০৮:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
আপনার অতীতই কি বার্ধক্যে চোখ ভিজিয়ে দেয়? স্মৃতি, আবেগ আর জীবনের শেষ অধ্যায়ের নীরব ভাষা ১৭ দিন পর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে উধাও ৩ যুবক, তাদের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা রেমিট্যান্সে ছন্দপতন, জুনে আট মাসের সর্বনিম্ন প্রবাসী আয় বিজয়ের ভক্তের হাতে ‘অপহরণের’ অভিজ্ঞতা জানালেন ছেলে জেসন সঞ্জয় জাপানের বার্ধক্যই বিদেশি স্টার্টআপের নতুন সুযোগ, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তিতে বাড়ছে আগ্রহ তামিলনাড়ুতে সরকার ভাঙার চেষ্টার অভিযোগ, টিভিকে বিধায়ককে ৩৫ কোটি রুপির প্রস্তাবের দাবি খামেনির জানাজায় ভারতের বিজেপি ও কংগ্রেস নেতাদের আমন্ত্রণ, দিল্লির প্রতিনিধিদলও যাচ্ছে ইরানে ভারতে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, সেনা সদস্যদের মৃত্যুর তথ্য গোপনের অভিযোগে তীব্র বিতর্ক পাকিস্তানে জুনে কমেছে সন্ত্রাসী হামলা, তবু উচ্চপ্রোফাইল হামলার উদ্বেগ কাটেনি আপত্তিকর মন্তব্যে ভারতের জবাব প্রত্যাখ্যান করল পাকিস্তান, আফগান সীমান্তে অভিযানের পক্ষে ইসলামাবাদের অবস্থান

চীনের কম খরচের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্র, জনপ্রিয়তায় দ্রুত বাড়ছে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী

বিশ্বের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে দ্রুত বদলে যাচ্ছে শক্তির ভারসাম্য। এতদিন এই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। তবে এখন কম খরচে শক্তিশালী প্রযুক্তি এনে সেই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে চীনের নতুন প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক মডেলগুলো এখনও কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে। কিন্তু ব্যবহারের খরচ অনেক বেশি হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান এখন সস্তা বিকল্পের দিকে ঝুঁকছে। আর সেই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো।

চীনের উত্থান কেন?

সম্প্রতি চীনের একটি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল বাজারে আসার পর থেকেই তা প্রযুক্তি দুনিয়ায় আলোচনায় উঠে এসেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের তালিকায় এখন চীনের তৈরি একাধিক মডেল রয়েছে। বর্তমানে শীর্ষ দশটি জনপ্রিয় মডেলের মধ্যে ছয়টিই চীনের।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ব্যবধান অনেক বেশি ছিল। এখন সেই ব্যবধান দ্রুত কমে এসেছে।

কম খরচেই বড় সুবিধা

চীনের নতুন মডেলগুলোর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কম খরচ। একই ধরনের অনেক কাজ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ মডেলের তুলনায় অনেক কম ব্যয়ে করা যাচ্ছে। ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সফটওয়্যার নির্মাতা এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, সব কাজের জন্য সবচেয়ে দামি প্রযুক্তি লাগে না। অনেক ব্যবহারকারীর জন্য কম খরচে ভালো ফলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Chinese AI models gain ground as US faces growing competition

প্রোগ্রামিংয়ে বাড়ছে ব্যবহার

নতুন চীনা মডেলগুলো বিশেষ করে কম্পিউটার প্রোগ্রাম লেখা এবং স্বয়ংক্রিয় সহকারী পরিচালনার কাজে ভালো ফল দিচ্ছে। তাই বিশ্বের বড় বড় ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানও এসব প্রযুক্তি তাদের গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করছে।

এতে আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও দ্রুত বাড়ছে।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

