মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মতো নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহৃত বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে সফর করেছেন। কাতারের উপহার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আসা এই বিমানকে প্রায় ৪০ কোটি ডলার ব্যয়ে আধুনিক নিরাপত্তা ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বুধবার উত্তর ডাকোটায় সফরের মধ্য দিয়ে বিমানটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
নতুন রূপে প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ
এই উড়োজাহাজে নতুন প্রজন্মের নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। ফলে আকাশে থেকেও প্রেসিডেন্ট নিরাপদ কণ্ঠ ও ভিডিও যোগাযোগ করতে পারবেন। বিমানটির ভেতরেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। রয়েছে আরামদায়ক চামড়ার আসন, বই রাখার তাক এবং নতুনভাবে সাজানো কেবিন। সংবাদমাধ্যমের জন্য নির্ধারিত অংশও আগের চেয়ে বড় করা হয়েছে।
বাইরের রঙেও এসেছে পরিবর্তন। আগের সাদা ও হালকা নীল নকশার বদলে লাল, সাদা, গাঢ় নীল ও সোনালি রঙ ব্যবহার করা হয়েছে, যা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের নকশার সঙ্গে মিল রয়েছে।
কেন এ বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে
বর্তমানে এটি অস্থায়ীভাবে প্রেসিডেন্টের সরকারি উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। নতুন দুটি প্রেসিডেন্টীয় বিমান তৈরির কাজ শেষ হতে এখনও সময় লাগবে। সেই কারণে এই বোয়িং ৭৪৭-৮-কে দ্রুত আধুনিকায়ন করে দায়িত্বে আনা হয়েছে।
এই বিমানটি সেই বোয়িং ৭৪৭-২০০-এর জায়গা নিচ্ছে, যা জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশের আমল থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বহন করে আসছিল।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সমাধান
প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদ থেকেই ট্রাম্প নতুন সরকারি উড়োজাহাজ চেয়ে আসছিলেন। নতুন বিমান তৈরির প্রকল্প নানা কারণে বিলম্বিত হওয়ায় বিকল্প পথ খুঁজতে হয়। নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ আর উৎপাদিত না হওয়ায় ব্যবহৃত বিমানের বাজার থেকে উপযুক্ত একটি উড়োজাহাজ বেছে নেওয়া হয়। পরে কাতারের ভিআইপি বহরে থাকা এই বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আসে এবং ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের উপযোগী করা হয়।
উপহার ঘিরে বিতর্ক
কাতারের কাছ থেকে এই বিমান গ্রহণের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের অনেকে জাতীয় নিরাপত্তা ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ট্রাম্প এসব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, আধুনিক ও শক্তিশালী এই উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদার প্রতীক হওয়া উচিত।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, বিমানটিতে এমন সব নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রেসিডেন্টের যেকোনো সরকারি দায়িত্ব নিরাপদভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন। তাই এটি এখন বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত ও আধুনিক সরকারি উড়োজাহাজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্পের নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ প্রথম উড়ান। কাতারের উপহারের বোয়িং ৭৪৭-৮-কে ৪০ কোটি ডলার ব্যয়ে আধুনিক করে প্রেসিডেন্টের সরকারি ব্যবহারে আনা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















