ভারতে ই-রিকশা ও অন্যান্য ব্যাটারিচালিত যানবাহন দূর থেকে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগের পর প্রযুক্তি খাতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার। ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (বিএমএস) সংশ্লিষ্ট সাতটি মোবাইল অ্যাপ গুগলের অ্যান্ড্রয়েড প্লে স্টোর ও অ্যাপলের আইওএস অ্যাপ স্টোর থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ।
সরকারি সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অ্যাপগুলো ব্লুটুথ সংযোগের মাধ্যমে ই-রিকশা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির কার্যক্রমে দূর থেকে হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ব্যাটারি অ্যাপ নিয়ে সরকারি উদ্বেগ
সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ পাওয়া অ্যাপগুলোর মধ্যে রয়েছে BAT-BMS, SMART BMS এবং LOSSIGY-সহ আরও কয়েকটি ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা অ্যাপ। কর্মকর্তাদের দাবি, এসব অ্যাপের মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, ফলে চালকেরা মাঝপথে বিপাকে পড়ছেন।
এর আগে ভাইরাল ভিডিও ও বিভিন্ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে BAT-BMS, Lossigy এবং Epoch-i-ion নামের তিনটি চীনা ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা অ্যাপ অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল ভারত সরকার। এখন একই ধরনের ঝুঁকির অভিযোগে আরও কয়েকটি অ্যাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের অবস্থান
ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব এস কৃষ্ণন জানান, বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং ইতোমধ্যে দুটি অ্যাপ অ্যাপ স্টোর থেকে সরানো হয়েছে। তিনি বলেন, জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে—এমন অ্যাপ যেন ব্যবহারকারীদের জন্য সহজলভ্য না থাকে, সে লক্ষ্যে সরকার অ্যাপ প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখবে।
কীভাবে কাজ করে বিএমএস অ্যাপ
কর্মকর্তারা জানান, ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা বিএমএস অ্যাপের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাটারির ভোল্টেজ, কারেন্ট, চার্জিং অবস্থা এবং তাপমাত্রার মতো বিভিন্ন তথ্য পর্যবেক্ষণ করা।
তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকলে একই ইন্টারফেস ব্যবহার করে ব্যাটারির বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব কমদামি ব্যাটারি প্যাকে পাসওয়ার্ড বা যথাযথ নিরাপত্তা যাচাই ছাড়াই ব্লুটুথ সংযোগের সুযোগ রয়েছে, সেগুলোকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।
ই-রিকশা চালকদের উদ্বেগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, চলন্ত বা ব্যবহারের সময় ই-রিকশা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক চালক দীর্ঘ সময় আটকে পড়েছেন। যেহেতু অনেক চালক ভাড়ায় ই-রিকশা চালিয়ে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাই এমন ঘটনা তাদের জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
সরকার জানিয়েছে, একই ধরনের আরও অ্যাপ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সংযুক্ত ডিভাইস নিয়ন্ত্রণকারী অ্যাপগুলোর ক্ষেত্রে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই করতে গুগল ও অ্যাপলসহ সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চীনা অ্যাপবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতা
২০২০ সাল থেকে জাতীয় নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা ও আর্থিক জালিয়াতির ঝুঁকির অভিযোগে শত শত অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার। তবে কর্মকর্তাদের মতে, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা অ্যাপের এই ঘটনা আগেরগুলোর তুলনায় ভিন্ন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। কারণ, এটি সরাসরি সংযুক্ত বৈদ্যুতিক যানবাহনের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে জননিরাপত্তা এবং মানুষের জীবিকাকে প্রভাবিত করতে পারে।
ই-রিকশার ব্যাটারি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ অপসারণে গুগল ও অ্যাপলকে নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। জননিরাপত্তা ও চালকদের জীবিকার স্বার্থে আরও অ্যাপ পর্যবেক্ষণে রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















