১২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
বাবা হওয়ার পরও বাড়ছে বিষণ্নতার ঝুঁকি, নীরবে ভুগছেন অনেক পুরুষ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আগের বছরের প্রশ্নপত্র কেন হতে পারে সাফল্যের চাবিকাঠি কলম্বিয়ার কোচের সতর্কবার্তা, ঘানার বিপক্ষে সুযোগ নষ্টের পুনরাবৃত্তি চান না যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপনে বাংলাদেশজুড়ে ‘আমেরিকা উইক ২০২৬’ সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের শেয়ারে উল্লম্ফন, তবে অনিশ্চয়তার মেঘ এখনো কাটেনি এখন ফুটবলে মাতছে যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বকাপের সাফল্যে বাড়ছে উন্মাদনা প্রথম রেসে মোয়ানা, দ্বিতীয় রেসে হোয়াট আ ওয়ারিয়র—আজকের ঘোড়দৌড়ে কারা এগিয়ে চিরযৌবনের নয়, মর্যাদাপূর্ণ বার্ধক্যের সমাজ গড়তে প্রজন্মের মধ্যে বোঝাপড়া জরুরি নতুন প্রজন্মকে উগ্রবাদ থেকে রক্ষায় কাঠামোবদ্ধ ধর্মশিক্ষার গুরুত্ব বাড়ছে আপনার গাড়ি নয়, সবার নিরাপদ যাত্রাই হোক সড়কের আসল লক্ষ্য

প্রতারকদের নতুন ফাঁদ: সরকারি কর্মকর্তার পরিচয়ে ঋণ নিতে বাধ্য, তারপরই লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্র

সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে লাইসেন্সধারী ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য করছে প্রতারক চক্র। এরপর সেই ঋণের অর্থ একটি কথিত ‘নিরাপদ হিসাবে’ জমা দিতে বলে পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন প্রতারণার একাধিক ঘটনা সামনে আসায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

মাত্র তিন সপ্তাহে এই কৌশলে অন্তত দুই লাখ ৫২ হাজার ডলার হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এতে ভুক্তভোগীরা শুধু তাদের সঞ্চয়ই হারাচ্ছেন না, বরং ঋণের বোঝাও কাঁধে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

প্রতারণার কৌশল বদলে আরও বিপজ্জনক

জুন মাসের শুরু থেকে এ ধরনের প্রতারণার অন্তত পাঁচটি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতারণার শুরুতে ভুক্তভোগীদের কাছে ফোন আসে, যেখানে কলকারী নিজেকে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয়।

ফোনে জানানো হয়, ভুক্তভোগীর নামে নাকি নতুন মোবাইল নম্বর নিবন্ধন করা হয়েছে, নতুন মোবাইল ফোন কেনা হয়েছে অথবা কোনো সেবা চুক্তিতে নাম নিবন্ধন করা হয়েছে। এতে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং কথোপকথন চালিয়ে যান।

ডলারের দাম বেড়ে ৯২ টাকা

ভয় দেখিয়ে ঋণ নিতে বাধ্য

এরপর ফোনটি আরেক ব্যক্তির কাছে স্থানান্তর করা হয়, যিনি নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগীর নাম কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং তদন্তে সহযোগিতার জন্য দ্রুত লাইসেন্সধারী ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিতে হবে।

প্রতারকরা আরও জানায়, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই অর্থ একটি ‘নিরাপদ হিসাবে’ স্থানান্তর করতে হবে। অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে নির্দেশ অনুযায়ী ব্যাংক থেকে অর্থ স্থানান্তর করেন অথবা এটিএমের মাধ্যমে নগদ অর্থ জমা দেন।

কখন বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা তখনই বুঝতে পারেন যে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, যখন প্রতারকদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায় না অথবা সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রকৃত তথ্য যাচাই করেন।

Lender - Free business and finance icons

সতর্ক থাকার আহ্বান

কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিচয় নিশ্চিত না করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে কখনোই অর্থ বা মূল্যবান সম্পদ হস্তান্তর করা উচিত নয়। অপরিচিত কারও পরামর্শে ঋণ নেওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ।

