০৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
ইরানের চাবাহার বন্দরে হামলা, ধ্বংস হলো নজরদারি টাওয়ার শাইখ জায়েদ হাসপাতাল বন্ধের মুখে, চিকিৎসাসেবায় বড় সংকট ইসরোর বিজ্ঞানীদের পদত্যাগ ঠেকাতে নতুন নির্দেশ, গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ প্রকল্পে সতর্ক ভারত ১৫ বছর পরও হৃদয়ে অমলিন হৃতিক, ‘জিন্দেগি না মিলেগি দুবারা’র স্মৃতিতে আবেগঘন বার্তা মার্কোসের চার বছরে ঋণ ৯ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন পেসো, চার দশকের রেকর্ড বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, সন্দেহভাজন রোগী ছাড়াল ১ লাখ ১৬ হাজার যুদ্ধের মধ্যেও যুদ্ধের মধ্যেও ঘর ছাড়েননি লেবাননের মানুষ, জমি রক্ষায় অবিচল দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা ত্রাণ বিতরণে মঞ্চ ধস: অর্থমন্ত্রী আমীর খসরুসহ শীর্ষ নেতারা পড়ে গেলেও প্রাণহানি নেই ‘প্রতাপ ডুবিল, শৈবালিনী ডুবিল না’—বঙ্কিমচন্দ্রের সেই পঙ্‌ক্তির যেন বাস্তব প্রতিধ্বনি যমুনা সেতুতে মন্ত্রী বদল নয়, শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্জাগরণই হওয়া উচিত

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণ ঘিরে ধোঁয়াশা, দায় নিচ্ছে না কোনো কর্তৃপক্ষ

ঝিনাইদহ জেলা শহরের প্রবেশমুখে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্য কয়েক দিন ধরে ভেঙে অপসারণ করা হচ্ছে। তবে এই কাজ কার নির্দেশে বা কোন সংস্থার তত্ত্বাবধানে চলছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে যা দেখা গেছে

ঘটনাস্থলে দেখা যায়, শ্রমিকরা চত্বরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলছেন। তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, এ বিষয়ে জানতে হলে সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে মিলছে না স্পষ্ট ব্যাখ্যা

ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান বলেন, কেন ভাস্কর্যটি ভাঙা হচ্ছে, সে বিষয়ে তার জানা নেই। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ব্যাখ্যা দিতে পারবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসন ভাস্কর্যটি ভাঙার কাজ করছে না। তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ভাস্কর্যটি ওই স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং সম্ভবত সড়ক বিভাগ ও পৌরসভা সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, জেলা পুলিশ লাইনসের সামনে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি প্রতিকৃতি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমানও বলেন, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে ভাস্কর্য ও চত্বর অপসারণের কাজ কারা করছে, তা তার জানা নেই।

আগে হয়েছিল ভাঙচুর, পরে সরানোর সিদ্ধান্ত

জেলা পরিষদের প্রশাসক এম মাজিদ জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা দুই দফায় ভাস্কর্যটিতে ভাঙচুর চালিয়েছিল। এছাড়া এলাকাটিতে এটি সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিভিন্ন সভায় ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তবে ভাঙার দায়িত্ব নিতে কেউ রাজি ছিলেন না। বর্তমানে কারা কাজটি করছে, সেটিও তার জানা নেই বলে জানান তিনি।

এদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ মাজিদ বলেন, ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন গোলচত্বরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা 'বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে' অসম্মান প্রদর্শনের শামিল,  দাবি পরিবারের

অসমাপ্ত প্রকল্পের পরিণতি

২০১৯ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থাপনাটি ৩০ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট প্রস্থের হওয়ার কথা ছিল। তবে দীর্ঘদিনেও এটি পরিকল্পিত রূপ পায়নি। সময়ের সঙ্গে অবহেলায় চত্বরটি আগাছায় ঢেকে যায়।

