জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে জুন মাসে ইন্দোনেশিয়ার বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশে পৌঁছেছে। মে মাসে এ হার ছিল ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ। ফলে দেশটির মূল্যস্ফীতি এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক ইন্দোনেশিয়ার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটিস্টিকস ইন্দোনেশিয়া (বিপিএস) জানিয়েছে, ভর্তুকিবিহীন জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিই জুনের মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরবরাহ-সংক্রান্ত চাপ বছরের বাকি সময়েও মূল্যস্ফীতিকে উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে।
জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব
বিপিএসের কর্মকর্তা আতেং হার্তোনো জানান, জুন মাসে ভর্তুকিবিহীন জ্বালানির দাম দুই দফায় পরিবর্তন করা হয়। ১ জুন পার্টাম্যাক্স টার্বোর দাম বাড়ানো হয়, যদিও ডেক্সলাইট ও পার্টামিনা ডেক্সের দাম কমানো হয়েছিল। পরে ১০ জুন পার্টাম্যাক্সের দামও বাড়ানো হয়।
এই পরিবর্তনের ফলে পরিবহন খাতে মাসিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ২ দশমিক ২৯ শতাংশ, যা জাতীয় মূল্যস্ফীতিতে ০ দশমিক ২৮ শতাংশ পয়েন্ট অবদান রাখে। বার্ষিক হিসাবে পরিবহন খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
পরিবহন খাতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি, যা একাই ০ দশমিক ২১ শতাংশ পয়েন্ট অবদান রেখেছে। এছাড়া বিমান ভাড়ার অবদান ছিল ০ দশমিক ০৫ শতাংশ পয়েন্ট এবং ইঞ্জিন লুব্রিক্যান্টের অবদান ০ দশমিক ০১ শতাংশ পয়েন্ট।
খাদ্যপণ্যের মূল্যও বেড়েছে
জ্বালানির পাশাপাশি বেশ কয়েকটি খাদ্যপণ্যের দামও মূল্যস্ফীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। মাসিক হিসাবে লাল পেঁয়াজের অবদান ছিল ০ দশমিক ০৪ শতাংশ, রসুনের ০ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং চালের ০ দশমিক ০২ শতাংশ। এছাড়া গাজর, তাজা মাছ, ভোজ্যতেল, লাল মরিচ, গরুর মাংস এবং বার্ডস আই মরিচের প্রতিটির অবদান ছিল ০ দশমিক ০১ শতাংশ।
বিপিএস জানায়, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপিয়াহর দুর্বল হয়ে পড়ায় আমদানি-নির্ভর রসুনের দাম বেড়েছে।
খাদ্য, পানীয় ও তামাক খাতে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যা জাতীয় মূল্যস্ফীতিতে সবচেয়ে বড়, অর্থাৎ ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ পয়েন্ট অবদান রেখেছে। মাসিক হিসাবে এ খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ০ দশমিক ২০ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস
ব্যাংক দানামনের অর্থনীতিবিদ হোসিয়ানা এভালিতা সিতুমোরাংয়ের মতে, জুনের মূল্যস্ফীতি এখনও ব্যাংক ইন্দোনেশিয়ার ১ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই রয়েছে। একই সময়ে মূল মূল্যস্ফীতি বেড়ে ২ দশমিক ৭৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
তিনি মনে করেন, উৎপাদন খাতের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) জুনে সংকোচন অঞ্চলে নেমে ৪৬ দশমিক ৯-এ দাঁড়ানোয় আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমতে পারে।
অন্যদিকে পারমাটা ব্যাংকের প্রধান সামষ্টিক অর্থনীতি ও বাজার গবেষক ফয়সাল রাচমান বলেন, রুপিয়াহর অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেই অতিরিক্ত খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপানো হচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারের সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি, বিনামূল্যের খাবার কর্মসূচি, সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত অবস্থান—এসব কারণ বছরের বাকি সময়েও মূল্যস্ফীতির ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ বজায় রাখতে পারে।
তবে পারমাটা ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত থাকলে ২০২৬ সালের শেষে ইন্দোনেশিয়ার মূল্যস্ফীতি প্রায় ৩ দশমিক ১৩ শতাংশে থাকতে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া নীতিগত সুদের হার ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখবে বলে তাদের ধারণা।
জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে জুনে ইন্দোনেশিয়ার মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৩৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















