ইউরোপজুড়ে চলমান নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। রেকর্ড ভাঙা উচ্চ তাপমাত্রার কারণে বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন। বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলছে, বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না এবং প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশিত হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে।
তাপপ্রবাহের প্রভাবে জুনের শেষ সপ্তাহে ফ্রান্সে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট জানান, ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে আগের সপ্তাহের তুলনায় অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ
ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় মৃত্যুর হার ২৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। সংস্থাটির মতে, বর্তমান পরিসংখ্যানও প্রকৃত পরিস্থিতির তুলনায় কম হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যেও মৃত্যুহার বাড়ছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটছে।
ইউরোপের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ চরম গরমে
এএফপির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৫ থেকে ৩০ জুনের মধ্যে ইউরোপের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এমন অঞ্চলে বসবাস করেছে, যেখানে তাপমাত্রা অন্তত ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল।
এই বিশ্লেষণ তৈরি করা হয়েছে ইউরোপীয় ড্রাউট অবজারভেটরি এবং জয়েন্ট রিসার্চ সেন্টারের জনসংখ্যা-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে। দীর্ঘস্থায়ী এই তাপপ্রবাহ ইউরোপজুড়ে জনস্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিভিন্ন অবকাঠামোর ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

২০০৩ সালের স্মৃতি ফিরে আসছে
এর আগে ২০০৩ সালের আগস্টে ১৬ দিনব্যাপী ভয়াবহ তাপপ্রবাহ ইউরোপে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটিয়েছিল। শুধু ফ্রান্সেই তখন প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
বর্তমান তাপপ্রবাহকে অনেক ক্ষেত্রেই আরও তীব্র বলে মনে করা হলেও ফরাসি কর্তৃপক্ষের ধারণা, এখন পর্যন্ত এর সামগ্রিক প্রভাব ২০০৩ সালের বিপর্যয়ের সমপর্যায়ে পৌঁছাবে না।
ইউরোপজুড়ে বাড়ছে অতিরিক্ত মৃত্যু
বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্স মিলিয়ে জুন মাসে তাপপ্রবাহের সময় প্রায় ৩ হাজার ৭০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বেলজিয়ামে ১৮ থেকে ২৯ জুনের মধ্যে মৃত্যুর হার স্বাভাবিকের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে অতিরিক্ত ১ হাজার ২২২ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। মৃতদের প্রায় অর্ধেকেরই বয়স ছিল ৮৫ বছর বা তার বেশি।
বেলজিয়ামের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের ইতিহাসে কোনো তাপপ্রবাহে এত বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা আগে দেখা যায়নি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ইউরোপে ঘন ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করেছিলেন। চলমান পরিস্থিতি সেই উদ্বেগকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
ইউরোপজুড়ে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ একাধিক দেশে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বয়স্করা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