স্থানীয়দের উদ্বেগ

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের প্রবেশমুখে স্থানীয় ইতিহাস ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে ভাস্কর্য বা স্মৃতিস্তম্ভ থাকে। ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে নির্মিত চত্বরটি জেলার গর্বের প্রতীক ছিল। এখন সেটি ভেঙে ফেলা হলেও কারণ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ কিছুই জানেন না।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান শুধু ঝিনাইদহ নয়, পুরো বাংলাদেশের গর্ব। তার নামে একটি চত্বর নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও তার আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিত। জেলার প্রবেশমুখে এমন একটি স্মারক থাকলে আগত দর্শনার্থীরাও তার অবদান সম্পর্কে জানতে পারতেন।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ছিলেন ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন সিপাহী। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের ধলাই সীমান্তঘাঁটি দখলের যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে তিনি শহীদ হন। ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করা হয়।

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণ নিয়ে প্রশাসনের ভিন্নমুখী বক্তব্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। স্থানীয়দের প্রশ্ন, কার নির্দেশে চলছে এই কাজ?

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের চাবাহার বন্দরে হামলা, ধ্বংস হলো নজরদারি টাওয়ার

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণ ঘিরে ধোঁয়াশা, দায় নিচ্ছে না কোনো কর্তৃপক্ষ

০৭:০৭:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ঝিনাইদহ জেলা শহরের প্রবেশমুখে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্য কয়েক দিন ধরে ভেঙে অপসারণ করা হচ্ছে। তবে এই কাজ কার নির্দেশে বা কোন সংস্থার তত্ত্বাবধানে চলছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে যা দেখা গেছে

ঘটনাস্থলে দেখা যায়, শ্রমিকরা চত্বরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলছেন। তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, এ বিষয়ে জানতে হলে সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে মিলছে না স্পষ্ট ব্যাখ্যা

ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান বলেন, কেন ভাস্কর্যটি ভাঙা হচ্ছে, সে বিষয়ে তার জানা নেই। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ব্যাখ্যা দিতে পারবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসন ভাস্কর্যটি ভাঙার কাজ করছে না। তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ভাস্কর্যটি ওই স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং সম্ভবত সড়ক বিভাগ ও পৌরসভা সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, জেলা পুলিশ লাইনসের সামনে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি প্রতিকৃতি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমানও বলেন, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে ভাস্কর্য ও চত্বর অপসারণের কাজ কারা করছে, তা তার জানা নেই।

আগে হয়েছিল ভাঙচুর, পরে সরানোর সিদ্ধান্ত

জেলা পরিষদের প্রশাসক এম মাজিদ জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা দুই দফায় ভাস্কর্যটিতে ভাঙচুর চালিয়েছিল। এছাড়া এলাকাটিতে এটি সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিভিন্ন সভায় ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তবে ভাঙার দায়িত্ব নিতে কেউ রাজি ছিলেন না। বর্তমানে কারা কাজটি করছে, সেটিও তার জানা নেই বলে জানান তিনি।

এদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ মাজিদ বলেন, ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন গোলচত্বরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা 'বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে' অসম্মান প্রদর্শনের শামিল,  দাবি পরিবারের

অসমাপ্ত প্রকল্পের পরিণতি

২০১৯ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থাপনাটি ৩০ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট প্রস্থের হওয়ার কথা ছিল। তবে দীর্ঘদিনেও এটি পরিকল্পিত রূপ পায়নি। সময়ের সঙ্গে অবহেলায় চত্বরটি আগাছায় ঢেকে যায়।

স্থানীয়দের উদ্বেগ

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের প্রবেশমুখে স্থানীয় ইতিহাস ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে ভাস্কর্য বা স্মৃতিস্তম্ভ থাকে। ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে নির্মিত চত্বরটি জেলার গর্বের প্রতীক ছিল। এখন সেটি ভেঙে ফেলা হলেও কারণ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ কিছুই জানেন না।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান শুধু ঝিনাইদহ নয়, পুরো বাংলাদেশের গর্ব। তার নামে একটি চত্বর নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও তার আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিত। জেলার প্রবেশমুখে এমন একটি স্মারক থাকলে আগত দর্শনার্থীরাও তার অবদান সম্পর্কে জানতে পারতেন।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ছিলেন ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন সিপাহী। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের ধলাই সীমান্তঘাঁটি দখলের যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে তিনি শহীদ হন। ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করা হয়।

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণ নিয়ে প্রশাসনের ভিন্নমুখী বক্তব্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। স্থানীয়দের প্রশ্ন, কার নির্দেশে চলছে এই কাজ?