০৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজনীতির নতুন সূত্র: ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাংসের জোগান বইয়ের পাতার মতোই মুগ্ধতা ছড়ায় বিশ্বের ৭ অপূর্ব গ্রন্থাগার লুলুলেমন আনল ‘বিগ-অ্যাস ব্যাগ’, ৮০ লিটারের বিশাল টোট ব্যাগে ঢুকবে যেন পুরো সংসার শিশুদের মুখে নতুন হাসি, মিশিগানে ম্যাগির উইগস ৪ কিডস-এর ২৩তম বার্ষিক গালা নাসার রোমান টেলিস্কোপের নতুন ঠিকানার পথে তিন মাসের মহাকাশযাত্রা মাত্র ১০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ‘কিউটি পাই’ গোলাপ, ছোট বাগান সাজাতে দারুণ প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে স্বনির্ভর করতে অভিভাবকের যে ৬টি পদক্ষেপ জরুরি বাড়িতে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান থাকলে সম্পর্ক ভালো রাখার উপায় জলবায়ু পরিবর্তনে আরও শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো, হাজার বছরের প্রবাল রেকর্ডে মিলল প্রমাণ স্কুলের নকশাই গড়ে তুলতে পারে সংস্কৃতি, পরিচয় ও আপন হওয়ার অনুভূতি

প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে স্বনির্ভর করতে অভিভাবকের যে ৬টি পদক্ষেপ জরুরি

সন্তান বড় হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে, কিন্তু এখনো নিজের খরচ চালাতে পারছে না, চাকরি খুঁজছে না কিংবা সব দায়িত্ব বাবা-মায়ের ওপর ছেড়ে দিয়েছে—এমন পরিস্থিতি অনেক পরিবারের জন্যই কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সন্তানকে ভালোবাসা ও সহযোগিতা করতে গিয়ে অনেক বাবা-মা কখন যে তার যাবতীয় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন, তা বুঝতেই পারেন না।

অবশ্য আর্থিক বা পারিবারিক প্রয়োজনে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেই পারে। পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এমন সহাবস্থানে সমস্যা নেই। কিন্তু সন্তান যদি ক্রমাগত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং বিষয়টি বাবা-মায়ের জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে, তখন কিছু সীমারেখা নির্ধারণ করা জরুরি।

প্রথম পদক্ষেপ: নিজের অবস্থান বুঝুন

প্রথমেই বাবা-মাকে নিজেদের পরিস্থিতি পরিষ্কারভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। সন্তানের আচরণ কি আপনার ব্যক্তিগত সীমা অতিক্রম করছে? তাকে বাড়িতে থাকতে দিলে আপনি কি কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম করতে প্রস্তুত? আপনার সন্তান কি সত্যিই স্বনির্ভর হতে চাইছে, নাকি আপনার ওপর নির্ভর করেই স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে চাইছে?

আবার পরিস্থিতি যদি এতটাই খারাপ হয়ে থাকে যে বাড়িতে থাকা আপনার নিরাপত্তা, মানসিক শান্তি বা পারিবারিক পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাহলে দ্রুত এবং নিরাপদভাবে আলাদা থাকার ব্যবস্থা করাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

আপনি কোন অবস্থায় আছেন, তার ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।

Stop Enabling Adult Children: Set Boundaries | BetterHelp

দ্বিতীয় পদক্ষেপ: সন্তানকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলান

অনেক বাবা-মা প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকেও ছোট শিশু হিসেবে ভাবতে থাকেন। মনে হয়, তাকে একটু কষ্ট করতে দিলে সে হয়তো সামলাতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ এবং নিজের জীবনের দায়িত্ব নেওয়ার সামর্থ্য তার রয়েছে।

অতিরিক্তভাবে তাকে অক্ষম মনে করা বরং তার স্বনির্ভর হওয়ার পথে বাধা তৈরি করতে পারে। বাবা-মা যখন প্রতিটি সমস্যার সমাধান করে দেন, তখন সন্তান নিজে সমস্যা মোকাবিলা করার সুযোগ পায় না।

