০৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার টন গম কিনছে সরকার, ব্যয় ১,০৫২ কোটি টাকা আপন আপন দেশ, এক হৃদয়ের টান: জাপানের ‘লিটল ব্রাজিল’-এ বিশ্বকাপ ঘিরে আবেগের লড়াই আমেরিকার স্বাধীনতার ইতিহাসের স্বাদ, আজও জীবন্ত ১৭৭৬ সালের ঐতিহ্যবাহী পানশালাগুলো চীনের কম খরচের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্র, জনপ্রিয়তায় দ্রুত বাড়ছে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতীকী মূল্যে জলিল টেক্সটাইলের ৫৪.৯৯ একর জমি পাচ্ছে সেনাবাহিনী, মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পূর্বাচল যুক্ত হচ্ছে ঢাকার সঙ্গে, ডিএমপির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু সরকারি আবাসনে জায়গা দখল ও বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আপডেটের সুযোগ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত: মেয়াদোত্তীর্ণ ওয়ার্ক পারমিট নিয়মিত করার সময় বাড়াল সৌদি আরব চীনের প্রকৃত শক্তি কি অর্থনীতি, নাকি তার পরিচয়? আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা, নতুন করে উত্তেজনা

অন্ধকার সময়েও স্বাধীনতার আলো নিভে যায় না

স্বাধীনতা কেবল একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা নয়; এটি মূলত একটি মানসিক ও নৈতিক অভ্যাস। সংবিধান, আদালত কিংবা নির্বাচনী প্রক্রিয়া একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের কাঠামো গড়ে দিতে পারে, কিন্তু সেই রাষ্ট্রকে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন রাখে নাগরিকদের চরিত্র, নেতৃত্বের সততা এবং ভিন্নমতকে সম্মান করার সংস্কৃতি। ইতিহাসের প্রতিটি সন্ধিক্ষণ আমাদের এই সত্যের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

একটি দেশের ২৫০ বছরের যাত্রাপথ উদযাপনের আগে সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন হওয়া উচিত—আমরা কতটা শক্তিশালী হয়েছি, তা নয়; বরং স্বাধীনতার মূল্যবোধকে কতটা অক্ষুণ্ন রাখতে পেরেছি। কারণ কোনো জাতির প্রকৃত শক্তি তার সামরিক ক্ষমতা বা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়। সেই শক্তি নির্ভর করে তার গণতান্ত্রিক চর্চা, আত্মসমালোচনার ক্ষমতা এবং নাগরিকদের নৈতিক সাহসের ওপর।

এই কারণেই রাষ্ট্রনেতার চরিত্র এত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতা যত বড় হয়, সংযমের প্রয়োজনও তত বেড়ে যায়। একজন নেতা যদি ব্যক্তিগত অহংকারকে রাষ্ট্রের মর্যাদার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন, যদি আইনকে নিজের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করেন অথবা রাজনৈতিক নাটককে বাস্তব নেতৃত্বের বিকল্প মনে করেন, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে। নেতৃত্বের আসল পরিচয় ক্ষমতার প্রদর্শনে নয়; বরং ক্ষমতার সীমা মেনে চলার মধ্যেই।

একইভাবে নাগরিকদেরও নিজেদের সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নিতে হয়। গণতন্ত্রে ভোট দেওয়ার অধিকার যেমন মূল্যবান, তেমনি সেই সিদ্ধান্তের ফলও নিজের বলে মেনে নেওয়া জরুরি। প্রতিটি ব্যর্থতার জন্য অন্যকে দোষারোপ করা কিংবা নিজেকে চিরকাল ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করা স্বাধীন সমাজের বৈশিষ্ট্য নয়। একটি পরিণত গণতন্ত্রে স্বাধীনতার সঙ্গে জবাবদিহিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাসের প্রতিও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত ভারসাম্যপূর্ণ। অতীতকে অন্ধভাবে মহিমান্বিত করাও যেমন ভুল, তেমনি শুধুমাত্র বর্তমানের মানদণ্ডে দাঁড়িয়ে অতীতের সব অর্জনকে অস্বীকার করাও সমান ক্ষতিকর। একটি জাতি তার ইতিহাসের সফলতা ও সীমাবদ্ধতা—দুই থেকেই শিক্ষা নেয়। প্রতিষ্ঠাতাদের অবদানকে স্বীকার করেও তাদের ভুল নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব। গণতন্ত্রের শক্তি এখানেই যে, এটি নিজেকে সংশোধনের সুযোগ তৈরি করে।

