‘আগে একেক বোর্ডে একেক রকম প্রশ্নপত্র হতো। যেটা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে আগের বছর এসেছিল, সেটা এবার আসবে না ধরেই পড়াশোনা করতো শিক্ষার্থীরা। এবার যেহেতু সব বোর্ডে একই রকম প্রশ্নপত্র, সেজন্য কতগুলো প্রশ্ন কমন পড়বে; তা নিয়ে ভয়ে ছিল মেয়েটা। জানি না কেমন প্রশ্ন হয়েছে…।’
কথাগুলো বলছিলেন রাবেয়া আক্তার নামের একজন অভিভাবক। তিনি একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। মেয়ের পরীক্ষা থাকায় আজ ছুটি নিয়ে সঙ্গে এসেছেন।

রাবেয়া আক্তারের মেয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিচ্ছেন। মেয়েকে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশ করিয়ে দিয়ে ফুটপাতে বসেছেন তিনি। চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ।
আরামবাগ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রীদেরও কেন্দ্রটিতে সিট পড়েছে।
কলেজটির এক ছাত্রীর অভিভাবক আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশ্ন কমন নিয়ে এবার দ্বিধায় আছে ছাত্র-ছাত্রীরা। ওরা আগে পড়তো যেভাবে, সেটা হলো- ২০২৫ সালে ঢাকা বোর্ডে যে যে প্রশ্ন এসেছে, সেটা ২০২৬ সালে আসবে না। এবার যেহেতু একই প্রশ্ন ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, কুমিল্লাসহ সব বোর্ডে থাকবে, সেহেতু ওই নিয়মে আর প্রশ্ন হবে না। সেজন্য একটু ঝামেলা আছে।’

শুধু অভিভাবক নয়, পরীক্ষার্থীরাও অভিন্ন বা একক প্রশ্নপত্র নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। কেন্দ্রে প্রবেশের আগে শেষ সময়ে বইয়ে চোখ বুলিয়ে নিতে নিতে ভিকারুননিসার ছাত্র আফরা মেহজাবিন জানান, সব পড়ছি। কোনোটা বাদ দিচ্ছি না। কারণ সব বোর্ডে একই প্রশ্ন হবে। বাদ দিয়ে পড়লে ধরা খেতে পারি।
সার্বিক দিক মাথায় রেখে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সব বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

জানতে চাইলে বুধবার (১ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন জাগো নিউজকে বলেন, ‘একেক বোর্ডে একেক রকম প্রশ্ন হলে ফলাফলে বৈষম্য থাকে। শিক্ষার্থীরাও বৈষম্যের শিকার হয়। কারণ তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় জিপিএর ওপর নম্বর থাকে। তাহলে যশোর বোর্ডে কোনো সাবজেক্টের প্রশ্ন যদি তুলনামূলক সহজ হয়, আর চট্টগ্রাম বোর্ডে যদি কঠিন হয়, সেক্ষেত্রে চট্টগ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা ওই বিষয়ে খারাপ করতে পারে; কম নম্বর পেতে পারে। এতে ভর্তি পরীক্ষা বসার আগেই তো জিপিএর নম্বরের দিক থেকে চট্টগ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা পিছিয়ে পড়বে। এটা তো বৈষম্য।’
সূত্রঃ জাগো নিউজ২৪
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