নতুন দায়িত্ব নেওয়ার কারণে সন্তান কিছুটা অস্বস্তি বোধ করতেই পারে। কিন্তু সেই অস্বস্তি সব সময় খারাপ নয়। বরং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রেরণা অনেক সময় সেখান থেকেই তৈরি হয়।

তৃতীয় পদক্ষেপ: নিজের আবেগের দুর্বল জায়গাগুলো চিনুন

সন্তানকে সাহায্য করতে গিয়ে কোন আবেগ আপনাকে বারবার সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করে, সেটি আগে থেকেই বুঝে নেওয়া জরুরি।

কারও ক্ষেত্রে সন্তানের প্রতি মায়া কাজ করে, কারও ক্ষেত্রে অপরাধবোধ, আবার কারও ক্ষেত্রে ভয়—সন্তান যদি টাকা না পায়, তাহলে কী হবে, সে কোথায় থাকবে, কী খাবে—এসব চিন্তা বাবা-মাকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

তাই আগে থেকেই ঠিক করতে হবে, কোন বিষয়গুলোতে আপনি আপস করবেন না এবং কোন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে আপনি সত্যিই প্রস্তুত।

একজন অভিভাবক যেমন বুঝতে পারেন, তিনি সন্তানের অতিরিক্ত খরচ বন্ধ করতে পারবেন, কিন্তু তাকে রাস্তায় থাকতে দিতে পারবেন না। সেই অনুযায়ী তিনি সীমা নির্ধারণ করতে পারেন। অর্থাৎ নিজের সামর্থ্য ও মানসিক সীমা বুঝে নিয়ম তৈরি করাই গুরুত্বপূর্ণ।

চতুর্থ পদক্ষেপ: সীমারেখা স্পষ্ট করে দিন

নতুন নিয়ম কী হবে, তা প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে। সন্তান যদি আলাদা বাড়িতে থেকেও বাবা-মায়ের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেয়, তাহলে কোন খরচ আপনি বহন করবেন আর কোনটি করবেন না—সেটি স্পষ্ট করা দরকার।

প্রয়োজনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনতে পারেন। খাবারের মতো মৌলিক প্রয়োজনের খরচ বন্ধ করা কঠিন হলে শুরুতে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো যেতে পারে। যেমন অতিরিক্ত যোগাযোগের খরচ, বিনোদন, ব্যক্তিগত সাজসজ্জা, যাতায়াতের বিল কিংবা অন্যান্য বিলাসী ব্যয়।

সন্তানেরও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ, সহায়তা বা বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা খুঁজে নেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে।

আর সন্তান যদি বাবা-মায়ের বাড়িতেই থাকে, তাহলে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে একটি পরিষ্কার সমঝোতা করা যেতে পারে। সেখানে থাকা, খরচ, ঘরের কাজ, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং দায়িত্ব—সবকিছু নির্দিষ্ট থাকবে।

এভাবে সন্তানকে শুধু ‘সন্তান’ হিসেবে নয়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দা হিসেবে দেখলে আবেগের প্রভাব কমে এবং সম্পর্কের সীমারেখাও পরিষ্কার হয়।

পঞ্চম পদক্ষেপ: ‘বাবা-মায়ের টাকা’ ব্যবস্থাটি বন্ধ করুন

Your adult child resents the way you parented them. Here's how to handle it.

প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে স্বনির্ভর করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হলো তার অপ্রয়োজনীয় খরচের দায়িত্ব নিজের কাঁধ থেকে নামিয়ে দেওয়া।

মুঠোফোন, উচ্চগতির ইন্টারনেট, দামি পোশাক, বিনোদন, প্রসাধনী, ব্যক্তিগত সাজসজ্জা কিংবা অন্যান্য বিলাসী জিনিস—সবকিছু বাবা-মাকেই দিতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই।

সন্তানের কাছে এসব জিনিস প্রয়োজনীয় মনে হতে পারে। কিন্তু প্রয়োজনীয়তা আর ইচ্ছা এক বিষয় নয়। টাকা না থাকলে কম খরচের পোশাক পরা, গণপরিবহন ব্যবহার করা কিংবা সাশ্রয়ী খাবার খাওয়ার মতো বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