একটি মুক্ত সমাজ স্বভাবতই উন্মুক্ত হয়। নতুন মানুষ, নতুন ধারণা এবং নতুন প্রতিযোগিতাকে ভয় পেলে সেই সমাজ ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে পড়ে। উন্মুক্ততা মানে নিজের বিশ্বাস বিসর্জন দেওয়া নয়; বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অন্যের মতামত শুনতে পারা। যে সমাজ নতুন চিন্তাকে স্বাগত জানায়, সৃজনশীলতাকে উৎসাহ দেয় এবং উদ্যোগকে মূল্য দেয়, সেই সমাজই দীর্ঘমেয়াদে সমৃদ্ধ হয়।

5,444 Freedom Release Stock Photos - Free & Royalty-Free Stock Photos from  Dreamstime

বিশ্ব রাজনীতির ক্ষেত্রেও স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ানো মানে শুধু শত্রুর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া নয়; বরং বন্ধুদের সম্মান করা এবং নীতিকে শক্তির চেয়ে বড় মনে করা। আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব কেবল সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় না। বিশ্বাসযোগ্যতা, ধারাবাহিকতা এবং নৈতিক অবস্থানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যে রাষ্ট্র স্বাধীনতার আদর্শকে ধারণ করে, বিশ্বের নিপীড়িত মানুষ প্রায়ই সেই রাষ্ট্রের দিকেই আশার চোখে তাকায়।

দেশের ভেতরেও স্বাধীনতার জন্য সমান সতর্কতা প্রয়োজন। গণতন্ত্রের জন্য হুমকি কেবল সহিংস উগ্রবাদ বা অস্ত্রধারী গোষ্ঠী নয়। মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা, ভিন্নমতকে চুপ করিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি এবং আদর্শগত শুদ্ধতার নামে চিন্তার ওপর চাপও স্বাধীনতার জন্য সমান বিপজ্জনক। বাকস্বাধীনতার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু গ্রহণযোগ্য মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা নয়; বরং ভুল, অজনপ্রিয় কিংবা বিতর্কিত মত প্রকাশের সুযোগও রক্ষা করা। কারণ সত্যের অনুসন্ধান কখনো একরৈখিক নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়, সংবাদমাধ্যম এবং অন্যান্য জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বও এখানেই। তাদের কাজ কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রচার করা নয়; বরং প্রশ্ন করার অভ্যাস তৈরি করা, যুক্তির পরীক্ষা নেওয়া এবং স্বাধীন অনুসন্ধানের পরিবেশ বজায় রাখা। বৌদ্ধিক স্বাধীনতা হারালে রাজনৈতিক স্বাধীনতাও দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

জাতীয় পরিচয়ও কেবল অতীতের উত্তরাধিকার দিয়ে নির্ধারিত হতে পারে না। একজন মানুষ কোথা থেকে এসেছে, তার পূর্বপুরুষদের ইতিহাস কী ছিল—এসব গুরুত্বপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত একটি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যায় ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষা। স্বাধীন সমাজ মানুষের সামনে নিজের ভাগ্য নিজে গড়ার সুযোগ তৈরি করে। সেই সম্ভাবনাই জাতীয় পরিচয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।

সবশেষে স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আশাবাদ। এই আশাবাদ অন্ধ বিশ্বাস নয় যে সবকিছু ভালোই হবে। বরং এটি সেই উপলব্ধি যে ভুল হবে, ব্যর্থতা আসবে, নেতৃত্বও কখনো কখনো প্রত্যাশা পূরণ করবে না। তবু একটি স্বাধীন সমাজের বিশেষত্ব হলো, সেখানে আবার শুরু করার সুযোগ থাকে। নিজেকে সংশোধন করার ক্ষমতাই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

