পদ্মা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া লঞ্চ টার্মিনালের পন্টুনে যাওয়ার সংযোগ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জরুরি ভিত্তিতে টার্মিনালের পন্টুন উঁচু স্থানে স্থানান্তরের কাজ শুরু করেছে।
পানি বাড়ায় ব্যাহত যাত্রী চলাচল
পাটুরিয়া লঞ্চ টার্মিনালের সুপারভাইজার পান্না লাল জানান, শনিবার ভোর থেকেই টার্মিনাল এলাকায় পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করে। দুপুর নাগাদ পানির উচ্চতা এতটাই বেড়ে যায় যে পন্টুনে যাওয়ার সংযোগ সড়ক ডুবে যায়। ফলে যাত্রীদের লঞ্চে ওঠা-নামা কঠিন হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে বিআইডব্লিউটিএ প্রথমে ডুবে যাওয়া সড়কে বালুর বস্তা ফেলে যাত্রী চলাচলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করে। কিন্তু বিকেলের মধ্যে সেই বস্তাগুলোও পানির নিচে চলে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ফেরিমুখী যাত্রীরা
সংযোগ সড়ক ডুবে যাওয়ার কারণে অনেক যাত্রী লঞ্চে যাতায়াত বাদ দিয়ে বিকল্প হিসেবে ফেরি ব্যবহার করতে বাধ্য হন। এতে যাত্রাপথ দীর্ঘ হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত সময় ও খরচ গুনতে হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
নিয়মিত লঞ্চে চলাচলকারী যাত্রীরা বলেন, টার্মিনালে স্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করা সম্ভব না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ফেরিতে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি যাত্রা ব্যয়ও বেড়ে গেছে।
পন্টুন সরানোর কাজ চলছে
পরিস্থিতির কারণে শনিবার বিকেলে পন্টুন স্থানান্তরের কাজ শুরু করতে সাময়িকভাবে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, পদ্মার পানি অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায় যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, কোরোইতলা এলাকায় ইতোমধ্যে একটি নতুন পন্টুন স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে আরও দুটি পন্টুন বসানোর কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, তিনটি পন্টুন স্থাপন সম্পন্ন হলে পুরো লঞ্চ টার্মিনাল কোরোইতলা এলাকায় স্থানান্তর করা হবে। এই স্থানান্তর কার্যক্রম শেষ হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।
অস্থায়ী এই ব্যবস্থা সম্পন্ন হলে যাত্রীদের স্বাভাবিকভাবে লঞ্চে ওঠানামা এবং নৌপথে যাতায়াত পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন।
পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে পাটুরিয়া লঞ্চ টার্মিনালের সংযোগ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। পন্টুন স্থানান্তরের কাজ শেষ হতে আরও দুই থেকে তিন দিন লাগতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