তবে সব উদ্বেগ দূর হয়নি। অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো আশঙ্কা করছে, চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করলে তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি থাকতে পারে। এছাড়া চীনের সরকারি নীতির প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ বলছেন, নিজস্ব সার্ভারে এই মডেল চালালে তথ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছে, চীনের কিছু কোম্পানি তাদের প্রযুক্তি থেকে তথ্য নিয়ে নিজেদের মডেল উন্নত করেছে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করতে শুধু তথ্য নয়, দক্ষ গবেষক, শক্তিশালী কম্পিউটার এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগও প্রয়োজন।

তাদের ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র কয়েক মাস পিছিয়ে আছে। তাই আগামী দিনে এই প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রযুক্তি দুনিয়ায় এখন শুধু কে বেশি শক্তিশালী, সেটাই নয়; কে কম খরচে ভালো সেবা দিতে পারে, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

চীনের কম খরচের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আপনার অতীতই কি বার্ধক্যে চোখ ভিজিয়ে দেয়? স্মৃতি, আবেগ আর জীবনের শেষ অধ্যায়ের নীরব ভাষা

চীনের কম খরচের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্র, জনপ্রিয়তায় দ্রুত বাড়ছে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী

০৭:০১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে দ্রুত বদলে যাচ্ছে শক্তির ভারসাম্য। এতদিন এই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। তবে এখন কম খরচে শক্তিশালী প্রযুক্তি এনে সেই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে চীনের নতুন প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক মডেলগুলো এখনও কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে। কিন্তু ব্যবহারের খরচ অনেক বেশি হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান এখন সস্তা বিকল্পের দিকে ঝুঁকছে। আর সেই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো।

চীনের উত্থান কেন?

সম্প্রতি চীনের একটি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল বাজারে আসার পর থেকেই তা প্রযুক্তি দুনিয়ায় আলোচনায় উঠে এসেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের তালিকায় এখন চীনের তৈরি একাধিক মডেল রয়েছে। বর্তমানে শীর্ষ দশটি জনপ্রিয় মডেলের মধ্যে ছয়টিই চীনের।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ব্যবধান অনেক বেশি ছিল। এখন সেই ব্যবধান দ্রুত কমে এসেছে।

কম খরচেই বড় সুবিধা

চীনের নতুন মডেলগুলোর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কম খরচ। একই ধরনের অনেক কাজ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ মডেলের তুলনায় অনেক কম ব্যয়ে করা যাচ্ছে। ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সফটওয়্যার নির্মাতা এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, সব কাজের জন্য সবচেয়ে দামি প্রযুক্তি লাগে না। অনেক ব্যবহারকারীর জন্য কম খরচে ভালো ফলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Chinese AI models gain ground as US faces growing competition

প্রোগ্রামিংয়ে বাড়ছে ব্যবহার

নতুন চীনা মডেলগুলো বিশেষ করে কম্পিউটার প্রোগ্রাম লেখা এবং স্বয়ংক্রিয় সহকারী পরিচালনার কাজে ভালো ফল দিচ্ছে। তাই বিশ্বের বড় বড় ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানও এসব প্রযুক্তি তাদের গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করছে।

এতে আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও দ্রুত বাড়ছে।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

তবে সব উদ্বেগ দূর হয়নি। অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো আশঙ্কা করছে, চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করলে তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি থাকতে পারে। এছাড়া চীনের সরকারি নীতির প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ বলছেন, নিজস্ব সার্ভারে এই মডেল চালালে তথ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছে, চীনের কিছু কোম্পানি তাদের প্রযুক্তি থেকে তথ্য নিয়ে নিজেদের মডেল উন্নত করেছে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করতে শুধু তথ্য নয়, দক্ষ গবেষক, শক্তিশালী কম্পিউটার এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগও প্রয়োজন।

তাদের ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র কয়েক মাস পিছিয়ে আছে। তাই আগামী দিনে এই প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রযুক্তি দুনিয়ায় এখন শুধু কে বেশি শক্তিশালী, সেটাই নয়; কে কম খরচে ভালো সেবা দিতে পারে, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

চীনের কম খরচের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।