অনেক সময় সন্তান বুঝতে পারে, বাবা-মাকে চাপ দিলেই টাকা পাওয়া যায়। কারণ বাবা-মায়ের আবেগের জায়গাগুলো সে অন্য কারও তুলনায় ভালোভাবে জানে। তাই সেই আবেগকে কাজে লাগিয়ে নির্ভরশীলতার অভ্যাস তৈরি হতে পারে।

এই ব্যবস্থা বন্ধ হলে সন্তানকে নিজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য চাকরি, পড়াশোনা, অতিরিক্ত কাজ কিংবা অন্য কোনো আয়ের পথ খুঁজতে উৎসাহিত হতে হয়।

অস্বস্তি সব সময় ক্ষতিকর নয়। কখনো কখনো অস্বস্তিই মানুষকে পরিবর্তনের দিকে ঠেলে দেয়।

ষষ্ঠ পদক্ষেপ: কখন বলতে হবে ‘এবার যথেষ্ট’

কিছু পরিস্থিতিতে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান শুধু নির্ভরশীলই নয়, বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করতে পারে। গালাগালি, ভয় দেখানো, হুমকি কিংবা শারীরিক নির্যাতনের মতো পরিস্থিতিতে বাবা-মায়ের নিরাপত্তা সবার আগে।

নিজের বাড়িতে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার অধিকার বাবা-মায়েরও রয়েছে। তাই নির্যাতন বা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হলে দৃঢ় সীমারেখা তৈরি করা জরুরি।

আবার সন্তান নির্যাতন না করলেও যদি বছরের পর বছর শুধু নিয়ে যায়, কিন্তু পরিবারকে কোনোভাবে সহযোগিতা না করে, তাহলেও বাবা-মায়ের নিজের জীবন ফিরে পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

সন্তানকে স্বনির্ভর হতে বলা নিষ্ঠুরতা নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি তার ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা।

সন্তানকে বাড়ি ছাড়তে হলে কী করবেন

যদি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে সন্তানকে আলাদা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাহলে আবেগের বশে হঠাৎ সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগে পরিকল্পনা করা উচিত।

সন্তান সাধারণত অপরাধবোধ, মায়া কিংবা ভয়ের জায়গায় বাবা-মাকে চাপ দিতে পারে। তাই আগে থেকেই নিজের সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে হবে।

প্রয়োজনে স্থানীয় আইন ও বাড়ি থেকে কাউকে সরিয়ে দেওয়ার বিধি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য নিতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে বসবাস করলে তাকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়া বা বাসিন্দা-সংক্রান্ত আইন প্রযোজ্য হতে পারে। তাই নিজের দেশের ও এলাকার আইন মেনে পদক্ষেপ নেওয়াই নিরাপদ।

সন্তানের কাছ থেকে সহিংসতার আশঙ্কা থাকলে একা কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং প্রয়োজনে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বা পারিবারিক সহিংসতা মোকাবিলায় কাজ করা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিতে হবে।

Key Components of a Shared Custody Agreement | JA Attorneys

বাবা-মায়ের মধ্যে ঐকমত্যও জরুরি

স্বামী-স্ত্রী বা দীর্ঘদিনের সঙ্গীর মধ্যে একজন যদি সন্তানকে স্বনির্ভর করতে চান, আর অন্যজন প্রতিবার তাকে অর্থ বা সুবিধা দিতে থাকেন, তাহলে কোনো নিয়মই কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তাই দুজনের মধ্যে আগে আলোচনা করে একটি অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো জরুরি। প্রয়োজন হলে পারিবারিক পরামর্শও নেওয়া যেতে পারে।

ভালোবাসার অর্থ সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়া নয়

আজকের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অনেক তরুণ-তরুণীর জন্য স্বনির্ভর হওয়া সত্যিই কঠিন। পরিবার একে অন্যকে সহযোগিতা করবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সহযোগিতা আর আজীবন নির্ভরশীলতা এক জিনিস নয়।

জীবনে সব ইচ্ছা সঙ্গে সঙ্গে পূরণ হবে না—এই শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থ না থাকলে কিছুদিন কম খরচে চলতে হবে, প্রয়োজনে বাড়তি কাজ করতে হবে, পড়াশোনা বা দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং নিজের ভবিষ্যতের জন্য নিজেকেই উদ্যোগী হতে হবে।

