০৯:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীতে দুর্নীতির নতুন প্রজন্ম: যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যের মৃত্যু, ক্ষমতার ছায়ায় কর্মকর্তাদের বিলাসজীবন অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে বিশাল ‘পাখা-আকৃতির’ ভূগর্ভস্থ কাঠামোর সন্ধান, বদলে যেতে পারে পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাসের ধারণা ই-রিকশা দূর থেকে বন্ধের অভিযোগ: গুগল-অ্যাপলকে আরও ৭ ব্যাটারি অ্যাপ সরাতে ভারতের নির্দেশ ঢাকার হামলায় নিহত জাপানিদের স্মরণ করলেন বাংলাদেশের হাসিনা ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ধাক্কা সামলাতে এশিয়ার ভরসা আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি কেড়ে নেবে চাকরি, নাকি খুলবে নতুন সম্ভাবনা? সাদ্দাম হোসেনের ‘হলিউড স্বপ্ন’: যুদ্ধের মধ্যেই নির্মিত হয়েছিল ইরাকের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র পাঁচ দিনের শোকানুষ্ঠান শুরু: খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে বিশ্বনেতাদের সমাগম সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতীয় পাসপোর্ট সেবা চালু অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রোনালদোর গোল, স্পেনের দাপট, বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে মদরিচ: বিশ্বকাপে জমে উঠেছে শেষ ষোলোর লড়াই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি কেড়ে নেবে চাকরি, নাকি খুলবে নতুন সম্ভাবনা?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। একদল মনে করছেন, এই প্রযুক্তি মানুষের কর্মসংস্থানে বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষের বিশ্বাস, অতীতের প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লবের মতো এবারও নতুন ধরনের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। তবে একটি বিষয়ে প্রায় সবাই একমত—কর্মবাজারে বড় পরিবর্তন আসছে, আর সেই পরিবর্তনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

মানুষের কাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভিন্নমত

অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন একটি পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে যা শিল্পবিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক রূপান্তর হিসেবে দেখা যাবে। যদি প্রযুক্তি মানুষের মতো চিন্তাশক্তি ও শারীরিক কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে শ্রমের বর্তমান মূল্য কমে যেতে পারে এবং আয়ের বণ্টনেও বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে আশাবাদী অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের বিকল্প নয়, বরং সহায়ক প্রযুক্তি। মানুষের বিচারবোধ, সৃজনশীলতা, নৈতিক সিদ্ধান্ত, অভিজ্ঞতা এবং সহমর্মিতা এখনও এমন গুণ, যা সহজে প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। তাই সব চাকরি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাস্তবসম্মত নয়।

কোন খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে

বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যনির্ভর ও নিয়মভিত্তিক দাপ্তরিক কাজগুলো সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে। গ্রাহকসেবা, অনুবাদ, বিজ্ঞাপনের লেখালেখি, কিছু ব্যবস্থাপনা পদ এবং বিভিন্ন ব্যাক-অফিস সেবায় স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়তে পারে।

বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য পরিচালিত অনেক সেবা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে আইন, হিসাবরক্ষণ, অর্থনীতি ও পরামর্শসেবার মতো পেশাতেও স্বয়ংক্রিয়তার চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

3 Economists Answer the Question: Is AI Going to Kill Jobs? - WSJ

নতুন কাজের সুযোগও তৈরি হতে পারে

ইতিহাস বলছে, নতুন প্রযুক্তি যেমন কিছু কাজের অবসান ঘটায়, তেমনি নতুন ধরনের পেশারও জন্ম দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, গবেষণা, সৃজনশীল শিল্প এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগনির্ভর বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।

তাদের মতে, মানুষের চাহিদা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন বাজার ও নতুন পেশাও তৈরি হয়। অতীতের প্রতিটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের পর কর্মসংস্থান নতুন রূপে ফিরে এসেছে। তাই এবারও একই ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

মানবিক স্পর্শের মূল্য থাকবে

শিশু পরিচর্যা, প্রবীণদের সেবা, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সরাসরি মানবিক যোগাযোগের প্রয়োজন এমন অনেক ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মানুষ প্রায়ই এমন অভিজ্ঞতার জন্য অর্থ ব্যয় করতে আগ্রহী, যেখানে মানবিক উপস্থিতি ও সম্পর্কের মূল্য রয়েছে।

তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি যত দ্রুত হবে, ততই কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যারা পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবেন, ভবিষ্যতের কর্মবাজারে তাদের সুযোগও তুলনামূলক বেশি থাকবে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শেষ পর্যন্ত কর্মসংস্থানের জন্য আশীর্বাদ হবে, নাকি বড় সংকট তৈরি করবে—এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে অর্থনীতিবিদদের অভিন্ন মত হলো, প্রযুক্তির গতি অত্যন্ত দ্রুত, তাই সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মীদের এখন থেকেই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। ভবিষ্যতের কর্মবাজারে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হবে নতুন দক্ষতা অর্জন, অভিযোজনক্ষমতা এবং মানবিক সক্ষমতার বিকাশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীতে দুর্নীতির নতুন প্রজন্ম: যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যের মৃত্যু, ক্ষমতার ছায়ায় কর্মকর্তাদের বিলাসজীবন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি কেড়ে নেবে চাকরি, নাকি খুলবে নতুন সম্ভাবনা?

০৮:৫৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। একদল মনে করছেন, এই প্রযুক্তি মানুষের কর্মসংস্থানে বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষের বিশ্বাস, অতীতের প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লবের মতো এবারও নতুন ধরনের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। তবে একটি বিষয়ে প্রায় সবাই একমত—কর্মবাজারে বড় পরিবর্তন আসছে, আর সেই পরিবর্তনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

মানুষের কাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভিন্নমত

অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন একটি পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে যা শিল্পবিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক রূপান্তর হিসেবে দেখা যাবে। যদি প্রযুক্তি মানুষের মতো চিন্তাশক্তি ও শারীরিক কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে শ্রমের বর্তমান মূল্য কমে যেতে পারে এবং আয়ের বণ্টনেও বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে আশাবাদী অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের বিকল্প নয়, বরং সহায়ক প্রযুক্তি। মানুষের বিচারবোধ, সৃজনশীলতা, নৈতিক সিদ্ধান্ত, অভিজ্ঞতা এবং সহমর্মিতা এখনও এমন গুণ, যা সহজে প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। তাই সব চাকরি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাস্তবসম্মত নয়।

কোন খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে

বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যনির্ভর ও নিয়মভিত্তিক দাপ্তরিক কাজগুলো সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে। গ্রাহকসেবা, অনুবাদ, বিজ্ঞাপনের লেখালেখি, কিছু ব্যবস্থাপনা পদ এবং বিভিন্ন ব্যাক-অফিস সেবায় স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়তে পারে।

বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য পরিচালিত অনেক সেবা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে আইন, হিসাবরক্ষণ, অর্থনীতি ও পরামর্শসেবার মতো পেশাতেও স্বয়ংক্রিয়তার চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

3 Economists Answer the Question: Is AI Going to Kill Jobs? - WSJ

নতুন কাজের সুযোগও তৈরি হতে পারে

ইতিহাস বলছে, নতুন প্রযুক্তি যেমন কিছু কাজের অবসান ঘটায়, তেমনি নতুন ধরনের পেশারও জন্ম দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, গবেষণা, সৃজনশীল শিল্প এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগনির্ভর বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।

তাদের মতে, মানুষের চাহিদা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন বাজার ও নতুন পেশাও তৈরি হয়। অতীতের প্রতিটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের পর কর্মসংস্থান নতুন রূপে ফিরে এসেছে। তাই এবারও একই ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

মানবিক স্পর্শের মূল্য থাকবে

শিশু পরিচর্যা, প্রবীণদের সেবা, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সরাসরি মানবিক যোগাযোগের প্রয়োজন এমন অনেক ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মানুষ প্রায়ই এমন অভিজ্ঞতার জন্য অর্থ ব্যয় করতে আগ্রহী, যেখানে মানবিক উপস্থিতি ও সম্পর্কের মূল্য রয়েছে।

তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি যত দ্রুত হবে, ততই কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যারা পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবেন, ভবিষ্যতের কর্মবাজারে তাদের সুযোগও তুলনামূলক বেশি থাকবে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শেষ পর্যন্ত কর্মসংস্থানের জন্য আশীর্বাদ হবে, নাকি বড় সংকট তৈরি করবে—এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে অর্থনীতিবিদদের অভিন্ন মত হলো, প্রযুক্তির গতি অত্যন্ত দ্রুত, তাই সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মীদের এখন থেকেই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। ভবিষ্যতের কর্মবাজারে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হবে নতুন দক্ষতা অর্জন, অভিযোজনক্ষমতা এবং মানবিক সক্ষমতার বিকাশ।