মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত ইরানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শক্তি সম্পর্কে নতুন করে উপলব্ধি করিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক কূটনীতিক রাজীব সিক্রি। তার মতে, হরমুজ প্রণালী এখন ইরানের হাতে একটি বড় কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণ হয়নি
রাজীব সিক্রি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র যে লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছিল, তার কোনোটিই পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। সরকার পরিবর্তন কিংবা ইরানের পারমাণবিক ইস্যু—কোনো ক্ষেত্রেই ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ প্রয়োগ করেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। দীর্ঘ সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি তৈরি হয়, কারণ সামরিক অভিযানের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কৌশলগত সুবিধা
রাজীব সিক্রি মনে করেন, এই সংঘাতের মাধ্যমে ইরান বুঝতে পেরেছে যে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তারা আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালীতে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ইরানের এই অবস্থান দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতের গভীরতা
সাবেক এই কূটনীতিকের মতে, ইসরায়েল ইরানকে নিজেদের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে। অন্যদিকে ইরানের জন্য বিষয়টি ছিল টিকে থাকার লড়াই।
তিনি বলেন, ইরানের মতো একটি আঞ্চলিক শক্তিকে পরাজিত করতে না পারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও বিব্রতকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাশিয়ার অবস্থান ও ইরানের ভবিষ্যৎ
রাজীব সিক্রি জানান, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইরানের স্থিতিশীলতা রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইরানে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব রাশিয়ার ওপরও পড়তে পারে।
তার মতে, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে মস্কো ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা দিতে পারে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় রুশ নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভের উপস্থিতিকে তিনি রাশিয়ার সমর্থনের একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক ভারতের দৃষ্টি
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে রাজীব সিক্রি বলেন, বর্তমান সরকার আগের কিছু বিতর্কিত ও ভারতবিরোধী নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেনি। এ কারণে ভারতের পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখা প্রয়োজন।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় অতীতের মতো নতুন কোনো কৌশলগত সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, তা ভারতকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















