১১:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা যুদ্ধ থামছে না কেন? অপরাধ যখন ধর্মের পরিচয় পায় ঝলমলে শিল্পে আত্মভালোবাসার বার্তা দিচ্ছেন সারা শাকিল শতায়ু বাবা-মায়ের সন্তানদের আয়ু ও সুস্বাস্থ্যের সম্ভাবনা বেশি শিক্ষিত, দক্ষ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণদেরই ফাঁদে ফেলছে মানবপাচারকারীরা পাকিস্তান-রাশিয়া সম্পর্ক: অবহেলিত হলেও কেন বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ, সুযোগ নিয়ে থাকছে প্রশ্ন গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য, জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে হচ্ছে না

রেমিট্যান্সে ছন্দপতন, জুনে আট মাসের সর্বনিম্ন প্রবাসী আয়

টানা ছয় মাস ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার ধারায় জুন মাসে ছন্দপতন ঘটেছে। সদ্য সমাপ্ত জুনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার), যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ মে মাসের তুলনায় ৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার কমেছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের জুনের তুলনায়ও রেমিট্যান্স ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার কম এসেছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

ছয় মাসের ধারাবাহিকতা ভাঙলো

চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস দেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। ডিসেম্বর মাসে আসে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, জানুয়ারিতে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ দশমিক ০১ বিলিয়ন, মার্চে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন, এপ্রিলে ৩ দশমিক ১২ বিলিয়ন এবং মে মাসে ৩ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার।

তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে সেই ধারা ভেঙে প্রবাসী আয় কমে ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এর ফলে ছয় মাস পর আবারও মাসিক রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে চলে গেল।

অর্থবছরের সার্বিক চিত্র ইতিবাচক

জুনে কিছুটা কমলেও পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল শক্তিশালী। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরজুড়ে প্রবাসীরা দেশে মোট ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন।

এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা, আমদানি ব্যয় পরিশোধ এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এই রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

কেন কমলো জুনের রেমিট্যান্স

অর্থনীতিবিদদের মতে, জুন মাসে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার পেছনে ঈদ-পরবর্তী মৌসুমি প্রভাব এবং বিভিন্ন গন্তব্য দেশে কর্মসংস্থানের স্বাভাবিক ওঠানামা ভূমিকা রাখতে পারে।

তাদের ধারণা, এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার ইঙ্গিত নয়। বরং আগামী মাসগুলোতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

তবে জুনের এই পতন দেখিয়ে দিল, কয়েক মাসের শক্তিশালী প্রবাহের পরও মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সে ওঠানামা স্বাভাবিক ঘটনা। তা সত্ত্বেও পুরো অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবণতারই প্রতিফলন।

রেমিট্যান্সে ছয় মাসের ৩ বিলিয়ন ডলারের ধারা জুনে ভেঙে গেলেও পুরো অর্থবছরে প্রবাসী আয় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা

রেমিট্যান্সে ছন্দপতন, জুনে আট মাসের সর্বনিম্ন প্রবাসী আয়

০৮:১২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

টানা ছয় মাস ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার ধারায় জুন মাসে ছন্দপতন ঘটেছে। সদ্য সমাপ্ত জুনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার), যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ মে মাসের তুলনায় ৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার কমেছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের জুনের তুলনায়ও রেমিট্যান্স ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার কম এসেছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

ছয় মাসের ধারাবাহিকতা ভাঙলো

চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস দেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। ডিসেম্বর মাসে আসে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, জানুয়ারিতে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ দশমিক ০১ বিলিয়ন, মার্চে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন, এপ্রিলে ৩ দশমিক ১২ বিলিয়ন এবং মে মাসে ৩ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার।

তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে সেই ধারা ভেঙে প্রবাসী আয় কমে ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এর ফলে ছয় মাস পর আবারও মাসিক রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে চলে গেল।

অর্থবছরের সার্বিক চিত্র ইতিবাচক

জুনে কিছুটা কমলেও পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল শক্তিশালী। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরজুড়ে প্রবাসীরা দেশে মোট ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন।

এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা, আমদানি ব্যয় পরিশোধ এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এই রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

কেন কমলো জুনের রেমিট্যান্স

অর্থনীতিবিদদের মতে, জুন মাসে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার পেছনে ঈদ-পরবর্তী মৌসুমি প্রভাব এবং বিভিন্ন গন্তব্য দেশে কর্মসংস্থানের স্বাভাবিক ওঠানামা ভূমিকা রাখতে পারে।

তাদের ধারণা, এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার ইঙ্গিত নয়। বরং আগামী মাসগুলোতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

তবে জুনের এই পতন দেখিয়ে দিল, কয়েক মাসের শক্তিশালী প্রবাহের পরও মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সে ওঠানামা স্বাভাবিক ঘটনা। তা সত্ত্বেও পুরো অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবণতারই প্রতিফলন।

রেমিট্যান্সে ছয় মাসের ৩ বিলিয়ন ডলারের ধারা জুনে ভেঙে গেলেও পুরো অর্থবছরে প্রবাসী আয় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।