অভিভাবকের দায়িত্ব শুধু সন্তানকে নিরাপদে বড় করা নয়, একসময় তাকে নিজের জীবন সামলানোর মতো সক্ষম করে তোলাও।

তাই সন্তানের প্রতি ভালোবাসা থেকেই কখনো কখনো ‘না’ বলতে হয়। তাকে সব কষ্ট থেকে রক্ষা করা নয়, বরং প্রয়োজনীয় কষ্ট মোকাবিলা করার ক্ষমতা অর্জনের সুযোগ দেওয়াও ভালোবাসারই একটি রূপ।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনীতির নতুন সূত্র: ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাংসের জোগান

প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে স্বনির্ভর করতে অভিভাবকের যে ৬টি পদক্ষেপ জরুরি

০৩:৫৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সন্তান বড় হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে, কিন্তু এখনো নিজের খরচ চালাতে পারছে না, চাকরি খুঁজছে না কিংবা সব দায়িত্ব বাবা-মায়ের ওপর ছেড়ে দিয়েছে—এমন পরিস্থিতি অনেক পরিবারের জন্যই কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সন্তানকে ভালোবাসা ও সহযোগিতা করতে গিয়ে অনেক বাবা-মা কখন যে তার যাবতীয় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন, তা বুঝতেই পারেন না।

অবশ্য আর্থিক বা পারিবারিক প্রয়োজনে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেই পারে। পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এমন সহাবস্থানে সমস্যা নেই। কিন্তু সন্তান যদি ক্রমাগত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং বিষয়টি বাবা-মায়ের জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে, তখন কিছু সীমারেখা নির্ধারণ করা জরুরি।

প্রথম পদক্ষেপ: নিজের অবস্থান বুঝুন

প্রথমেই বাবা-মাকে নিজেদের পরিস্থিতি পরিষ্কারভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। সন্তানের আচরণ কি আপনার ব্যক্তিগত সীমা অতিক্রম করছে? তাকে বাড়িতে থাকতে দিলে আপনি কি কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম করতে প্রস্তুত? আপনার সন্তান কি সত্যিই স্বনির্ভর হতে চাইছে, নাকি আপনার ওপর নির্ভর করেই স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে চাইছে?

আবার পরিস্থিতি যদি এতটাই খারাপ হয়ে থাকে যে বাড়িতে থাকা আপনার নিরাপত্তা, মানসিক শান্তি বা পারিবারিক পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাহলে দ্রুত এবং নিরাপদভাবে আলাদা থাকার ব্যবস্থা করাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

আপনি কোন অবস্থায় আছেন, তার ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।

Stop Enabling Adult Children: Set Boundaries | BetterHelp

দ্বিতীয় পদক্ষেপ: সন্তানকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলান

অনেক বাবা-মা প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকেও ছোট শিশু হিসেবে ভাবতে থাকেন। মনে হয়, তাকে একটু কষ্ট করতে দিলে সে হয়তো সামলাতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ এবং নিজের জীবনের দায়িত্ব নেওয়ার সামর্থ্য তার রয়েছে।

অতিরিক্তভাবে তাকে অক্ষম মনে করা বরং তার স্বনির্ভর হওয়ার পথে বাধা তৈরি করতে পারে। বাবা-মা যখন প্রতিটি সমস্যার সমাধান করে দেন, তখন সন্তান নিজে সমস্যা মোকাবিলা করার সুযোগ পায় না।

নতুন দায়িত্ব নেওয়ার কারণে সন্তান কিছুটা অস্বস্তি বোধ করতেই পারে। কিন্তু সেই অস্বস্তি সব সময় খারাপ নয়। বরং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রেরণা অনেক সময় সেখান থেকেই তৈরি হয়।

তৃতীয় পদক্ষেপ: নিজের আবেগের দুর্বল জায়গাগুলো চিনুন

সন্তানকে সাহায্য করতে গিয়ে কোন আবেগ আপনাকে বারবার সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করে, সেটি আগে থেকেই বুঝে নেওয়া জরুরি।

