রাজধানী ঢাকার প্রশাসনিক পরিধির সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পূর্বাচলের সেক্টর-১-এ ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
বুধবার সকালে ক্যাম্পটির উদ্বোধন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
এদিকে পূর্বাচলকে ঢাকার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবসহ প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একই দিনে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।
নিকারে একাধিক প্রশাসনিক প্রস্তাব
সভায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানা বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব দেবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এ ছাড়া কুমিল্লার মুরাদনগরকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ নামে নতুন উপজেলা এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের বিষয়ও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।
পূর্বাচলে ডিএমপির বিস্তৃত পরিকল্পনা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প চালুর মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ডিএমপির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো। পরিকল্পিত, নিরাপদ ও আধুনিক নগর হিসেবে পূর্বাচল গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, পূর্বাচল এলাকায় ডিএমপির আওতায় চারটি থানা, ছয়টি তদন্তকেন্দ্র, দুটি পুলিশ লাইনস এবং তিনটি উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) কার্যালয় স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সেক্টরে ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের কাজও চলমান রয়েছে।
জমি বরাদ্দ ও জনবল বৃদ্ধির পরিকল্পনা
আইজিপির ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বাচলের নিরাপত্তা জোরদারে থানা ও তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের প্রশাসনিক অনুমোদন ইতোমধ্যে দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ পুলিশের জন্য রাজউক ২৯ দশমিক ২১ একর জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ১৮ দশমিক ৬৩ একর জমির নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট জমির নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে পূর্বাচলকে পুরোপুরি ডিএমপির আওতায় এনে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রায় ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন জনবল সৃষ্টির প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে।
আরও দুটি ক্যাম্পের পরিকল্পনা
আইজিপি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে পূর্বাচলে দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর একটি বরকাউ পূর্বাচল পুলিশ ক্যাম্প, যা ইতোমধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে। অন্যটি প্রস্তাবিত পশি থানা এলাকায় নির্মাণাধীন রয়েছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে সেটিও চালু করার আশা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য থানা ও তদন্তকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
পূর্বাচলকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নগর হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশের এই সম্প্রসারিত কার্যক্রম উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনবে এবং বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন আইজিপি।
পূর্বাচলকে ঢাকার সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়ায় ডিএমপির কার্যক্রম শুরু। নতুন থানা, তদন্তকেন্দ্র ও পুলিশ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও এগোচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















