করাচিতে একটি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া এইচআইভি সংক্রমণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালের ৩৭ কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা
সিন্ধু সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৭৮ শিশু এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে। তবে তদন্ত ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলমান থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে হাসপাতালটির আশপাশের এলাকায় প্রায় ১০ হাজার ৫০০ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২০ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, আক্রান্ত সবাই যে হাসপাতাল থেকেই সংক্রমিত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
চিকিৎসা ও তদন্ত একসঙ্গে চলছে
সংক্রমিত শিশুদের চিকিৎসা বিভিন্ন হাসপাতালে অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে আক্রান্তদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি অভিন্ন তথ্যফরম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংক্রমণের প্রকৃত উৎস ও বিস্তারের পরিধি নির্ধারণে কাজ চলছে।
কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা
ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৩৭ কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১০ কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যাতে পুরো ঘটনার সব দিক আরও বিস্তারিতভাবে যাচাই করা যায়।
পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস
সরকার জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা কোনো অবস্থাতেই বন্ধ করা হবে না। পাশাপাশি আক্রান্তদের ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে, যাতে তাদের পরিবার সামাজিক সমস্যার মুখে না পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থেকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর হাসপাতালের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই তথ্য প্রকাশের সময় পর্যন্ত তদন্ত চলমান রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে আক্রান্তের সংখ্যা বা প্রশাসনিক পদক্ষেপে পরিবর্তন আসতে পারে।
করাচির ভ্যালিকা হাসপাতালে এইচআইভি সংক্রমণে ৬ শিশুর মৃত্যু। তদন্তে ৩৭ কর্মী বরখাস্ত, চিকিৎসা ও অনুসন্ধান একসঙ্গে চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