কারও ক্ষেত্রে সন্তানের প্রতি মায়া কাজ করে, কারও ক্ষেত্রে অপরাধবোধ, আবার কারও ক্ষেত্রে ভয়—সন্তান যদি টাকা না পায়, তাহলে কী হবে, সে কোথায় থাকবে, কী খাবে—এসব চিন্তা বাবা-মাকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

তাই আগে থেকেই ঠিক করতে হবে, কোন বিষয়গুলোতে আপনি আপস করবেন না এবং কোন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে আপনি সত্যিই প্রস্তুত।

একজন অভিভাবক যেমন বুঝতে পারেন, তিনি সন্তানের অতিরিক্ত খরচ বন্ধ করতে পারবেন, কিন্তু তাকে রাস্তায় থাকতে দিতে পারবেন না। সেই অনুযায়ী তিনি সীমা নির্ধারণ করতে পারেন। অর্থাৎ নিজের সামর্থ্য ও মানসিক সীমা বুঝে নিয়ম তৈরি করাই গুরুত্বপূর্ণ।

চতুর্থ পদক্ষেপ: সীমারেখা স্পষ্ট করে দিন

নতুন নিয়ম কী হবে, তা প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে। সন্তান যদি আলাদা বাড়িতে থেকেও বাবা-মায়ের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেয়, তাহলে কোন খরচ আপনি বহন করবেন আর কোনটি করবেন না—সেটি স্পষ্ট করা দরকার।

প্রয়োজনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনতে পারেন। খাবারের মতো মৌলিক প্রয়োজনের খরচ বন্ধ করা কঠিন হলে শুরুতে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো যেতে পারে। যেমন অতিরিক্ত যোগাযোগের খরচ, বিনোদন, ব্যক্তিগত সাজসজ্জা, যাতায়াতের বিল কিংবা অন্যান্য বিলাসী ব্যয়।

সন্তানেরও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ, সহায়তা বা বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা খুঁজে নেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে।

আর সন্তান যদি বাবা-মায়ের বাড়িতেই থাকে, তাহলে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে একটি পরিষ্কার সমঝোতা করা যেতে পারে। সেখানে থাকা, খরচ, ঘরের কাজ, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং দায়িত্ব—সবকিছু নির্দিষ্ট থাকবে।

এভাবে সন্তানকে শুধু ‘সন্তান’ হিসেবে নয়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দা হিসেবে দেখলে আবেগের প্রভাব কমে এবং সম্পর্কের সীমারেখাও পরিষ্কার হয়।

পঞ্চম পদক্ষেপ: ‘বাবা-মায়ের টাকা’ ব্যবস্থাটি বন্ধ করুন

Your adult child resents the way you parented them. Here's how to handle it.

প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে স্বনির্ভর করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হলো তার অপ্রয়োজনীয় খরচের দায়িত্ব নিজের কাঁধ থেকে নামিয়ে দেওয়া।

মুঠোফোন, উচ্চগতির ইন্টারনেট, দামি পোশাক, বিনোদন, প্রসাধনী, ব্যক্তিগত সাজসজ্জা কিংবা অন্যান্য বিলাসী জিনিস—সবকিছু বাবা-মাকেই দিতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই।

সন্তানের কাছে এসব জিনিস প্রয়োজনীয় মনে হতে পারে। কিন্তু প্রয়োজনীয়তা আর ইচ্ছা এক বিষয় নয়। টাকা না থাকলে কম খরচের পোশাক পরা, গণপরিবহন ব্যবহার করা কিংবা সাশ্রয়ী খাবার খাওয়ার মতো বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

অনেক সময় সন্তান বুঝতে পারে, বাবা-মাকে চাপ দিলেই টাকা পাওয়া যায়। কারণ বাবা-মায়ের আবেগের জায়গাগুলো সে অন্য কারও তুলনায় ভালোভাবে জানে। তাই সেই আবেগকে কাজে লাগিয়ে নির্ভরশীলতার অভ্যাস তৈরি হতে পারে।

এই ব্যবস্থা বন্ধ হলে সন্তানকে নিজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য চাকরি, পড়াশোনা, অতিরিক্ত কাজ কিংবা অন্য কোনো আয়ের পথ খুঁজতে উৎসাহিত হতে হয়।

