ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কর্মরত বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের পদত্যাগ ও স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে নতুন নির্দেশ জারি করেছে মহাকাশ দপ্তর। একের পর এক পদত্যাগের আবেদন জমা পড়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মহাকাশ দপ্তরের নতুন নির্দেশ
মহাকাশ দপ্তর ইসরোর বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানো এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যুক্ত বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিগত কর্মীদের পদত্যাগ বা স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন নিয়মিতভাবে গ্রহণ করা যাবে না। এসব আবেদন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য দপ্তরে পাঠাতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের পরিচালকের স্পষ্ট মতামত দিতে হবে।
বিশেষ করে ভারতের প্রথম মানববাহী মহাকাশ অভিযান গগনযানসহ জাতীয় গুরুত্বের বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আরও কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীর পদত্যাগের আবেদন
সারাক্ষণ রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ইসরোর বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে শতাধিক বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী পদত্যাগের আবেদন করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বেঙ্গালুরুর একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে বহু বিজ্ঞানীর চলে যাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। কেরালার আরেকটি বড় মহাকাশ কেন্দ্র থেকেও বেশ কয়েকজন কর্মীর পদত্যাগের আবেদন জমা পড়েছে।
)
এই পরিস্থিতিতে মহাকাশ দপ্তর মনে করছে, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ যাতে হঠাৎ ব্যাহত না হয়, সে জন্য কর্মীদের ধরে রাখা প্রয়োজন।
প্রকল্পের ধারাবাহিকতা নিয়ে ইসরোর অবস্থান
ইসরোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের পরিবর্তন স্বাভাবিক বিষয় হলেও বড় প্রকল্পগুলোর কাজ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দায়িত্ব অন্য কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
গগনযানসহ ভারতের ভবিষ্যৎ মহাকাশ পরিকল্পনায় দক্ষ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কর্মীদের ধরে রাখা এবং প্রকল্পের গতি বজায় রাখাকে এখন বড় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরোর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশ গবেষণার মতো উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ কর্মীদের ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে ইসরো একদিকে কর্মীদের পরিবর্তনের বিষয়টি সামলাতে চাইছে, অন্যদিকে বড় প্রকল্পগুলোর নিরবচ্ছিন্ন অগ্রগতিও নিশ্চিত করতে চাইছে।
ইসরোতে বিজ্ঞানীদের পদত্যাগ ঠেকাতে মহাকাশ দপ্তরের নতুন নির্দেশ, গগনযানসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কর্মী ধরে রাখার উদ্যোগ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















