চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চীনের দ্রুত শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি নতুন পথ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, কয়েক দশকের মধ্যেই চীন এমন উন্নয়ন অর্জন করেছে, যা অনেক ধনী দেশের ক্ষেত্রে শতাব্দীর পর শতাব্দী সময় লেগেছে।
বুধবার রাজধানী বেইজিংয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শি জিনপিং বলেন, মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে চীন নিজস্ব অভিজ্ঞতা, সমাধান এবং সক্ষমতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরছে। তাঁর মতে, বৈশ্বিক নানা সংকট মোকাবিলায় চীনের অভিজ্ঞতা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কার্যকর দৃষ্টান্ত হতে পারে।
বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তনের বার্তা
ভাষণে শি জিনপিং বলেন, বর্তমান বিশ্ব অস্থিরতা ও পরিবর্তনের নতুন এক সময়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে মানবজাতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং নতুন ধরনের উন্নয়ন ভাবনার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসা চীন আবারও জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করা নয়; বরং এমনভাবে পরিবর্তন করা, যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়।
চীনের অবস্থান আরও দৃঢ়
শি জিনপিংয়ের বক্তব্যে চীনের বাড়তে থাকা আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলনও স্পষ্ট হয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের সময় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক নিয়ে অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়েছিল ওয়াশিংটনকে। সেই অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটও চীনের বর্তমান আত্মবিশ্বাসকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামরিক শক্তি বাড়ানোর ওপর জোর
ভাষণে শি জিনপিং শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষ মানের সামরিক সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে আধুনিকায়নের গতি আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব অটুট রাখার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
তাইওয়ানকে চীনের নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যও তিনি আবারও উল্লেখ করেন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিংয়ের অন্যতম প্রধান নীতিগত অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সামরিক বাহিনীর একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে নেওয়া এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বাহিনীর শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা।
কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই ভাষণে শি জিনপিং উন্নয়ন, সামরিক শক্তি, আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রশ্নে চীনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অবস্থান আবারও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শি জিনপিং উন্নয়ন, সামরিক শক্তি ও বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তনের পক্ষে চীনের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















