কুমিল্লার দেবিদ্বারের একটি মসজিদ সংস্কারের সরকারি বরাদ্দকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ব্যক্তিগত অর্থে মসজিদ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে সরকারি ই-টেন্ডারের মাধ্যমে আসা ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকার বরাদ্দের বিষয়ে মসজিদ কমিটিকে কিছুই জানানো হয়নি। একই সঙ্গে কাজের মান ও ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা
দেবিদ্বার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মরিচাকান্দা পূর্বপাড়ার বাইতুলফালা জামে মসজিদকে ঘিরে এই অভিযোগের সূত্রপাত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের আগে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে মসজিদ সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় সমালোচনা শুরু হয়। পরে কাজ হলেও এলাকাবাসীর দাবি, তা ছিল সীমিত এবং নিম্নমানের।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার দাবি, সংস্কারকাজে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বাস্তবে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে, তা সরকারি বরাদ্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বরাদ্দের তথ্য জানত না মসজিদ কমিটি
মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা সিরাজুল ইসলাম মিরণ বলেন, শুরুতে তাদের জানানো হয়েছিল ব্যক্তিগত অর্থে কাজটি করা হবে। পরে জেলা প্রশাসকের একটি সভায় তারা জানতে পারেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ই-টেন্ডারের মাধ্যমে মসজিদটির জন্য ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য, একজন ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে তারা ধারণা পেয়েছেন যে সম্পন্ন হওয়া কাজের ব্যয় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করেছে বলেও তিনি জানান।
টেন্ডার ও কাজ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন
ই-টেন্ডারের আবেদনকারী ইয়াহিয়া জানান, তিনি আবেদন করলেও বরাদ্দের পরিমাণ সম্পর্কে তাকে জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রও তিনি দেখেননি বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদার মেসার্স মমতাজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. ফরহাদুল মিজান জানান, তিনি কাজটি সাব-ঠিকাদার বিল্লাল হোসেনকে দিয়ে করিয়েছেন। তার দাবি, জেলা পরিষদের প্রকৌশলীদের তদারকিতেই কাজ হয়েছে এবং কোনো অনিয়ম হওয়ার কথা নয়।
বিল্লাল হোসেন বলেন, তিনি নিজে কাজ না করে রিয়াদ নামে আরেকজনকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। পরে কালের কণ্ঠের হাতে আসা নথির তথ্য অনুযায়ী, কাজটি বাস্তবায়ন করেছেন বিল্লাল হোসেনের ছোট ভাই ইকবাল হোসেন।
অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস
এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বরাদ্দের অর্থ নিয়ে কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম জাকারিয়া বলেন, অভিযোগটি তিনি নোট করেছেন। তদন্তে কোনো ব্যত্যয় বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মসজিদ সংস্কারের সরকারি বরাদ্দের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা—সেটি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
