এ ছাড়া সরকারি কোনো কর্মকর্তা কখনোই তদন্তের অজুহাতে অর্থ স্থানান্তর করতে বলেন না কিংবা লাইসেন্সধারী ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিতে নির্দেশ দেন না। এমন দাবি করা হলে সেটিকে প্রতারণার সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার ধরন প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। তাই অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ফোন, অর্থ লেনদেনের চাপ কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো পরিস্থিতিতে শান্ত থেকে তথ্য যাচাই করাই প্রতারণা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা হওয়ার পরও বাড়ছে বিষণ্নতার ঝুঁকি, নীরবে ভুগছেন অনেক পুরুষ

প্রতারকদের নতুন ফাঁদ: সরকারি কর্মকর্তার পরিচয়ে ঋণ নিতে বাধ্য, তারপরই লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্র

১১:২০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে লাইসেন্সধারী ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য করছে প্রতারক চক্র। এরপর সেই ঋণের অর্থ একটি কথিত ‘নিরাপদ হিসাবে’ জমা দিতে বলে পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন প্রতারণার একাধিক ঘটনা সামনে আসায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

মাত্র তিন সপ্তাহে এই কৌশলে অন্তত দুই লাখ ৫২ হাজার ডলার হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এতে ভুক্তভোগীরা শুধু তাদের সঞ্চয়ই হারাচ্ছেন না, বরং ঋণের বোঝাও কাঁধে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

প্রতারণার কৌশল বদলে আরও বিপজ্জনক

জুন মাসের শুরু থেকে এ ধরনের প্রতারণার অন্তত পাঁচটি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতারণার শুরুতে ভুক্তভোগীদের কাছে ফোন আসে, যেখানে কলকারী নিজেকে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয়।

ফোনে জানানো হয়, ভুক্তভোগীর নামে নাকি নতুন মোবাইল নম্বর নিবন্ধন করা হয়েছে, নতুন মোবাইল ফোন কেনা হয়েছে অথবা কোনো সেবা চুক্তিতে নাম নিবন্ধন করা হয়েছে। এতে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং কথোপকথন চালিয়ে যান।

ডলারের দাম বেড়ে ৯২ টাকা

ভয় দেখিয়ে ঋণ নিতে বাধ্য

এরপর ফোনটি আরেক ব্যক্তির কাছে স্থানান্তর করা হয়, যিনি নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগীর নাম কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং তদন্তে সহযোগিতার জন্য দ্রুত লাইসেন্সধারী ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিতে হবে।

প্রতারকরা আরও জানায়, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই অর্থ একটি ‘নিরাপদ হিসাবে’ স্থানান্তর করতে হবে। অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে নির্দেশ অনুযায়ী ব্যাংক থেকে অর্থ স্থানান্তর করেন অথবা এটিএমের মাধ্যমে নগদ অর্থ জমা দেন।

কখন বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা তখনই বুঝতে পারেন যে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, যখন প্রতারকদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায় না অথবা সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রকৃত তথ্য যাচাই করেন।

Lender - Free business and finance icons

সতর্ক থাকার আহ্বান

কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিচয় নিশ্চিত না করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে কখনোই অর্থ বা মূল্যবান সম্পদ হস্তান্তর করা উচিত নয়। অপরিচিত কারও পরামর্শে ঋণ নেওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ।

এ ছাড়া সরকারি কোনো কর্মকর্তা কখনোই তদন্তের অজুহাতে অর্থ স্থানান্তর করতে বলেন না কিংবা লাইসেন্সধারী ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিতে নির্দেশ দেন না। এমন দাবি করা হলে সেটিকে প্রতারণার সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার ধরন প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। তাই অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ফোন, অর্থ লেনদেনের চাপ কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো পরিস্থিতিতে শান্ত থেকে তথ্য যাচাই করাই প্রতারণা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।