অন্ধকার সময়ে তাই স্বাধীনতার আলো নিভে যায় না। সেটি টিকে থাকে মানুষের বিবেক, আত্মসংযম, যুক্তিবোধ এবং ভবিষ্যতের প্রতি আস্থার ভেতর। যতদিন সেই মূল্যবোধ জীবিত থাকবে, ততদিন স্বাধীনতাও কেবল একটি রাজনৈতিক শব্দ হয়ে থাকবে না; বরং একটি চলমান নাগরিক প্রতিশ্রুতি হিসেবে বেঁচে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার টন গম কিনছে সরকার, ব্যয় ১,০৫২ কোটি টাকা

অন্ধকার সময়েও স্বাধীনতার আলো নিভে যায় না

০৫:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

স্বাধীনতা কেবল একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা নয়; এটি মূলত একটি মানসিক ও নৈতিক অভ্যাস। সংবিধান, আদালত কিংবা নির্বাচনী প্রক্রিয়া একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের কাঠামো গড়ে দিতে পারে, কিন্তু সেই রাষ্ট্রকে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন রাখে নাগরিকদের চরিত্র, নেতৃত্বের সততা এবং ভিন্নমতকে সম্মান করার সংস্কৃতি। ইতিহাসের প্রতিটি সন্ধিক্ষণ আমাদের এই সত্যের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

একটি দেশের ২৫০ বছরের যাত্রাপথ উদযাপনের আগে সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন হওয়া উচিত—আমরা কতটা শক্তিশালী হয়েছি, তা নয়; বরং স্বাধীনতার মূল্যবোধকে কতটা অক্ষুণ্ন রাখতে পেরেছি। কারণ কোনো জাতির প্রকৃত শক্তি তার সামরিক ক্ষমতা বা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়। সেই শক্তি নির্ভর করে তার গণতান্ত্রিক চর্চা, আত্মসমালোচনার ক্ষমতা এবং নাগরিকদের নৈতিক সাহসের ওপর।

এই কারণেই রাষ্ট্রনেতার চরিত্র এত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতা যত বড় হয়, সংযমের প্রয়োজনও তত বেড়ে যায়। একজন নেতা যদি ব্যক্তিগত অহংকারকে রাষ্ট্রের মর্যাদার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন, যদি আইনকে নিজের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করেন অথবা রাজনৈতিক নাটককে বাস্তব নেতৃত্বের বিকল্প মনে করেন, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে। নেতৃত্বের আসল পরিচয় ক্ষমতার প্রদর্শনে নয়; বরং ক্ষমতার সীমা মেনে চলার মধ্যেই।

একইভাবে নাগরিকদেরও নিজেদের সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নিতে হয়। গণতন্ত্রে ভোট দেওয়ার অধিকার যেমন মূল্যবান, তেমনি সেই সিদ্ধান্তের ফলও নিজের বলে মেনে নেওয়া জরুরি। প্রতিটি ব্যর্থতার জন্য অন্যকে দোষারোপ করা কিংবা নিজেকে চিরকাল ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করা স্বাধীন সমাজের বৈশিষ্ট্য নয়। একটি পরিণত গণতন্ত্রে স্বাধীনতার সঙ্গে জবাবদিহিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাসের প্রতিও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত ভারসাম্যপূর্ণ। অতীতকে অন্ধভাবে মহিমান্বিত করাও যেমন ভুল, তেমনি শুধুমাত্র বর্তমানের মানদণ্ডে দাঁড়িয়ে অতীতের সব অর্জনকে অস্বীকার করাও সমান ক্ষতিকর। একটি জাতি তার ইতিহাসের সফলতা ও সীমাবদ্ধতা—দুই থেকেই শিক্ষা নেয়। প্রতিষ্ঠাতাদের অবদানকে স্বীকার করেও তাদের ভুল নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব। গণতন্ত্রের শক্তি এখানেই যে, এটি নিজেকে সংশোধনের সুযোগ তৈরি করে।

