকা গাকপোকে গোলের পর সতীর্থ ও কোচিং স্টাফ মাঠে এসে জড়িয়ে ধরেন।

তবে ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই সমতায় ফেরে মরক্কো। চেমসদিন তালবির ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ইসা দিয়প। সেই গোলেই ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
টাইব্রেকারে নির্ধারিত ভাগ্য
অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে দুই দলই উল্লেখযোগ্য কোনো পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ফলে ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে। সেখানে গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং ইসমাইল সাইবারির নিখুঁত শেষ শট মরক্কোকে জয় এনে দেয়।
ডাচদের হতাশার বিদায়
এই পরাজয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত বিদায়ের রেকর্ড গড়ল দলটি। এর আগে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া টানা ১১ আসরেই তারা অন্তত শেষ ষোলোতে উঠেছিল। চার বছর আগে তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

অন্যদিকে মরক্কো, যারা টুর্নামেন্টে বিশ্বের ষষ্ঠ র্যাঙ্কিংধারী দল হিসেবে অংশ নিয়েছিল, কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিল। নেদারল্যান্ডস ছিল বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে সপ্তম।
এবারের বিশ্বকাপে এটি ছিল দ্বিতীয় ম্যাচ, যার নিষ্পত্তি হয়েছে টাইব্রেকারে। এর আগে একই দিনে আরেকটি রাউন্ড অব ৩২ ম্যাচে টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল প্যারাগুয়ে।
মরক্কোর বিশ্বকাপে এগিয়ে যাওয়ার এই নাটকীয় জয় টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হবে, আর নেদারল্যান্ডসের জন্য এটি হয়ে থাকবে বড় এক হতাশার অধ্যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















