পাকিস্তানের লাহোরে নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদ ধসে আট বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার শহরের বাঘবানপুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, নিহত শিশুর পাশাপাশি আহতদের মধ্যে চারজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এবং আরেকজন শিশু রয়েছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নির্মাণকাজ চলাকালেই দুর্ঘটনা
বাঘবানপুরা থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) রিজওয়ান খান জানান, একটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের ১৪ মারলা আয়তনের ভবনের সঙ্গে অতিরিক্ত দুই মারলার একটি অংশ নির্মাণ করছিল। নির্মাণকাজ চলার সময় ছাদের ধ্বংসাবশেষ হঠাৎ সড়কে পড়ে যায়।
তিনি বলেন, ওই ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে এক শিশু নিহত হয়। একই সঙ্গে একটি মোটরসাইকেল আরোহী ও নির্মাণশ্রমিকরাও আহত হন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পাশের বিদ্যালয়ের কয়েকজন নারীকে একটি পুলিশ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে এসএইচও রিজওয়ান খান বলেন, কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। জনমনে উত্তেজনা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
উদ্ধার অভিযান
জরুরি সেবা সংস্থা রেসকিউ ১১২২ জানায়, উদ্ধারকাজে তাদের সাতটি যানবাহন ও ২৫ জন উদ্ধারকর্মী অংশ নেন। আহতদের ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরে লাহোরের সার্ভিসেস হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা
এই দুর্ঘটনার মাত্র দুই দিন আগেই লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। নিহতদের অধিকাংশের বয়স ছিল চার থেকে ১২ বছরের মধ্যে।
বুধবার স্থানীয় একটি মসজিদে শত শত মানুষ জানাজায় অংশ নেন। পরে শিশুদের নিজ নিজ কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বারবার ঘটছে ভবন ধস
পাকিস্তজুড়ে ভবন ও ছাদ ধসের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্মাণে নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেশটিতে নির্মাণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
লাহোরে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে এক শিশুর মৃত্যু এবং পাঁচজন আহত হওয়ার ঘটনায় আবারও পাকিস্তানের নির্মাণ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















