গ্রুপ পর্বে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিজেদের গ্রুপসেরা হিসেবে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে কলম্বিয়া। তবে পরের ম্যাচের আগে দলের খেলোয়াড়দের স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রধান কোচ নেস্তর লরেঞ্জো। তাঁর মতে, নকআউট পর্বে এত সুযোগ নষ্ট করলে তার মূল্য অনেক বেশি দিতে হতে পারে।
পর্তুগালের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর কোচ বলেন, দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট হলেও আক্রমণভাগে সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা আরও বাড়াতে হবে। কারণ নকআউট পর্বে ছোট ভুলও বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ঘানার বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা
উজবেকিস্তান ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে জয়ের পর পর্তুগালের সঙ্গে ড্র করে গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে কলম্বিয়া। আগামী ৩ জুলাই কানসাস সিটিতে ঘানার মুখোমুখি হবে দলটি।

পর্তুগালের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে মাঝমাঠ ও দুই প্রান্ত দিয়ে ধারাবাহিক আক্রমণ গড়ে তুললেও বল জালে পাঠাতে পারেনি কলম্বিয়ার ফুটবলাররা। ম্যাচের শেষ দিকে ডিফেন্ডার দাভিনসন সানচেসের একটি হেড জালে গেলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।
লরেঞ্জো বলেন, বিশ্বের সেরা মানের ফুটবলারদের বিপক্ষে খেলতে হলে সুযোগ কাজে লাগাতেই হবে। এত সুযোগ নষ্ট করলে ভবিষ্যতে তার মাশুল গুনতে হবে। যদিও ড্রয়ে তিনি সন্তুষ্ট, কারণ দল গ্রুপসেরা হিসেবেই পরবর্তী পর্বে উঠেছে।
আক্রমণ যেমন, রক্ষণও তেমনি
কোচের মতে, এই ম্যাচের বড় ইতিবাচক দিক ছিল আক্রমণে ঝাঁপিয়েও রক্ষণে ভারসাম্য ধরে রাখা। দ্রুত পাল্টা আক্রমণ পরিচালনার পাশাপাশি খেলোয়াড়রা রক্ষণে দ্রুত ফিরে এসে প্রতিপক্ষকে খুব বেশি সুযোগ দেয়নি।
তিনি বিশেষভাবে দাভিনসন সানচেস ও জেফারসন লেরমার প্রশংসা করেন। তাঁর ভাষায়, দুজনই অসাধারণ ম্যাচ খেলেছেন এবং পুরো দল ফুলব্যাকদের সহায়তা করে রক্ষণকে সংগঠিত রেখেছে। ফলে প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণও খুব বেশি ভোগাতে পারেনি।
প্রত্যাশা বাড়লেও বাস্তবতায় থাকতে চান
ইউরোপের শক্তিশালী একটি দলের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্সের পর দেশে প্রত্যাশা বেড়ে যাবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে লরেঞ্জো বলেন, সমর্থকদের আশা থাকাটা স্বাভাবিক। তবে বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচ আলাদা এবং একেকটি ধাপ পেরিয়েই এগোতে হবে।
তিনি বলেন, জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার সময় লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন। এখন সবাই শিরোপার স্বপ্ন দেখছে। সেই স্বপ্ন দলও দেখে, তবে প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোতেই হবে।
রোনালদোকে নিয়ে বিতর্কে কোচের জবাব
অন্যদিকে, পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ দলের অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে ওঠা সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। টুর্নামেন্টে অনেক তারকা ফুটবলার শেষ গ্রুপ ম্যাচে বিশ্রাম পেলেও রোনালদো প্রতিটি মিনিট খেলেছেন।
রোনালদোর রক্ষণাত্মক অবদান নিয়ে সমালোচনা থাকলেও মার্তিনেজ বলেন, অন্য দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার সব তথ্য পর্যবেক্ষণ করা হয়।
তাঁর মতে, রোনালদোর শারীরিক কিংবা মানসিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই। সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকার অভিজ্ঞতা এবং শৃঙ্খলাবোধই তাঁকে এখনও কার্যকর ফুটবলার হিসেবে ধরে রেখেছে।
এদিকে শেষ ষোলোয় পর্তুগালের প্রতিপক্ষ হবে ক্রোয়েশিয়া। আর কলম্বিয়া ঘানাকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















