মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান শিবিরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দলের নেতারা যখন ভোটারদের সামনে নিজেদের আইন প্রণয়নের সাফল্য তুলে ধরতে চাইছিলেন, ঠিক তখনই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান সেই পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। বিশেষ করে আবাসনসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন নিয়ে তার আপত্তি রিপাবলিকানদের নির্বাচনী কৌশলকে কঠিন করে তুলেছে।
দলীয় নেতাদের অনেকের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও সিদ্ধান্তে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এতে কংগ্রেসে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখাও কঠিন হয়ে যেতে পারে।
আবাসন বিল নিয়ে নতুন সংকট
দীর্ঘ আলোচনার পর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট একটি বড় আবাসন আইন পাস করে, যার লক্ষ্য ছিল বাড়ি কেনাকে আরও সহজ ও নাগালের মধ্যে আনা। রিপাবলিকানরা এটিকে জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসন সংকট মোকাবিলায় নিজেদের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিল।
কিন্তু নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়ে দেন, ভোটদানসংক্রান্ত নতুন বিধিনিষেধ আরোপের আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত তিনি আবাসন আইনে স্বাক্ষর করতে আগ্রহী নন। এই ঘোষণার পর পুরো পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায় এবং রিপাবলিকানদের পরিকল্পিত রাজনৈতিক সুবিধা অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়ে।
সিনেটে বাড়ছে অচলাবস্থা
প্রেসিডেন্টের অবস্থানের পর রিপাবলিকান সিনেটরদের মধ্যে হতাশা আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তারা অধিবেশন স্থগিত করে মধ্য জুলাই পর্যন্ত বিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এর ফলে আবাসন আইন ছাড়াও সন্ত্রাসবিরোধী নজরদারি ব্যবস্থার মেয়াদ বাড়ানো এবং নতুন গোয়েন্দা প্রধানের নিয়োগসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
তবে বিরতিতে যাওয়ার আগে রিপাবলিকানরা একটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন। ইরান যুদ্ধের পরিচালনা নিয়ে প্রেসিডেন্টের সমালোচনামূলক একটি প্রস্তাব কার্যকর হতে না দেওয়ার মাধ্যমে তারা প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থনের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
বন্ধ দরজার বৈঠকে উত্তেজনা
কয়েকজন সিনেটরের ভাষ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকান সিনেটরদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় সদস্যদের সমালোচনা করেন। মতপার্থক্য দূর করার পরিবর্তে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন এবং কয়েকজন নেতাকে সরাসরি আক্রমণও করেন।
বৈঠকে উপস্থিত একজন জ্যেষ্ঠ রিপাবলিকান সিনেটর পরে মন্তব্য করেন, বৈঠকের শেষদিকে ঐক্যের আহ্বান জানানো হলেও পুরো আলোচনাজুড়েই বিভাজনের বিষয়গুলোই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়েও মতবিরোধ
ইরান যুদ্ধের প্রশ্নেও রিপাবলিকানদের মধ্যে মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে এক সিনেটরের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের তীব্র বাকবিতণ্ডার পর হোয়াইট হাউস থেকে তাকে পৃথকভাবে ব্রিফিং দেওয়া হয়। পরে ওই সিনেটর নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন, যা সিনেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটের ফলাফলেও প্রভাব ফেলে।
যদিও পুরো ঘটনাকে অনেকেই রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন, প্রেসিডেন্ট এটিকে নিজের অবস্থানের সমর্থন হিসেবে তুলে ধরেন।
নির্বাচনী কৌশলে নতুন চ্যালেঞ্জ
রিপাবলিকান নেতাদের বড় উদ্বেগ এখন নির্বাচনের আগে আরেকটি বড় আইন পাসের উদ্যোগ নেওয়া উচিত কি না। তাদের আশঙ্কা, এমন উদ্যোগ নিলে সদস্যদের একাধিক রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ভোট দিতে হতে পারে, আর শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট আবারও অবস্থান বদলালে পুরো প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হতে পারে।
সিনেট নেতৃত্ব আগামী সপ্তাহগুলোতে প্রতিরক্ষা নীতি ও কৃষি খাতসংক্রান্ত কয়েকটি আইন নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট যেটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেই নির্বাচনসংক্রান্ত আইন তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। ফলে রিপাবলিকানদের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান শুধু একটি আইনকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি করেনি, বরং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক বার্তা, দলীয় ঐক্য এবং নির্বাচনী কৌশল—সবকিছুকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