একটি মুক্ত সমাজ স্বভাবতই উন্মুক্ত হয়। নতুন মানুষ, নতুন ধারণা এবং নতুন প্রতিযোগিতাকে ভয় পেলে সেই সমাজ ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে পড়ে। উন্মুক্ততা মানে নিজের বিশ্বাস বিসর্জন দেওয়া নয়; বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অন্যের মতামত শুনতে পারা। যে সমাজ নতুন চিন্তাকে স্বাগত জানায়, সৃজনশীলতাকে উৎসাহ দেয় এবং উদ্যোগকে মূল্য দেয়, সেই সমাজই দীর্ঘমেয়াদে সমৃদ্ধ হয়।

5,444 Freedom Release Stock Photos - Free & Royalty-Free Stock Photos from  Dreamstime

বিশ্ব রাজনীতির ক্ষেত্রেও স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ানো মানে শুধু শত্রুর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া নয়; বরং বন্ধুদের সম্মান করা এবং নীতিকে শক্তির চেয়ে বড় মনে করা। আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব কেবল সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় না। বিশ্বাসযোগ্যতা, ধারাবাহিকতা এবং নৈতিক অবস্থানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যে রাষ্ট্র স্বাধীনতার আদর্শকে ধারণ করে, বিশ্বের নিপীড়িত মানুষ প্রায়ই সেই রাষ্ট্রের দিকেই আশার চোখে তাকায়।

দেশের ভেতরেও স্বাধীনতার জন্য সমান সতর্কতা প্রয়োজন। গণতন্ত্রের জন্য হুমকি কেবল সহিংস উগ্রবাদ বা অস্ত্রধারী গোষ্ঠী নয়। মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা, ভিন্নমতকে চুপ করিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি এবং আদর্শগত শুদ্ধতার নামে চিন্তার ওপর চাপও স্বাধীনতার জন্য সমান বিপজ্জনক। বাকস্বাধীনতার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু গ্রহণযোগ্য মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা নয়; বরং ভুল, অজনপ্রিয় কিংবা বিতর্কিত মত প্রকাশের সুযোগও রক্ষা করা। কারণ সত্যের অনুসন্ধান কখনো একরৈখিক নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়, সংবাদমাধ্যম এবং অন্যান্য জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বও এখানেই। তাদের কাজ কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রচার করা নয়; বরং প্রশ্ন করার অভ্যাস তৈরি করা, যুক্তির পরীক্ষা নেওয়া এবং স্বাধীন অনুসন্ধানের পরিবেশ বজায় রাখা। বৌদ্ধিক স্বাধীনতা হারালে রাজনৈতিক স্বাধীনতাও দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

জাতীয় পরিচয়ও কেবল অতীতের উত্তরাধিকার দিয়ে নির্ধারিত হতে পারে না। একজন মানুষ কোথা থেকে এসেছে, তার পূর্বপুরুষদের ইতিহাস কী ছিল—এসব গুরুত্বপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত একটি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যায় ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষা। স্বাধীন সমাজ মানুষের সামনে নিজের ভাগ্য নিজে গড়ার সুযোগ তৈরি করে। সেই সম্ভাবনাই জাতীয় পরিচয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।

সবশেষে স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আশাবাদ। এই আশাবাদ অন্ধ বিশ্বাস নয় যে সবকিছু ভালোই হবে। বরং এটি সেই উপলব্ধি যে ভুল হবে, ব্যর্থতা আসবে, নেতৃত্বও কখনো কখনো প্রত্যাশা পূরণ করবে না। তবু একটি স্বাধীন সমাজের বিশেষত্ব হলো, সেখানে আবার শুরু করার সুযোগ থাকে। নিজেকে সংশোধন করার ক্ষমতাই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

অন্ধকার সময়ে তাই স্বাধীনতার আলো নিভে যায় না। সেটি টিকে থাকে মানুষের বিবেক, আত্মসংযম, যুক্তিবোধ এবং ভবিষ্যতের প্রতি আস্থার ভেতর। যতদিন সেই মূল্যবোধ জীবিত থাকবে, ততদিন স্বাধীনতাও কেবল একটি রাজনৈতিক শব্দ হয়ে থাকবে না; বরং একটি চলমান নাগরিক প্রতিশ্রুতি হিসেবে বেঁচে থাকবে।