অস্বস্তি সব সময় ক্ষতিকর নয়। কখনো কখনো অস্বস্তিই মানুষকে পরিবর্তনের দিকে ঠেলে দেয়।

ষষ্ঠ পদক্ষেপ: কখন বলতে হবে ‘এবার যথেষ্ট’

কিছু পরিস্থিতিতে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান শুধু নির্ভরশীলই নয়, বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করতে পারে। গালাগালি, ভয় দেখানো, হুমকি কিংবা শারীরিক নির্যাতনের মতো পরিস্থিতিতে বাবা-মায়ের নিরাপত্তা সবার আগে।

নিজের বাড়িতে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার অধিকার বাবা-মায়েরও রয়েছে। তাই নির্যাতন বা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হলে দৃঢ় সীমারেখা তৈরি করা জরুরি।

আবার সন্তান নির্যাতন না করলেও যদি বছরের পর বছর শুধু নিয়ে যায়, কিন্তু পরিবারকে কোনোভাবে সহযোগিতা না করে, তাহলেও বাবা-মায়ের নিজের জীবন ফিরে পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

সন্তানকে স্বনির্ভর হতে বলা নিষ্ঠুরতা নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি তার ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা।

সন্তানকে বাড়ি ছাড়তে হলে কী করবেন

যদি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে সন্তানকে আলাদা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাহলে আবেগের বশে হঠাৎ সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগে পরিকল্পনা করা উচিত।

সন্তান সাধারণত অপরাধবোধ, মায়া কিংবা ভয়ের জায়গায় বাবা-মাকে চাপ দিতে পারে। তাই আগে থেকেই নিজের সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে হবে।

প্রয়োজনে স্থানীয় আইন ও বাড়ি থেকে কাউকে সরিয়ে দেওয়ার বিধি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য নিতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে বসবাস করলে তাকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়া বা বাসিন্দা-সংক্রান্ত আইন প্রযোজ্য হতে পারে। তাই নিজের দেশের ও এলাকার আইন মেনে পদক্ষেপ নেওয়াই নিরাপদ।

সন্তানের কাছ থেকে সহিংসতার আশঙ্কা থাকলে একা কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং প্রয়োজনে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বা পারিবারিক সহিংসতা মোকাবিলায় কাজ করা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিতে হবে।

Key Components of a Shared Custody Agreement | JA Attorneys

বাবা-মায়ের মধ্যে ঐকমত্যও জরুরি

স্বামী-স্ত্রী বা দীর্ঘদিনের সঙ্গীর মধ্যে একজন যদি সন্তানকে স্বনির্ভর করতে চান, আর অন্যজন প্রতিবার তাকে অর্থ বা সুবিধা দিতে থাকেন, তাহলে কোনো নিয়মই কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তাই দুজনের মধ্যে আগে আলোচনা করে একটি অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো জরুরি। প্রয়োজন হলে পারিবারিক পরামর্শও নেওয়া যেতে পারে।

ভালোবাসার অর্থ সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়া নয়

আজকের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অনেক তরুণ-তরুণীর জন্য স্বনির্ভর হওয়া সত্যিই কঠিন। পরিবার একে অন্যকে সহযোগিতা করবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সহযোগিতা আর আজীবন নির্ভরশীলতা এক জিনিস নয়।

জীবনে সব ইচ্ছা সঙ্গে সঙ্গে পূরণ হবে না—এই শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থ না থাকলে কিছুদিন কম খরচে চলতে হবে, প্রয়োজনে বাড়তি কাজ করতে হবে, পড়াশোনা বা দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং নিজের ভবিষ্যতের জন্য নিজেকেই উদ্যোগী হতে হবে।

অভিভাবকের দায়িত্ব শুধু সন্তানকে নিরাপদে বড় করা নয়, একসময় তাকে নিজের জীবন সামলানোর মতো সক্ষম করে তোলাও।

তাই সন্তানের প্রতি ভালোবাসা থেকেই কখনো কখনো ‘না’ বলতে হয়। তাকে সব কষ্ট থেকে রক্ষা করা নয়, বরং প্রয়োজনীয় কষ্ট মোকাবিলা করার ক্ষমতা অর্জনের সুযোগ দেওয়াও ভালোবাসারই একটি রূপ।